
একদিন খুব ভোরবেলা শব্দগুলোকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তার আগে শব্দ বলতে কিছুই ছিল না। ছিল ঘটনা, ছিল আবহ। অ্যারিস্টটল বলেছিলেন যে একটা ভালো গল্পে যা কিছুই ঘটে, তা ঘটানোর জন্য সব সময় অন্য কিছু একটা লাগে, যা বাকি সবকিছুকে ঘটনার দিকে ঠেলে দেয়। একদিন কেউ একজন খেয়াল করল যে আকাশে তারা আছে, কিন্তু কোথাও কোনো শব্দ নেই। কিন্তু কেন? অনেককেই জিজ্ঞেস করেছি। আমার মনে হয়, এটা একটা ভালো প্রশ্ন। তিনজন বৃদ্ধা একটা মাঠে ঝুঁকে পড়ে কাজ করছিল। তারা বলল এই কথা আমাদের জিজ্ঞেস করে কী লাভ? কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বোঝা গেল যে বরফে ঢাকা মাঠ, নীলচে-সবুজ অঙ্কুর সম্পর্কে, আর ‘দুঃসাহস’ নামের যে গাছটিকে কবিরা ভায়োলেট ভেবে ভুল করে, সেটি সম্পর্কে যত কিছু জানা সম্ভব তার সবটুকুই তারা জানে। তারা যাকিছু বলছিল, আমি সব টুকে রাখতে শুরু করেছিলাম। আমার কলমের দাগগুলো আস্তে আস্তে সহজাত একটা মুহূর্ত তৈরি করল, গল্পের ভেতরের একঘেয়েমি ছাড়াই। এই কথাটা আমি খুব জোর দিয়ে বলতে চাই। একঘেয়েমি ব্যাপারটা এড়াতে আমি যেকোনো কিছু করতে রাজি আছি। আর এই কাজ করতে সারা জীবন লেগে যায়। কোনো কিছুকে কখনোই আমার কাছে যথেষ্ট হয়েছে বলে মনে হয় না। আমার মনে হয়, কখনোই যথেষ্ট জানা সম্ভব না, কখনোই যথেষ্ট কাজ করা সম্ভব না, ক্রিয়ার ইনফিনিটিভ আর পার্টিসিপল রূপগুলোকেও যথেষ্ট অদ্ভুতভাবে ব্যবহার করা সম্ভব না, চলার গতিতে যথেষ্ট পরিমাণে বাধা দেওয়া সম্ভব না। কারও মন থেকে যথেষ্ট দ্রুত বেরিয়ে পড়াও সম্ভব না।