মানিকগঞ্জ সদরে স্ত্রী ও দেড় বছরের শিশুকন্যাসহ সৌদি আরবপ্রবাসী একরাম হোসেনের (৪২) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। মৃৃত একরামকেই এ মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে একরাম, তার দ্বিতীয় স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা আক্তার (২৫) ও মেয়ে আলিজা নূরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) নিহত প্রিয়াঙ্কার বড় বোন মিশু বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলায় একরামকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। একই ঘটনায় একরামের মা তাহমিনা বেগম বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা করেন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, একরাম প্রথমে স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে হত্যা করেন। পরে স্ত্রীর ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস নিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এতে অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রিয়াঙ্কাকে ঘিরে একরামের দাম্পত্য জীবনে মনোমালিন্য ছিল বলে এলাকায় আলোচনা ছিল। স্ত্রীর সঙ্গে অন্য কারও সম্পর্ক এবং শিশুকন্যার পিতৃত্ব নিয়েও স্থানীয়ভাবে নানা কথা প্রচলিত রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের কোনোটি এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
প্রিয়াঙ্কার বাবা মোহাম্মদ মহসিন খান দাবি করেন, তার মেয়ের সঙ্গে একরামের কোনো দাম্পত্য বিরোধ ছিল না। ঘটনার সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যরা জড়িত থাকতে পারেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। প্রিয়াঙ্কার ভাই ইয়াসিন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিপ্লব হোসেন সেলিম বলেন, আমি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আছি। ঘটনার খবর পেয়েছি।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, ঘটনার নিবিড় তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
তিনি জানান, তিনজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলের আলামত, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের তথ্য বিশ্লেষণ করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মৃত একরামের নামে মামলা গ্রহণের বিষয়ে ওসি বলেন, স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার সময় তিনি জীবিত ছিলেন। তাই আইন অনুযায়ী তার নামে মামলা করা হয়েছে। পরবর্তীসময়ে তার মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
মো. সজল আলী/কেএইচকে
