
ধীরে খাওয়া, নিয়মিত হাঁটা, প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা বা চা পানের মতো ছোট ছোট রীতি জীবনকে করে তোলে গভীর ও সার্থক। এখানে এমন ১০টি জাপানি অভ্যাস তুলে ধরা হয়েছে, যা আমাদের জীবনকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও অর্থবহ করে তুলবে।
১. ধীরে খাওয়ার অভ্যাস
জাপানি খাদ্যসংস্কৃতির একটি প্রচলিত ধারা ‘হারা হাঁচি বু’। মানে ৮০ শতাংশ পেট ভরলেই খাওয়া থামিয়ে দেওয়া। শুরুতে আপনার মনে হতে পারে, এতে সম্পূর্ণ তৃপ্তি পাচ্ছেন না। কিন্তু বিশ্বাস করুন, এটি হজমের জন্য দারুণ সহায়ক। অতিরিক্ত খাওয়াও রোধ করে। দীর্ঘ মেয়াদে এ অভ্যাস ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
২. সকালের স্ট্রেচিং
জাপানে প্রতিদিন সকালে পার্ক বা অফিসে অনেককে একসঙ্গে হালকা ব্যায়াম বা স্ট্রেচিং করতে দেখা যায়। এই ব্যায়ামকে বলা হয় ‘রাজিও তাইসো’। ‘রাজিও’ মানে রেডিও আর ‘তাইসো’ মানে ব্যায়াম। অর্থাৎ স্ট্রেচিংটি রেডিওতে সকালে সম্প্রচার করা হয়। এটি খুবই অল্প সময়ের জন্য করা হয়। সহজ ও সংক্ষিপ্ত এই স্ট্রেচিং শরীর ও মনকে সকালের শুরুতেই সচল ও সজাগ করে তোলে। এটি শুধু শারীরিক ফিটনেসের জন্যই সহায়ক নয়, বরং শৃঙ্খলা ও সকালের উদ্যম বাড়াতেও কার্যকর।
৩. জীবনযাপনে মিনিমালিজম
জাপানি ঘরগুলো সাধারণত আয়তনে ছোট হলেও সেখানে থাকে পরিপাটি, শান্তিপূর্ণ ও খোলামেলা পরিবেশ। এর পেছনে আছে ‘দান শারি’। দান শারি একধরনের মিনিমালিস্ট জীবনদর্শন, যেখানে কেবল প্রয়োজনীয় ও অর্থবহ জিনিসপত্র রেখে অপ্রয়োজনীয় সবকিছু ছেঁটে ফেলা হয়। বসবাসের জিনিসপত্র, বিশেষ করে ওয়ার্ডরোব বা আলমারির প্রতিটি জিনিস ‘কনমারি মেথড’ অনুসরণ করে নির্দিষ্ট জায়গায় এমনভাবে সাজিয়ে রাখা হয়, যাতে সহজে খুঁজে পাওয়া যায়, কখনো অগোছালো না থাকে। অপ্রয়োজনীয় জিনিস বাদ দিয়ে ঘর গুছিয়ে রাখলে দৈনন্দিন জীবন অনেক বেশি সহজ, স্বস্তিদায়ক হয়ে ওঠে।