
একের পর এক বল ঠেকিয়ে বোলারদের ক্লান্ত করে ছাড়াই ছিল চেতেশ্বর পুজারার সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা। তার বিপক্ষে ভোগান্তিতে পড়ার অভিজ্ঞতা আছেন প্যাট কামিন্সেরও। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়কের কাছে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ ছিলেন পুজারা।
প্রাইম ভিডিও স্পোর্টসের একটি প্রচারণামূলক ভিডিওতে কামিন্সকে তার মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষদের নাম বলতে বলা হয়। ভারত, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ- প্রতিটি দেশ থেকে একজন করে ক্রিকেটার বেছে নিতে হয় তাকে। যাদের কেউই এখন খেলছেন না।
সেখানেই পুজারার কথা বলেন কামিন্স। ভারতীয় টেস্ট দলের ব্যাটিং লাইনআপের স্তম্ভ ছিলেন পুজারা। তাকে আউট করা কতটা কঠিন বেশ ভালো করেই জানেন কামিন্স। ২০১৮-১৯ ও ২০২০-২১ বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে অস্ট্রেলিয়াকে যে ভীষণ ভোগান ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান পুজারা।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৫টি টেস্ট খেলেছেন পুজারা। ৪৯.৩৮ গড়ে রান করেছেন ২ হাজার ৭৪। পাঁচটি সেঞ্চুরির সঙ্গে ফিফটি করেছেন ১১টি, সর্বোচ্চ ইনিংস ২০৪ রানের।
ক্যারিয়ারে ১৩ টেস্টে পুজারার মুখোমুখি হন কামিন্স। এই ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে তৃতীয় সফল বোলার তিনি। পুজারাকে আটবার আউট করার অভিজ্ঞতা আছে তার। তবুও ভারতীয়দের মধ্যে পুজারাকেই আউট করা তার কাছে ছিল সবচেয়ে কঠিন।
“ভারত থেকে আমি পুজারার কথা বলব। তাকে আউট করা সত্যিই কঠিন। যেন হাজারটা ছোট আঘাতে ধীরে ধীরে শেষ করে দিত। সে চাইলে ১০০টি ডট বলও খেলতে পারতো। কোনো সুযোগই না দিয়ে।”
গত বছর সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন পুজারা। ভারতের হয়ে ১০৩টি টেস্টে ৪৩.৬ গড়ে ৭ হাজার ১৯৫ রান করেছেন তিনি। সেঞ্চুরি ১৯টি ও ফিফটি ৩৫টি। এ ছাড়া ভারতের হয়ে পাঁচটি ওয়ানডে খেলে করেছেন ৫১ রান।
নিউ জিল্যান্ডের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে ইংল্যান্ডের সাদা বলের বর্তমান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নাম বলেছেন কামিন্স।
“নিউ জিল্যান্ড থেকে ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে বেছে নেব। তার বিপক্ষে কয়েকবার খেলেছি, যখন তিনি ইনিংসের শুরু থেকেই খুব আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতেন।”
পাকিস্তানের বিপক্ষে বাবর আজম, শাহিন শাহ আফ্রিদি ও হারিস রউফের মতো ক্রিকেটারদের মুখোমুখি হয়েছেন কামিন্স। তবে তার কাছে সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ ছিলেন সাঈদ আজমল।
“পাকিস্তানের সাঈদ আজমল। একবার ওভারের শেষ বলে আমি ব্যাটিংয়ে নামলাম। সাঈদ আজমল বল করল, আর আমি ভাবলাম, এ কী! বোল্ড হয়ে গেলাম। এমন কিছু আগে কখনো দেখিনি।”
ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে যথাক্রমে অ্যালেস্টার কুক, এবি ডি ভিলিয়ার্স, তিলাকারাত্নে দিলশান ও ক্রিস গেইলকে বেছে নিয়েছেন কামিন্স।