
কিন্তু শীতলপাটিকে স্যান্ডেলে রূপ দেওয়া এতটাও সহজ ছিল না। প্রথম দিকে বিভিন্ন ধরনের বুনন, আকার, কাটিং, স্ট্র্যাপের অবস্থান এবং সোলের সঙ্গে পাটিকে যুক্ত করার পদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষা করতে হয়েছে। উদ্যোক্তারা শুধু যে সাধারণ শীতলপাটি দিয়ে স্যান্ডেল বানিয়ে ফেলেছেন, তা নয়, বরং তাঁরা স্যান্ডেল তৈরি উপযোগী পাটি তৈরি করে তা কাজে লাগিয়েছেন। চৌধুরী খুবাইব বিন করিম বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বেশি সময় ও দক্ষতা লাগে আসলে শীতলপাটির সঠিক পরিমাপ, শেপ, ডিজাইন এবং সাইজিংয়ে। শীতলপাটির নিজস্ব বুনন ও টেক্সচার ঠিক রেখে সেটিকে পায়ের আকৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই ছিল বড় পরীক্ষা। প্রথম তৈরি স্যান্ডেলটিই চূড়ান্ত হয়নি। ব্যবহারিক পরীক্ষা ও ক্রেতাদের মতামতের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে পরিবর্তন এনে বর্তমান নকশায় পৌঁছেছি আমরা।’ এখন উদ্যোক্তারা শীতলপাটির স্যান্ডেল বিক্রি করছেন ৬৫০ টাকায়।
বাজারও যাচাই করছেন চার শিক্ষার্থী। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হাল্ট প্রাইজ প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছে ‘বুনন বাজার’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্টারপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্ট ক্লাব আয়োজিত একটি প্রতিযোগিতায়ও সেরা ৮-এ জায়গা করে নিয়েছেন তাঁরা। সেখানে আকিজ রিসোর্সেসের পৃষ্ঠপোষকতায় চারজনই পেয়েছেন ইন্টার্নশিপের সুযোগ। কদিন আগে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারেও তাঁদের উদ্যোগ প্রদর্শিত ও প্রশংসিত হয়েছে। এই যাত্রায় অর্থায়নের পাশাপাশি আর্থ সোসাইটির মেন্টরশিপ (পরামর্শ) ও ব্যবসায়িক দিকনির্দেশনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখন পণ্যের মান বজায় রেখে উৎপাদনের খরচ কমানো, মান বাড়ানো ও ক্রেতাদের হাতে পৌঁছে দেওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ।
সামনের পরিকল্পনা তাই শুধু স্যান্ডেলেই আটকে নেই। ব্যাগ, ঘর সাজানোর উপকরণসহ নানা পণ্য তৈরির কথা ভাবছেন তাঁরা। ভবিষ্যতে আরও মানুষ যুক্ত করে প্রশিক্ষিত কারিগরদের একটি দল এবং ক্লাস্টারভিত্তিক উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও আছে। চৌধুরী খুবাইব বিন করিম বলেন, ‘আমাদের স্বপ্ন ঐতিহ্যকে শুধু সংরক্ষণ করা নয়, বরং একে নতুনভাবে বাঁচিয়ে রাখা।’