
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রবণতা বাড়ার পেছনে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত প্রস্তুতির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার পরিবেশ ও তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গবেষণাপত্র প্রকাশের হারও আগের চেয়ে বেড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও প্রকাশনা সেলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে গবেষণা তথ্যভান্ডার স্কোপাসে অন্তর্ভুক্ত গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে ৬১৫টি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। স্কোপাসের চূড়ান্ত হিসাব সম্পন্ন হলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সংখ্যাটা ৭০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২০২৪ সালে স্কোপাসে অন্তর্ভুক্ত গবেষণাপত্রের সংখ্যা ছিল ৫৯৪। আর ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ছিল ১১৬। অর্থাৎ ছয় বছরে গবেষণাপত্র প্রকাশ বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ।
সিইউআরএইচএসের সভাপতি দিদারুল ইসলাম বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটের প্রসারের ফলে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা আগের তুলনায় অনেক সহজে তথ্য পাচ্ছেন। পাশাপাশি সিইউআরএইচএসসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গবেষণাবান্ধব সংগঠন আইইএলটিএস, জিআরই, গবেষণা এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে নিয়মিত কর্মশালা আয়োজন করছে। ফলে উচ্চশিক্ষা-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য আরও সহজে ও বিস্তৃতভাবে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। এমনকি অনেক শিক্ষকও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার সংস্কৃতি পরিবর্তনে এক ধরনের বিপ্লব আমরা প্রত্যক্ষ করছি।’
উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও ফুলব্রাইট স্কলার খাদিজা মিতু বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনার আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আগের তুলনায় নারীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার বাধাগুলো কিছুটা কমেছে। তবে এখনো অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে।’ বাংলাদেশে মাধ্যমিক পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষার পরিবেশ ভালো হলেও উচ্চশিক্ষা ও পিএইচডি পর্যায়ে এসে অনেকে বিয়ে ও পারিবারিক দায়িত্বের কারণে পিছিয়ে পড়েন বলে মনে করেন তিনি।
গবেষণার সুযোগ বাড়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সিইউআরএইচএসের ডেপুটি মডারেটর ও তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের সভাপতি কাজী তানভীর আহম্মদ। তিনি বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে শিক্ষার্থীদের গবেষণার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। গবেষণা সেলের প্রকল্প, বিভিন্ন স্কলারশিপ ও ফেলোশিপ, তরুণ শিক্ষকদের গবেষণা এবং ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি মাস্টার্স, এমফিল ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের গবেষণা ভাতা দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ভর্তুকি হিসেবে কাজ করছে।’
তবে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও জীববিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় ল্যাবের জন্য আরও অর্থায়ন প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, এসব ক্ষেত্রে আরও অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
কথা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-আমীনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বিদেশে উচ্চশিক্ষায় নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগেই এগোচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হলো তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে একটি আন্তর্জাতিক অফিস চালু হয়েছে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় ও যৌথ গবেষণার সুযোগ তৈরির কাজ চলছে।’