• মঙ্গল. সেপ্টে. 22nd, 2026

বিসিএসআইআর এখন ‘সাদা হাতি’ | প্রথম আলো

Bytrendnews

সেপ্টে. 22, 2026


বিসিএসআইআরের বিজ্ঞানীরা পণ্য তৈরির প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করেন। উদ্ভাবিত এসব প্রক্রিয়া বছরে ৬০ হাজার থেকে আড়াই লাখ টাকার বিনিময়ে ইজারা নিয়ে পণ্য তৈরি করে বাজারে ছাড়েন ব্যবসায়ীরা।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ৬৫ বছরে তাদের উদ্ভাবিত পণ্য বা প্রক্রিয়ার সংখ্যা ১ হাজার ৮। এগুলোর মধ্যে ৪৭৬টি ইজারা নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ১১৭টি পণ্য বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। সংস্থাটির উন্নয়ন বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, আসলে এই ১১৭টি পণ্যের বড়জোর দু–একটি বাজারে থেকে থাকতে পারে।

বিসিএসআইআরের কর্মকর্তারা জনপ্রিয় পণ্যের তালিকায় রাখেন স্পিরুলিনা ট্যাবলেটকে। ইউরেকা ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠান ২০০২ সাল থেকে পণ্যটি ইজারা নিয়ে বাজারজাত করছে। এর ব্যবস্থাপক সৌদি ইমাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০০৭ সাল পর্যন্ত স্পিরুলিনা মোটামুটি চলত। এরপর আর চলছে না।’ তিনি জানান, সবচেয়ে ভালো সময়ে তাঁরা মাসে ৬০ হাজার ট্যাবলেট বিক্রি করতে পেরেছেন, তবে এখন আড়াই হাজার বিক্রি হয়। ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদন না থাকায় এটি বিক্রিতে সমস্যার মুখে পড়তে হয় দোকানদারদের।

২০১৬ সালে বিসিএসআইআর থেকে লুব্রিক্যান্ট গ্রিজ তৈরির প্রক্রিয়া ইজারা নেয় যশোরের ফোকাস লুব্রিক্যান্ট। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার তপন কুমার চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, বাজারে বিদেশি লুব্রিক্যান্ট গ্রিজ অনেক কম দামে পাওয়া যায়। বিসিএসআইআরের প্রযুক্তিতে উৎপাদন খরচ বেশি, বিক্রিও কম হয়। পণ্যের মানও তেমন ভালো হয় না।

বিসিএসআইআর জানিয়েছে, তাদের আরেক ‘জনপ্রিয় উদ্ভাবন’ বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপিত হয়েছে ৭ হাজার ৮০০টি। এ ছাড়া ২৮ হাজার উন্নত চুলা বিতরণ করেছে তারা। সংস্থাটির জ্বালানি গবেষণা ও উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো. শাহ জামাল বলেন, বিদেশি অর্থায়নে ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রকল্পটি চলেছে। এরপর আর কেউ বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট ও উন্নত চুলার প্রযুক্তি ইজারা নেয়নি।

বিসিএসআইআরের জনসংযোগ বিভাগ ১০ বছরে উল্লেখযোগ্য অর্জনের একটি প্রচারপত্র সরবরাহ করে। এতে মাছ ও দুধে ফরমালিনের উপস্থিতি শনাক্তকরণ কিট, লবণে আয়োডিন শনাক্তকরণ কিট, জ্বালানিসাশ্রয়ী সেচপাম্প, পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানিসাশ্রয়ী চাতাল বয়লার, জুতার ইনসোল বোর্ড ও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য জুতার ফুটবেডকে রাখা হয় অর্জনের তালিকায়। কিন্তু গত মাস পর্যন্ত এসব পণ্যের ইজারা কেউ নেয়নি।

সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা নিজেরা ফরমালিন শনাক্তকরণ কিট তৈরি করে ২০২০ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে বিক্রি করতে পেরেছে ১২৫টি। আয়োডিন কিট এখন আর বিক্রি হয় না।

বিসিএসআইআরের নথিপত্র অনুযায়ী, সংস্থাটির বিজ্ঞানীরা ২০১৯-২০ অর্থবছরে যে সাতটি নতুন পণ্য বা প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করেছেন, তা হলো বিদ্যুৎসাশ্রয়ী মাইক্রোকন্ট্রোলারভিত্তিক স্মার্ট লাইট কন্ট্রোল সিস্টেম, মাশরুম মিক্সড স্যুপ পাউডার, বেটা ক্যারোটিনসমৃদ্ধ কুমড়া বিস্কুট ও গাজরের বিস্কুট, পেয়ারা বাইট (পেস্ট্রি), অ্যালুমিনিয়াম বর্জ্য থেকে শুষ্ক অ্যালুমিনিয়াম সালফেট এবং পানিতে দ্রবণীয় চর্বিযুক্ত এজেন্ট উৎপাদন। এগুলোর একটিও ইজারা কেউ নেয়নি। ফলে বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসেনি।

বিসিএসআইআরের গবেষণা সমন্বয়কারী হেমায়েত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বাজারে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। যারা ইজারা নেয়, তাদের সক্ষমতা বেশি থাকে না। তারা ব্র্যান্ডিং করতে পারে না। উৎপাদন খরচ অনেক সময় বেশি পড়ে। ফলে বিসিএসআইআরের পণ্যগুলো বাজারে টিকতে পারে না।



Source link

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।