
এই বছরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এসেছিল একেবারে শেষ সময়ে। স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন মিশন শুরু হওয়ার পর ইউআইইউ মার্স রোভার দল টের পায়, আইএমইউ (ইন্টারনাল মেজারমেন্ট ইউনিট, যা রোভারের অবস্থান আর দিকনির্ণয় করে) কাজ করছে না। হোটেল থেকে ফিল্ডের দূরত্ব প্রায় ৭০ মাইল, রাস্তাও ভাঙাচোরা। যাওয়ার পথেই হয়তো কোনোভাবে আইএমইউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
সমস্যা বুঝে নতুন আইএমইউ লাগিয়ে, নতুন করে প্রোগ্রাম করতে চলে যায় ১৫ মিনিট। হাতে বাকি তখন মাত্র ২৫ মিনিট। তারপর শুরু হয় মিশন। রোভারকে কোনো মানুষের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই মরুভূমির ভেতর নিজে নিজে পথ খুঁজতে হবে, বাধা এড়াতে হবে, নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে হবে—সব সিদ্ধান্ত রোভারের নিজের।
একে একে সব ধাপ সামলেছে অরিয়ন। সময় শেষ হওয়ার চার সেকেন্ড আগেই এটি চূড়ান্ত লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে। উপস্থিত সবাই তো বটেই, বিচারকেরাও অবাক—এত কম সময়ে এটা কীভাবে সম্ভব! সাতটি লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছয়টিতে পৌঁছে সর্বোচ্চ ৮৪ নম্বর পেয়ে অরিয়ন জিতেছে ‘বেস্ট অটোনমাস সিস্টেম’ পুরস্কার।
সিনিয়র লিডার মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আমরা সবাই লাফিয়ে উঠি। এত মানুষের পরিশ্রম, ত্যাগ আর অপেক্ষা—সবকিছু যেন এক ঘোষণাতেই সার্থক হয়ে গেল।’
তৃতীয় হওয়ায় কি দলটি সন্তুষ্ট? উত্তর সহজ নয়। পরীক্ষার মধ্যে, উৎসবের দিনেও, রাতের পর রাত জেগে ল্যাব ছাড়েননি তাঁরা। একেকটি ভুল সংশোধন করে, একে একে সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে এই অর্জন শিক্ষার্থীদের কাছে গর্বের বটে, তবে স্বপ্নটা আরও বড়। দলের মেন্টর আবিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা আমাদের সেরাটা দিয়েছি। তবে এখানেই থামতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য একটাই, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া।’