• সোম. অক্টো. 12th, 2026

সংখ্যায় কমলেও তীব্রতা বাড়ছে দুর্যোগের, প্রশমনে প্রস্তুতি কতটা?

Bytrendnews

অক্টো. 12, 2026


টানা বৃষ্টি, পাহাড় ধস আর উজানের ঢলে গত জুলাইয়ে অন্তত ৪৪ জনের মৃত্যু হয় দেশে।

মাস তিনেক আগের ওই দুর্যোগে ১০ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় কয়েক লাখ মানুষ; চার দশেকের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি ঝরে চট্টগ্রাম; তলিয়ে যায় নগরের বহু এলাকা। অতি ভারি বর্ষণে তীব্র জলাবদ্ধতার মুখে পড়ে রাজধানী ঢাকাও।

এর আগে এপ্রিল-মে মাসে ছিল বজ্রপাতের দাপট। ২৬ এপ্রিলে শুধু এক দিনে সাত জেলায় ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। এরপর ৪ জুন তাপপ্রবাহের বিস্তার ছড়িয়ে পড়ে অন্তত ৪৮ জেলায়। ভূমিকম্প, স্বল্পমেয়াদী বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগও ছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার মতো দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবেলায় মৃত্যুর সংখ্যা কমে এসেছে। তবে নতুন নতুন দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। বিশেষ করে ভূমিধস, বজ্রপাত, আকস্মিক বন্যা, অতি বৃষ্টি, তাপপ্রবাহের মতো দুর্যোগ বেড়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশে পালন হচ্ছে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য, ‘ঘর থেকে শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’।

সচেতনতা বাড়ানো এবং জোড়ালো প্রস্তুতির মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৯৮৯ সালে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেয়। এরপর ২০০৯ সালে সিদ্ধান্ত হয়, প্রতি বছরের ১৩ অক্টোবর এ দিবসটি পালন করা হবে।


Image

ইলেষ্ট্রেশন: জেমিনাই

এত দুর্যোগ কেন, এলনিনিওর বছর চলছে এবার

আবহাওয়া অধিদপ্তরের (ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র) আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক মনে করেন, “দুর্যোগের দুইটা কারণই মুখ্য। একটি প্রাকৃতিক, আরেকটা মানব সৃষ্ট। এরমধ্যে জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি একটা ফ্যাক্টর। এর কারণে সারা পৃথিবীতেই অ্যাটমোস্ফেয়ারিক সার্কুলেশন ব্যত্যয় ঘটছে।

খুব স্বল্প সময়ে এসব দুর্যোগের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার তথ্য তুলে ধরে তিনি উদহারণ হিসেবে বজ্রপাত ও ভূমিধসকে উদাহরণ হিসেবে টানেন।

তিনি বলেন, এসব দুর্যোগ সময় নেয় না বলে সারা পৃথিবীর আবহাওয়াবিদ, জলবায়ুবিদরা খুব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।

এসব দুর্যোগ প্রশমনে করণীয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এক নাম্বার কাজ হলো, আগাম সতর্ক ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে হবে।”

আর উন্নত ব্যবস্থা গড়ে তোলার পর সেটাকে প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এলনিনিও এবার শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তার চেয়ে দীর্ঘায়িত হতে পারে। এলনিনিওর প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যেতে পারে; বাড়তে পারে তাপমাত্রা।

“এর ছোঁয়া বাংলাদেশেও লাগবে। বাংলাদেশেও বর্ষাকালে বৃষ্টি একটু কম হয়েছে। তাপমাত্রা সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত গরম অনুভব হয়।”

স্বল মেয়াদী গরম, শীত, বৃষ্টির তীব্রতা বাড়বে বলেও নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন ড. মল্লিক।

তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড় এবং সেটার বিভিন্ন যে ক্যাটাগরি আছে, সেগুলো সংখ্যায় কমে যাচ্ছে, এটা সত্য। তবে বঙ্গোপসাগরে যদি কোনো ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়, তা অনেক সময় সুপার সাইক্লোন স্টর্মেও পরিণত হয়।”

গেল ৭ জুলাই চট্টগ্রামে ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা গত চার দশকের মধ্যে বন্দরনগরীতে এক দিনের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।


Image

ঢাকায় গত জুলাইয়ে বৃষ্টিতে কোমর পানি জমে যায় আরামবাগ সড়কে।

এর এক সপ্তাহের মাথায় ঢাকায় প্রায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এ কে এম সাইফুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোয় আকস্মিক বন্যার প্রবণতা বেড়েছে।

হাইড্রো-ক্লাইমেট অ্যান্ড ওশান সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ড. মোহন কুমার দাশও মনে করেন, বাংলাদেশের বৃষ্টিপাতের ধরন ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে।

তিনি বলেছেন, বর্ষাকালে দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়ার পর স্বল্প সময়ে অতিভারি বর্ষণের ঘটনা বাড়ার তথ্য এসেছে সাম্প্রতিক গবেষণায়। ফলে মোট মৌসুমি বৃষ্টিপাত খুব বেশি না বাড়লেও চরম বৃষ্টিপাতের ঘটনা ও তার তীব্রতা বাড়ছে।

নতুন আপদ বজ্রপাত আর পাহাড়ধস

৩০ বছরের কালবৈশাখীর তথ্য বিশ্লেষণ করে ‘অ্যান ওভারভিও অব থান্ডারস্টর্মস ওভার বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণায় দেখা গেছে, বছরের সর্বোচ্চ ৬৬ দিন বজ্রপাতের ঘটনাও দেশে আছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত ঘটে মে মাসে; ডিসেম্বরে সবচেয়ে কম।

গবেষণা প্রতিবেদনটি ২০২২ জুনে বাংলাদেশ জার্নাল অব ফিজিক্স সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়।

১৯৮১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যকার তথ্য-উপাত্ত বলছে, দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলই সবচেয়ে বজ্রপাতপ্রবণ। এরপরই উত্তরাঞ্চল, মধ্য পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর পশ্চিমাঞ্চল রয়েছে।

এ গবেষণায় যুক্ত ছিলেন ড. মল্লিকও। তার ভাষায়, বলেন, “বর্তমানে আমরা দেখছি- সিলেট হচ্ছে বাংলাদেশের মধ্যে বজ্রপাতের হটস্পট। ফরিদপুর, ঢাকাসহ দক্ষিণাঞ্চলে ইদানিং বজ্রপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।”

তিনি জানান, সিলেটের সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে বেশি বজ্রপাত হয়। তারপর সিলেটের গোয়াইনঘাট, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, চাপাইনবাবগঞ্জে, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিং, পাবনা, বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, রাজারহাট, লালমনিরহাট এসব অঞ্চলে বজ্রপাত বেশি হয়। পাশাপাশি, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, সাতক্ষীরা এসব অঞ্চলে বজ্রপাত বেশি হচ্ছে।

‘সিম্যুলেশন অব এ হিটওয়েব ইভেন্ট ইউজিং ডব্লিউআরএফ মডেল অ্যান্ড অ্যানালাইসিস অব হিট স্ট্রেস ইনডেক্স ওভার বাংলাদেশ’ শিরোনামে আরেকটি গবেষণাতেও যুক্ত ছিলেন ড. মল্লিক।

এ গবেষণায় দেখা যায়, আট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ‘হিট স্ট্রেস’ দেখা যায় খুলনা অঞ্চলে। এরপরই বরিশাল ও ঢাকা। তাপ্রবাহ চলাকাল সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ ছাড়া দেশের বাকি অঞ্চলে মাঝারি থেকে ‘স্ট্রং হিট স্ট্রেস’ থাকে।

দেশে প্রতি বছর আনুমানিক ৩৩ লাখ ৬০ হাজার বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে মৃত্যু হয় ৩০০ থেকে ৩৫০ জনের। বজ্রপাতকে ২০১৬ সালে দুর্যোগও ঘোষণা করা হয়। বজ্রপাত থেকে রক্ষায় এক সময় তালগাছ লাগানোর পদক্ষেপ নিলেও তা থেকে সরে আসে তৎকালীন সরকার। এরপর বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপনের প্রকল্পও নেওয়া হয়; এতেও তেমন সুফল মিলছে না। নতুন করে সমন্বিত একটি পন্থা খোঁজা হচ্ছে এখন।


Image

ইলাস্ট্রেশন: জেমিনাই।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যথাক্রমে ২২৬ জন, ৩৯১ জন, ৩৮৮ জন, ৩৫৯ জন, ১৯৮ জন, ২৫৫ জন, ৩৬৩ জন, ৩৩৭ জন, ৩২২ জন, ২৭২ জন, ১৭৩ জন মারা গেছে বজ্রপাতে। চলতি বছর মে পযন্ত অন্তত শত মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে; এরমধ্যে ২৬ এপ্রিলই ১৪ জন মারা গেছে সাত জেলায়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক আজিজুর রহমান বলেন, “ঘূর্ণিঝড়ের চেয়ে এখন বজ্রপাতে ভুগছে হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে।”

তার হিসাবে, ঘূর্ণিঝড়ে পঞ্চাশ বছরে মৃত্যুর সংখ্যা লাখের বেশি ছিল। সেটি এখন এক অঙ্কে নেমে এসেছে। অন্যদিকে প্রতিবছর বজ্রপাতে ২০০ থেকে ৩০০ মানুষ মারা যাচ্ছে।

বজ্রপাত নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস থাকলেও তা তৃণমূলে পৌঁছাতে পারছে না বলে মনে করে তিনি।

আজিজুর রহমান বলেন, “যারা প্রান্তিক চাষী, মাঠে কাজ করেন, তাদের কাছে পৌঁছানোর যে মেকানিজমটা, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ডেভেলপ করতে পারেনি। ঘূর্ণিঝড়ের ডিজেস্টারের চেয়ে বজ্রপাত এখন চরম ডিজেস্টারে পরিণত হয়েছে।”

গত ২৭ এপ্রিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সংসদে বলেন, সাম্প্রতিক কয়েক বছরে বজ্রপাত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে হাওর অঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে প্রায়ই বজ্রপাতে প্রাণহানি ঘটছে। এখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ২৫টির বেশি বজ্রপাত হয়।

“বজ্রপাত ভূমিকম্পের মতো একেবারে আগাম বার্তা ছাড়া ঘটে না। আকাশে ঘন মেঘ জমলে মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে গেলে প্রাণহানি কমবে। এজন্য হাওরাঞ্চলে সাইরেনের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মাঠে কাজ করা কৃষকরা যেন সময়মত নিরাপদ স্থানে যেতে পারেন, সে ব্যবস্থা করতে চায় সরকার।”

আর টানা বর্ষণের মধ্যে পাহাড় ধসে সর্বোচ্চ ১৫০ জনের মৃত্যুর ঘটনা রয়েছে ২০১৭ সালে জুনে। এর আগে ২০০৭ সালের জুনে ১২৭ জনের প্রাণহানি হয়। এছাড়া ২০১৯ সাল থেকে ২০২৫ সাল পযন্ত যথাক্রমে ১৯ জন, ১৫ জন, ১০ জন, ১৭ জন, ১৪ জন, ২২ জন ও ৮ জনের মৃত্যু হয়। গেল জুলাইয়ে অতি বৃষ্টির সময় পাহাড় ধসে ৩৪ জনের মৃত্যু ঘটে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবানে।


Image

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাজালিয়া ইউনিয়নের বুড়ির দোকান এলাকায় গত জুলাইয়ে বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় চট্টগ্রাম-বান্দরবান সড়ক।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কারিতাস বাংলাদেশের (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা) ভূমি ধসের আগাম সতর্কতা প্রচারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে একজন কর্মকর্তা বলেন, ভূমিধসে কমিউনিটি লেভেলে সচেনতনতামূলক কাজ করার পাশাপাশি আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ায় ভালো ফলও পাওয়া যাচ্ছে।

গেল ৫-৯ জুলাই অতি ভারি বর্ষণের সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ২০ জন, কক্সবাজারে ৫ জন মারা গেছে পাহাড় ধসে; এসময় চট্টগ্রামে ৩ জন, বান্দরবানে ৫ জন ও রাঙামটিতে একজনের মৃত্যু হয়।

বৃষ্টির পূর্বাভাস কাজে লাগিয়ে ইতোমধ্যে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে পাহাড় ধসপ্রবণ এলাকায় আগাম সতর্কতা দেওয়া হয় কয়েক বছর ধরে। পার্বত্য এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনাও বেড়েছে, তাতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু প্রাণহানি কমেছে।

কারিতাস বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান আলেকজান্ডার ত্রিপুরা জানান, সিলেট, পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ৭টি জেলায় ২৩ লাখ থেকে ২৭ লাখ মানুষ ভূমিধস প্রবণ এলাকায় বসবাস করেন।

ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার আগাম সতর্ক ব্যবস্থা থাকলেও ভূমিধসের ক্ষেত্রে তা ছিল না, অথচ প্রতিবছর মৃত্যুর হার অনেক বেশি।

“ল্যান্ডস্লাইড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম নিয়ে গত পাঁচ-ছয় বছর আমরা পাইলটিং করার সুযোগ পেয়েছি; এটা জয়েন্ট ভেঞ্চার কাজ। পার্বত্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ৩৩টি ওয়ার্কিং এরিয়া ছিল। প্রধান লক্ষ্য ছিল জীবনের ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতি কমানো। বেশি মাত্রার ভূমিধস হওয়ার পরেও পাইলটিং এরিয়ায় ভলান্টিয়ার ও প্রোটোকল থাকার কারণে এবার ভূমিধসে একজনও মারা যাননি।”

এ অভিজ্ঞতা সামনে কাজে লাগবে বলে জানান তিনি।

বিপদ বাড়লেও মোকাবেলায় প্রস্তুতি কতটা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান বলেন, “পাহাড় ধসের বিষয়ে আমরা একটা আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা তৈরি করছি মানুষকে সচেতন করতে।

এ বিষয়ে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু কিছু জায়গায় ভূমিধসের বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান— সবাইকে সম্পৃক্ত করে কাজ চলছে।

মহাপরিচালক বলেন, “বজ্রপাত নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটসহ অন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একাধিকবার মিটিং করেছি । কী ধরনের সমাধান রয়েছে, সে বিষয়ে তারা মতামত দিয়েছেন।”

ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও ভূকম্পনের মতো দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতি ও সফলতার প্রসঙ্গ টেনে রেজওয়ানুর রহমান বলেন, বন্যা সতর্কীকরণ পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য পাওয়ার পরেই সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পাশাপাশি সরকারি বেসরকারি সংস্থা বা উন্নয়ন সহযোগী তাদেরও সহায়তা নেওয়া হয়। ফলে মৌসুমী বন্যা মোকাবেলায় এখন আগের চেয়ে বেশি প্রস্তুতি থাকে।”

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক হয় ৬ অক্টোবর। সেখানে সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রস্ততি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা জানান রেজওয়ানুর রহমান।


Image

বজ্র নিরোধক দণ্ড।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাব কী বলছে

>> ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দুর্যোগে ৪৩,৮২৯ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। একই সময়ে দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছেন ২ হাজার ৫৩৩ জন।

>> বন্যায় ২৯ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা, ঘূর্ণিঝড়ে ১১ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা, অগ্নিকাণ্ডে ২ হাজার ২০ কোটি টাকা, বজ্রপাতে ১০৫ কোটি টাকা ও ভূমিকম্পে ১০৮ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।

>> ৫ বছরে আড়াই হাজার মৃত্যুর মধ্যে ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশই বজ্রপাতে।

>> বিভিন্ন দুর্যোগে বার্ষিক প্রাণহানির প্রবণতা কমেছে। ২০২১ সালে ৬০৩ জন, ২০২২ সালে ৫৯১ জন, ২০২৩ সালে ৫০৯ জন, ২০২৪ সালে ৫৩৯ জন এবং ২০২৫ সালে ৩৯৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

>> বন্যায় ১৯৭ জন, ঘূর্ণিঝড়ে ৫২ জন, অগ্নিকাণ্ডে ৬৫৪ জন, বজ্রপাতে ১৫৩০ জন, ভূমিকম্পে ১০ জন ও পাহাড় ধসে ৯০ জনের মৃত্যু হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান খান বলেন, “দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে রাজনীতি টানা যাবে না, দুর্যোগ সবার উপরে আসে আর সম্মিলিতভাবে এর সমাধান করতে হবে। সমাজের সব মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে।”

লেখক, গবেষক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গওহার নঈম ওয়ারা বলেন, স্থানীয় সরকার ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব নয়। স্থানীয় সরকার ও জনগণ মিলে এটার ব্যবস্থাপনা করতে হবে।

“মানুষকে বাঁচাতে হলে যেসব ভুল জিনিস আছে, সেগুলো বন্ধ করতে হবে। এখন সাইক্লোন শেল্টার ও সাইক্লোনের বার্তা মানুষের উপযোগী নয়। মানুষের কথা শুনতে হবে সরকারকে, সব প্রকল্পে বাস্তবায়নে মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে।”

পুরানো খবর:


এল নিনিওর প্রভাবে বাংলাদেশে কী হতে পারে, কী প্রস্তুতি দরকার


ভূমিকম্পজনিত দুর্যোগ মোকাবেলায় কাজ করবে ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক: ত্রাণমন্ত্রী

চট্টগ্রামে ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি, তলিয়েছে বহু এলাকা

বদলাচ্ছে বৃষ্টির ধরন ও বন্যার ভূগোল, নতুন শঙ্কা ‘নগর বন্যা’

বদলাচ্ছে তাপদাহের মানচিত্র

বন্যা ও পাহাড় ধস: মৃত্যু বেড়ে ৪৪, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি

বিস্তার বেড়ে তাপপ্রবাহ ৪৮ জেলায়

এল নিনিওর প্রভাবে বাংলাদেশে কী হতে পারে, কী প্রস্তুতি দরকার



Source link

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।