
দায়িত্ব নেওয়ার পরই হাস্যরসের জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়া। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের নিয়োগকর্তা ও স্বামীকে গুলিয়ে ফেলেন তিনি।
মুখ ফসকে নিজের স্বামীকেই ‘প্রেসিডেন্ট’ বলে বসেন। আর সেই ভুলের ভিডিও মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজের প্রথম প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কেটি। চার সন্তান লালনপালনের পাশাপাশি নতুন এই গুরুদায়িত্ব কীভাবে সামলাবেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে মুখ ফসকে ওই ভুল করেন তিনি।
পরিবার থেকে পাওয়া সমর্থনের কথা তুলে ধরে কেটি বলেন, ‘প্রথমেই আমি আমার স্বামীকে আন্তরিক সাধুবাদ জানাতে চাই।’ এরপরই তিনি বলেন, “আমার প্রেসিডেন্ট, মাফ করবেন, আমার স্বামী, এটা ভাল কৌতুক ছিল।’
কেটির এই বেফাঁস মন্তব্য নিয়ে একদিকে যেমন হাসির রোল তেমনই পাল্লা দিয়ে চলছে বিতর্ক।
ঠিক কী ঘটেছে?
বক্তব্যের শুরুতেই উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে কেটি বলেছিলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করতে পারাটা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। আমার উপর আস্থা রাখার জন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। দীর্ঘ দিন ধরেই আমি তার হয়ে কাজ করতে চেয়েছি।”
এরপরই এক সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেন, এই গুরুদায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কীভাবে তিনি সন্তানদের জন্য সময় বের করবেন? এর উত্তরেই মুখ ফসকে যায় কেটির।
তিনি নিজের স্বামীর কথা বলতে গিয়ে বলে বসেন, “আমার প্রেসিডেন্ট।” দ্রুত ভুল শুধরে নিলেও বেশ অপ্রস্তুত ও বিচলিত হয়ে পড়েন কেটি। মাত্র ১৫ মিনিটেই তিনি বক্তব্য শেষ করে তড়িঘড়ি বেরিয়ে যান।
সংবাদমাধ্যমগুলো কেটির এই প্রথম প্রেস ব্রিফিংয়ের সমালোচনা করেছে। কেউ লিখেছে তার কথা বলার ধরন রোবটের মতো ছিল। আবার কোনও গণমাধ্যম কেটির এই শুরুকে অনেকটাই খারাপ বলে মন্তব্য করেছে।
তবে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কেটির ওপর পুরো আস্থা রেখেছেন। তিনি বলেছেন, প্রথম প্রেস ব্রিফিংয়ে কেটি দারুণ কাজ করেছেন।
বিদায়ী প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটের জায়গায় ট্রাম্প কাকে বেছে নেবেন, তা নিয়ে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই জল্পনা চলছিল। এরপর খানিকটা অপ্রত্যাশিত ভাবেই কেটি জাকারিয়াকে নিয়োগ করা হয়।
ট্রাম্পের কথায়, “কেটি মাগা (মেক আমেরিকা গ্রেট এগেন) আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ। তিনি এমন এক সময়ে দায়িত্বগ্রহণ করলেন, যখন আমাকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে।”
কেটি এর আগে ‘ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি’র মুখপাত্র হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বর্তমানে প্রেস সেক্রেটারির পাশাপাশি ‘ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ’-এর যোগাযোগ বিষয়ক উপদেষ্টা হিসাবেও তিনি কাজ করছেন।