
স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার নিতে দেশটির ওবিয়েদো শহরে পৌঁছেছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে একনজর দেখতে সেখানে ভিড় জমিয়েছেন তার ভক্তরা। তাদের সঙ্গে সময়ও কাটিয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী এই ফরোয়ার্ড।
হাজারো ভক্তের উল্লাস আর করতালির মধ্যে বৃহস্পতিবার ওবিয়েদোয় পৌঁছান লিওনেল মেসি। সেখানে ক্রীড়া বিভাগে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার গ্রহণ করবেন তিনি। স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জোকে সঙ্গে নিয়ে ওবেইদোয় আসা ইন্টার মায়ামির ফুটবলারকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
সকাল সাতটার দিকে সেখানে পৌঁছে হোটেল দে লা রেকনকিস্তায় ওঠেন মেসি। কিছুক্ষণের মধ্যেই হোটেলের প্রধান প্রবেশপথ ভরে যায় ভক্ত ও সাংবাদিকদের ভিড়ে। কক্ষে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর কালো রঙের আনুষ্ঠানিক পোশাক পরে বাইরে বেরিয়ে আসেন মেসি। ভক্তদের ভালোবাসা কাছ থেকে অনুভব করতে এগিয়ে যান সীমানাবেষ্টনীর কাছে।
ভক্তদের সঙ্গে ছবি তুলতে শুরু করেন মেসি। আর্জেন্টিনা জাতীয় দল ও বার্সেলোনার জার্সি, পতাকাসহ নানা জিনিসে অটোগ্রাফ দেন তিনি। ভক্তদের থেকে অনেক উপহারও পেয়েছেন এই ফুটবল জাদুকর। এর মধ্যে ছিল আর্জেন্টিনার মিষ্টি ও কর্নস্টার্চ দিয়ে তৈরি আলফাখোরেস নামের বিশেষ বিস্কুটের একটি ট্রে।
শহরের কেউই মেসিকে দেখার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি। টিওয়াইসি তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, মেসিকে কাছ থেকে দেখার জন্য যেন কাজে যেতে না হয়, সেজন্য ইচ্ছা করে নিজের হাতে কেটেছেন এক তরুণ।
দিনের কর্মসূচিতে আরও রয়েছে স্পোর্টস প্যালেসে শিক্ষার্থী শিশু-কিশোরদের সঙ্গে মতবিনিময়। সন্ধ্যায় স্পেনের রাজা ও রানির পাশাপাশি পুরস্কারের অন্য বিজয়ীদের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেবেন মেসি।
শুক্রবারও ব্যস্ত সময় কাটবে তার। হোটেলে পুরস্কারের অন্য বিজয়ীদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তিনি। সেখানে আস্তুরিয়াসের রাজকুমারী লিওনর দে বোরবন ই ওর্তিথ তাকে স্মারক পিন উপহার দেবেন।
বিকালে ওবেইদোর কাম্পোয়ামোর থিয়েটারে আনুষ্ঠানিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন মেসি। বর্ণাঢ্য ক্রীড়া ক্যারিয়ারের পাশাপাশি বিশ্বের সবচেয়ে অসহায় শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তার অঙ্গীকারের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।
এই সম্মাননা পাবেন ভেবেই ভালো লাগছে মেসির। বিশেষ করে, তার বাবা হোর্হে মেসির জন্য, যিনি কয়েক মাস আগে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে গেছেন।
“সত্যি বলতে, আমি খুব খুশি। আসলে, এই পুরস্কার নিয়ে আমার বাবা খুবই রোমাঞ্চিত ছিলেন। আমার অনেক ম্যাচের কারণে এখানে আসা কঠিন হবে, সেটা আমরা জানতাম। কিন্তু বাবা বারবার জোর দিচ্ছিলেন, যেন আমরা আসি এবং আমি এখানে এসে এই কটা দিন কাটাই ও পুরস্কারটি গ্রহণ করি।
“একজন মানুষ মাঠে যা করে কিংবা পেশাদার ক্যারিয়ারে আমি যা করেছি, এই পুরস্কার তার চেয়েও বেশি কিছুর স্বীকৃতি। সত্যি বলতে, আমি এই স্বীকৃতি পেলে তিনি খুব খুশি হতেন। তাই আমি নিশ্চিত, তিনিও এখন এটি উপভোগ করছেন।”
অনুষ্ঠান শেষ করেই নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে বিমানে উঠবেন মেসি। সেখানে শনিবার মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) নিউ ইয়র্ক রেড বুলসের বিপক্ষে খেলবে মেসির ক্লাব ইন্টার মায়ামি।