
ইনস্টাগ্রামে দীর্ঘ এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, নিজের সম্পর্ক নিয়ে তিনি সুখী এবং বিজয়কে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বারবার নিতে রাজি। তাঁর কথায়, ‘আমি আমার মানুষটিকে ভীষণ ভালোবাসি। হাজারবারও যদি বিয়ে করতে হয়, করব।’
২১ অক্টোবর প্রচারিত ‘কফি উইথ করণ’–এর নবম মৌসুমের দ্বিতীয় পর্বে একসঙ্গে হাজির হয়েছিলেন রাশমিকা ও বিজয়। সেখানে তাঁদের বিয়ে নিয়ে কথোপকথনের একটি অংশ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
আজ ২৬ অক্টোবর ইনস্টাগ্রামে দেওয়া পোস্টে রাশমিকা বলেন, তাঁদের সাক্ষাৎকার নিয়ে মানুষের প্রতিক্রিয়া শুধু মতামত প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং মনে হয়েছে, অনেকে ক্ষোভ প্রকাশের জন্য কাউকে খুঁজছেন।
রাশমিকা জানান, সাধারণত মানুষের মতামতের জবাব দেন না তিনি। কারণ, প্রত্যেকের নিজস্ব মতপ্রকাশের অধিকার আছে। কিন্তু এবার তাঁর ও বিজয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে অনেকে অযাচিত মন্তব্য ও সম্পর্ক নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। বিষয়টি তাঁকে অবাক করেছে।
বিয়ে নিয়ে তাঁদের কথার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন রাশমিকা। তাঁর ভাষ্য, বিষয়টি কতবার বিয়ের কথা বলা হয়েছিল কিংবা কত বছর ধরে আলোচনা চলেছিল, তা নিয়ে ছিল না। বরং দুজনেরই সময় নিয়ে একে অপরকে বোঝা এবং জীবনের ভালো-মন্দ, আনন্দ ও চাপের মধ্যেও একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়াই ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
রাশমিকা বলেন, তিনি জানতেন কী চান। অন্যদিকে, বিজয় বিয়ের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জীবনের বাস্তব দিকগুলো ভেবে নিতে চেয়েছিলেন। তাঁদের এই পার্থক্য ভালোবাসায় কোনো প্রভাব ফেলেনি। শেষ পর্যন্ত তাঁরা দুজনই একে অপরকে বেছে নিয়েছেন।
যাঁরা রাশমিকাকে সম্পর্ক থেকে সরে আসার পরামর্শ দিয়েছেন, তাঁদের উদ্দেশেও কিছু কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম, কয়েক বছর আগে যখন তাঁদের জীবনে কঠিন সময় চলছিল, তখন এসব মানুষ পাশে ছিলেন না। কিন্তু বিজয় ছিলেন, এখনো আছেন। বিয়ের পর নিজেকে জীবনের সবচেয়ে সুখী সময়ের মধ্যে আছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া নানা দাবি, সম্পাদনা করা ভিডিও কিংবা বিভ্রান্তিকর বর্ণনাকে নিজের জীবনের সত্যের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, এমন মনোভাবেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাশমিকা। তাঁর মতে, নিজের জীবন সম্পর্কে তিনি কী বলছেন, সেটিকে বিশ্বাস না করে অনলাইনের নানা ধারণায় আস্থা রাখা অস্বস্তিকর।
পোস্টের শেষ দিকে নিজের কন্নড়ভাষী ভক্তদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অভিনেত্রী। এক দশক পরও যাঁরা তাঁকে ভালোবাসেন ও সমর্থন করেন, তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ভালোবাসা ও আনন্দ উদ্যাপন করার আহ্বান জানিয়ে অন্যদেরও নিজের জীবনে আনন্দ খুঁজে নিতে বলেছেন।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও হিন্দুস্তান টাইমস