
আদালতের নির্দেশে ইস্ট বেকারের কয়েকটি খাদ্যপণ্যের বিপণন বন্ধ রাখার যে নির্দেশনা বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ দিয়েছিল, শর্তসাপেক্ষে তা তুলে নেওয়া হয়েছে।
প্রিজারভেটিভসহ অন্যান্য উপাদানের মাত্রা অনুমোদিত সীমার মধ্যে রাখার পাশাপাশি অন্যান্য শর্ত পূরণ করে ইস্ট বেকারের পণ্য বিপণনে এখন কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকার জেলা খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম।
ইস্ট বেকার বলছে, তাদের ব্রেডের মান এবং তাতে প্রিজারভেটিভের ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হওয়ায় ভোক্তাদের সামনে ‘সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য’ তুলে ধরতে বিভিন্ন স্বীকৃত ল্যাবরেটরিতে পণ্যের নমুনা পরীক্ষা করিয়েছে তারা।
রাষ্ট্রীয় মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসটিআইয়ের পরিচালক (সিএম) আলাউদ্দিন হোসেন বলেছেন, তাদের ল্যাবেও ইস্ট বেকারের ব্রেডের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, তাতে সকল উপাদানের পরিমাণ ‘নির্ধারিত মানের মধ্যেই’ রয়েছে।
‘মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ’ থাকার অভিযোগে গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইস্ট বেকারের দুই কোম্পানির নির্দিষ্ট ব্যাচের দুটি খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের পাশাপাশি বিপণন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)।
পণ্য দুটি হল ইস্ট কেক ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিটেডের ‘ইস্ট কেক পুর পিঠা জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’ ও ইস্ট জিবাই ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ‘ইস্ট বেকার স্লাইস ব্রেড মিল্ক জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’।
বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর কয়েকটি ল্যাবে এসব পণ্যের নমুনা পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেয় ইস্ট বেকার। পরে সেই পরীক্ষার ফলাফল যুক্ত করে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কাছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন করে।
বিএসটিআইয়ের পরিচালক (সিএম) আলাউদ্দিন হোসেন বলেন, “আমরা ঢাকা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে এই ব্রেড পণ্যের স্যাম্পল নিই। স্যাম্পল নিয়ে আমরা আমাদের যে মান আছে, মান দিয়ে সেগুলো ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করি।
“ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে, যে প্যারামিটার নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছিল, ক্যালসিয়াম প্রোপায়োনেট প্রিজারভেটিভ, আমরা সেটার মাত্রা পরীক্ষা করি। এবং মাত্রা পরীক্ষা করে সবগুলোতেই যে নির্ধারিত মাত্রা স্ট্যান্ডার্ডে আছে, স্বীকৃত মাত্রা আছে বা নিরাপদ মাত্রা আছে তার মধ্যে পাই।”
তিনি বলেন, “আপনারা জানেন যে, ব্রেডে ক্যালসিয়াম প্রোপায়োনেটের নিরাপদ মাত্রা হচ্ছে প্রতি কেজিতে ৫ গ্রাম। আমরা ইস্ট বেকারের ব্রেড পরীক্ষা করে চারটা নমুনা নিয়েছিলাম বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে, চারটাতেই ৫ এর অনেক কম পেয়েছি।
“আমরা একটাতে পেয়েছিলাম ২.৬২, একটাতে পেয়েছিলাম ২.৫৩, একটাতে পেয়েছিলাম ২.৯৯, আরেকটাতে ২.৬৭। এই চারটা ব্রেড চার রকমের, চারটা পয়েন্ট থেকে নেওয়া হয়েছে। চারটাতেই ক্যালসিয়াম প্রোপায়োনেটের বা প্রিজারভেটিভের মাত্রা সহ্যমাত্রার অনেক নিচে আছে।”
আলাউদ্দিন হোসেন বলেন, “অর্থাৎ এই পণ্যটি নিরাপদ পণ্য, এটা মানুষের কনজিউম করতে কোনো অসুবিধা হবে না। এটা আমাদের নির্ধারিত মানের মধ্যেই আছে। পণ্যটি মানসম্মত পণ্য, এতে কোনো সমস্যা নেই।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকার জেলা খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশে ইস্ট বেকারের নির্দিষ্ট ব্যাচের পণ্য প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছিল, তা করা হয়েছে। পাশাপাশি সেসব পণ্যের বিপণন বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল, তাদের আবেদনে সেই আদেশ তুলে নেওয়া হয়েছে।
“নির্দিষ্ট শর্তের আলোকে, শর্ত মানার শর্তে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে একটি পত্রমূলে তাদেরকে যে প্রত্যাহার মানে বিপণন বন্ধ ছিল সেটি পুনরায় আবার চালু করে দেওয়া হয়।”
ইস্ট বেকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “ভোক্তার নিরাপত্তা, পণ্যের মান এবং গুণগত নিশ্চয়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ইস্ট বেকার ব্রেডের নমুনা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) এর ইনস্টিটিউট অব ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইএফএসটি) এবং ওয়াফেন রিসার্চ ল্যাবরেটরি লিমিটেডে পরীক্ষা করানো হয়েছে।
“পরীক্ষার ফলাফলে ক্যালসিয়াম প্রোপায়োনেটসহ পরীক্ষিত বিভিন্ন প্রিজারভেটিভ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের মাত্রা সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার নির্ধারিত সীমার মধ্যে পাওয়া গেছে।”
ইস্ট বেকার বলছে, বিএসটিআই ও ওয়াফেন রিসার্চ ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় তাদের পণ্যে পটাশিয়াম ব্রোমেটও শনাক্ত হয়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়, পণ্যের সংরক্ষণকাল ও মাইক্রোবায়োলজিক্যাল সেইফটি যাচাইয়ের জন্য বিসিএসআইআর এর ইনস্টিটিউট অব ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (আইএফএসটি) ৩০ দিনের মাইক্রোবায়োলজিক্যাল শেলফ লাইফ স্টাডি করা হয়।
“রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতিটি পর্যায়ের ফলাফল ‘গ্রহণযোগ্য’ এবং পরীক্ষিত সময়জুড়ে সালমোনেলা এসপিপি ‘অনুপস্থিত’ পাওয়া যায়।”
ইস্ট বেকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বিবৃতিতে বলা হয়, “ভোক্তার আস্থা ও নিরাপত্তা আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা ভবিষ্যতেও পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার গুণগত মান আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
বিবৃতিতে বলা হয়, ইস্ট বেকার ব্রেডের উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে প্রযোজ্য আইন, বিধিমালা ও নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ অব্যাহত থাকবে।
ভোক্তা, পরিবেশক, ডিলার এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে ‘যাচাইযোগ্য তথ্যের ওপর’ আস্থা রাখার এবং ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য’ থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ইস্ট জিবাই ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিটেড।
ডিসক্লেইমার
প্রতিবেদনটি একটি বিজ্ঞাপন বার্তা; সংবাদ প্রতিবেদন নয়। আর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে তৈরি করা। এর কোনো কনটেন্টের দায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নয়।