• সোম. সেপ্টে. 14th, 2026

মুরসিদের গ্রামে, ওমো ভ্যালির পথে

Bytrendnews

সেপ্টে. 14, 2026


সবুজ পাহাড়, পাখি, ফুল দেখতে দেখতে আমরা মুরসি নৃগোষ্ঠীর গ্রামে চলে এলাম। এই গ্রামগুলোতে ঢোকার শর্ত হলো, গ্রামের প্রধানকে কিছু টাকা উপঢৌকন হিসেবে দেওয়া। আমি প্যাকেজ ট্যুরে এসেছি। উপঢৌকনের টাকা ইত্যাদি সবই আমার প্যাকেজের মধ্যে পড়ে, টাকাপয়সা ট্যুর অপারেটরকে দিয়ে এসেছি। আমার গাইড এখন এসব দেখবে।

ওমো ভ্যালির জনগোষ্ঠী এখনো যেন প্রাগৈতিহাসিক যুগে বসবাস করে। এরা নিজেদের শস্য নিজেরাই উৎপাদন করে, পশুপালন করে, নিজেদের পোশাক নিজেরা তাঁতে বোনে। একসময় কেউ পোশাক পরত না। এখন নিম্নাঙ্গে পোশাক পরে।

গ্রামে প্রবেশ করতেই দেখি একদল পুরুষ চট বিছিয়ে পাশাপাশি বসে আছে। এদের নিম্নাঙ্গ এক খণ্ড কাপড় দিয়ে আবৃত। দু–একজন অবশ্য পুরোনো ময়লা শার্ট গায়ে দিয়েছে। এদের গায়ের রং সাধারণ ইথিওপিয়ানদের চেয়েও কৃষ্ণবর্ণ। কারও কারও গলায় পুঁতির মালা, হাতে পুঁতির ব্রেসলেট।

এদের গ্রামপ্রধান তুলনামূলকভাবে বয়স্ক ব্যক্তি। আমি তাদের কাছে যেতে ভয় পাচ্ছিলাম, যদি তারা বিরক্ত হয়। তারা তাদের নিজস্ব জগৎ, নিজস্ব আচার-ব্যবহার নিয়ে বেশ আছে। আমরা বাইরের লোকেরা গিয়ে তাদের জীবনযাপনে ব্যাঘাত ঘটাই।

মেলাক বলার পর তাদের সঙ্গে গিয়ে বসলাম। তাদের জীবনযাপন এতটাই আলাদা যে কীভাবে কথোপকথন শুরু করব, বুঝে উঠতে পারছিলাম না। মুরসি নৃগোষ্ঠীর প্রধান এই গ্রামের ছোট-বড় সিদ্ধান্ত নেয়। এদের নিজস্ব ধর্ম আছে, ঈশ্বর আছে। মূলত প্রকৃতিই এদের ঈশ্বর। ঈশ্বরের নাম তুমউই। এরা মনে করে সে আকাশে থাকে এবং মুরসি নৃগোষ্ঠীর চেয়ে শক্তিমান।

গ্রামপ্রধানকে জিজ্ঞেস করলাম, সে কখন আনন্দিত হয়। উত্তর এল, পশুর সংখ্যা বাড়লে সে আনন্দিত হয় এবং আরও একটা সময় আনন্দিত হয়, যখন সে কয়েকটি বিয়ে করতে পারে। বর্তমান গ্রামপ্রধানের দুজন স্ত্রী। মুরসি সমাজে পুরুষের একাধিক বিয়ে প্রচলিত বলে জানাল মেলাক।



Source link

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।