• রবি. সেপ্টে. 27th, 2026

খাদ্যে জিলাটিন কি হালাল | প্রথম আলো

Bytrendnews

সেপ্টে. 25, 2026


খাদ্যে হালাল-হারামের মানদণ্ড

ইসলামে যাবতীয় খাবারের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো প্রাথমিক সব খাদ্যই হালাল, যতক্ষণ না তা হারাম হওয়ার কোনো সুস্পষ্ট দলিল পাওয়া যায়।

কোরআনে আল্লাহ-তাআলা ঘোষণা করেন, “হে মানবমণ্ডলী, জমিনে যা কিছু হালাল ও পবিত্র রয়েছে তা থেকে তোমরা আহার করো, আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না; নিঃসন্দেহে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৬৮)

যেসব খাদ্যবস্তু মানুষের জন্য স্থায়ীভাবে হারাম করা হয়েছে, তার বিশদ বিবরণ দিয়ে আল্লাহ-তাআলা বলেছেন, “বলুন: যা আমার প্রতি ওহি করা হয়েছে তাতে আমি এমন কিছু পাই না যা কোনো আহারকারী ব্যক্তির জন্য ভক্ষণ করা হারাম—শুধু যদি তা মৃত প্রাণী হয়, কিংবা প্রবাহিত রক্ত, কিংবা শুকরের মাংস; কারণ নিশ্চয়ই তা অপবিত্র ও নিকৃষ্ট; অথবা এমন অবাধ্যতার পশু যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে।” (সুরা আনআম, আয়াত: ১৪৫)

মহানবী (সা.) আরও স্পষ্ট করেছেন যে যেকোনো হিংস্র শ্বাপদ জন্তু (যার শিকারি দাঁত রয়েছে) এবং যেকোনো শিকারি নখযুক্ত পাখি ভক্ষণ করা নিষিদ্ধ। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯৩৪)

অনুরূপভাবে খাইবারের যুদ্ধে মহানবী (সা.) গৃহপালিত গাধার মাংস ভক্ষণ হারাম ঘোষণা করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪২১৯)

উৎসের ভিত্তিতে জিলাটিনের বিধান

প্রামাণ্য নীতিমালার আলোকে জিলাটিনকে চারটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়:

উদ্ভিজ্জ ও কৃত্রিম জিলাটিন: যদি কোনো জিলাটিন সামুদ্রিক আগাছা, পেকটিন, স্টার্চ কিংবা অন্যান্য উদ্ভিজ্জ ও সিন্থেটিক উৎস থেকে তৈরি করা হয়, তবে তা সর্বসম্মতভাবে শতভাগ হালাল ও পবিত্র। এতে কোনো সন্দেহ বা সংশয় নেই।

হালাল প্রাণীর জিলাটিন: গরু, মহিষ, উট, ছাগল বা ভেড়ার মতো যেসব গৃহপালিত পশুর গোশত খাওয়া ইসলামে হালাল, সেসব পশুকে যদি বিসমিল্লাহ পড়ে ইসলামের নির্ধারিত নিয়মে জবাই করা হয়, তবে তাদের হাড় বা চামড়া থেকে নিষ্কাশিত জিলাটিন সম্পূর্ণ হালাল।

এমন জিলাটিন দিয়ে তৈরি মিষ্টি, আইসক্রিম বা ক্যাপসুল সেবনে কোনো ধর্মীয় বাধা নেই।

শুকরজাত জিলাটিন: শুকর অপবিত্র (নাজিসুল আইন)। অতএব শুকরের হাড়, চর্বি বা চামড়া থেকে তৈরি জিলাটিন সর্বাবস্থায় হারাম ও বর্জনীয়। বিশ্ববাজারে প্রক্রিয়াজাত সস্তা খাদ্যের একটি বড় অংশে এই ধরনের জিলাটিন ব্যবহৃত হয়, যা মুসলমানদের জন্য একেবারেই নিষিদ্ধ।

অপবিত্র উপায়ে মৃত প্রাণীর জিলাটিন: হালাল প্রাণী হলেও যদি তা ইসলামি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করে, শ্বাসরোধ করে, পানিতে ডুবিয়ে বা ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে মেরে ফেলা হয়, তবে তা মৃত পশুর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। ফলে সেই প্রাণীর গোশত খাওয়া যেমন হারাম, তার হাড় বা চামড়া থেকে সংগৃহীত জিলাটিনও তদ্রূপ হারাম।

তবে প্রাণীটি যদি পশ্চিমা দেশে খ্রিষ্টান বা ইহুদিদের (আহলে কিতাব) দ্বারা তাদের ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী উপযুক্তভাবে জবাই করা হয় এবং তাতে কোনো নিশ্চিত অপবিত্রতা না থাকে, তবে তা গ্রহণ করার অবকাশ রয়েছে। কিন্তু আধুনিক স্বয়ংক্রিয় স্লটারহাউসের প্রক্রিয়া যদি সন্দেহযুক্ত হয়, তবে তা পরিহার করাই তাকওয়ার দাবি।



Source link

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।