
এ বিষয়টি শুধু সাধারণ রোগের ক্ষেত্রে নয়, স্বাস্থ্যঝুঁকি, মহামারি এবং দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষেত্রেও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলের রোগের ধরন, পরিবেশ, জীবনযাপন, পেশা, খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ এক নয়। উপকূলীয় এলাকার স্বাস্থ্যঝুঁকি উত্তরাঞ্চলের মতো নয়। শহরের রোগপ্রবণতা এবং প্রত্যন্ত গ্রামের রোগপ্রবণতাও এক ধরনের নয়।
তাই শুধু জাতীয় গড়ের ওপর নির্ভর করলে স্থানীয় বৈষম্য ও বিশেষ স্বাস্থ্যঝুঁকি আড়ালে থেকে যায়। আঞ্চলিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে কোনো নির্দিষ্ট রোগের কারণ, বিস্তার ও প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে বেশি কার্যকর সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব। ফলে স্থানীয় তথ্য থেকে জাতীয় শিক্ষা গ্রহণ করার একটি কাঠামো আমাদের তৈরি করে নিতে হবে।
বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে অসংক্রামক রোগ বা এনসিডি নিয়ন্ত্রণে। হৃদ্রোগ, ক্যানসার, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির রোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগ বাংলাদেশে ক্রমে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়ে উঠছে। এসব রোগ এক দিনে সৃষ্টি হয় না এবং একবারের চিকিৎসায় শেষও হয় না। দীর্ঘ সময় ধরে একজন রোগীর স্বাস্থ্যগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
এনসিডির ক্ষেত্রে প্রতিটি তথ্যের বিশেষ মূল্য রয়েছে। একজন মানুষের বয়স, ওজন, রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা, পারিবারিক ইতিহাস, খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, পেশা, পরিবেশ, চিকিৎসা গ্রহণ এবং রোগের অগ্রগতির তথ্য দীর্ঘ মেয়াদে সংরক্ষণ করা গেলে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার সুযোগ তৈরি হয়। হাজার হাজার মানুষের এমন তথ্য বিশ্লেষণ করে আমরা জানতে পারি কোন জনগোষ্ঠী বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে এবং কোথায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।