
বাংলাদেশের সমুদ্রসম্পদের টেকসই ব্যবহার, সমুদ্রবিজ্ঞান চর্চা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ১৯৭১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের প্রথম সমুদ্রবিজ্ঞানবিষয়ক উচ্চশিক্ষার যাত্রা শুরু হয় ‘মেরিন বায়োলজি’ বিভাগের মাধ্যমে। পরে ১৯৮৩ সালে বিভাগটির কলেবর বৃদ্ধি পেয়ে এটি ‘ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস’ নামে একটি স্বতন্ত্র শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে রূপান্তরিত হয়। প্রতিষ্ঠার ৫০ বছরে, এই ইনস্টিটিউট আধুনিক সমুদ্রশিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের গঠন ও গতিপ্রকৃতি, মত্স্য ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনা ও চাষ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উপকূলীয় জীবনমান–সম্পর্কিত নতুন জ্ঞান সৃষ্টিতে একটি ‘সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ হিসেবে অবদান রেখে চলেছে। তৎসম্পর্কিত জ্ঞান বাংলাদেশের সুনীল অর্থনীতির লক্ষ্য নির্ধারণ ও সক্ষমতা অর্জনে নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, যা নিম্নে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
১. দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি
সমুদ্রসম্পদের ধরন, মজুত নিরূপণ, আহরণ, সুষ্ঠু ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনাবিষয়ক বহুমুখী জ্ঞান অর্জন ও তার ব্যবহারিক প্রয়োগের উদ্দেশ্যে যুগোপযোগী পাঠ্যসূচি প্রণয়ন এবং গবেষণার মাধ্যমে এই ইনস্টিটিউট দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে আসছে। অত্র ইনস্টিটিউট ‘মেরিন সায়েন্স’ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি ও সমুদ্রবিজ্ঞান–সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়ে (মেরিন সায়েন্স, মেরিন ফিশারিজ, অ্যাকুয়াকালচার, সামুদ্রিক পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, ফিশ নিউট্রিশন অ্যান্ড ফিড টেকনোলজি, সি-ফুড টেকনোলজি ইত্যাদি) স্নাতকোত্তর (এমএস, এমফিল, পিএইচডি) ডিগ্রি প্রদান করে থাকে।
প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এই ইনস্টিটিউট নানা স্তরের সমুদ্রবিষয়ক জ্ঞানচর্চা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম সহস্রাধিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করেছে, যারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান (বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ইনস্টিটিউট ইত্যাদি), সরকারি মন্ত্রণালয়/অধিদপ্তর (মত্স্য অধিদপ্তর, বন ও পরিবেশ অধিদপ্তর, নৌপরিবহন অধিদপ্তর ইত্যাদি), বাংলাদেশ নৌবাহিনী (হাইড্রোগ্রাফি শাখা) ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি) এবং দাতা সংস্থা/এনজিওসহ (এফএও, ইউএনডিপি, ওয়ার্ল্ড ফিশ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ইত্যাদি) নিজ দেশ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সমুদ্রবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছে।