
প্রতিটি ঘর পূরণের সময় শিশুদের মস্তিষ্ককে যৌক্তিক বিন্যাস বা লজিক্যাল প্যাটার্ন খুঁজতে হয়। এর ফলে নিউরনগুলোর মধ্যে নতুন সংযোগ তৈরি হয়। নিয়মিত সুডোকু চর্চা করলে মস্তিষ্কের নমনীয়তা (কগনিটিভ ফ্লেক্সিবিলিটি) বৃদ্ধি পায়। একসঙ্গে একাধিক সম্ভাবনা নিয়ে ভাবার ক্ষমতা তৈরি হয়।
শিশুদের জীবনে সুডোকুর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। ফাতিমা বলেন, প্রথমত, এটি তাদের একাগ্রতা ও মনোযোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সংখ্যা নিয়ে খেলার সময় সামান্য অমনোযোগিতা পুরো সমাধান বদলে দেয়। ফলে শিশুরা ধৈর্য ধরতে শেখে এবং নিখুঁতভাবে কাজ সম্পন্ন করার অভ্যাস গড়ে ওঠে। দ্বিতীয়ত, এটি কার্যকর স্মৃতিশক্তি বা ওয়ার্কিং মেমোরি উন্নত করে। কোন সংখ্যাটি কোথায় বসবে, তা মনে রাখার প্রক্রিয়াটি মস্তিষ্কের তথ্য ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ায়। তৃতীয়ত, সুডোকু শিশুদের মধ্যে হতাশা কাটিয়ে জয়ের আনন্দ এনে দেয়। জটিল একটি পাজল সমাধান করার পর মস্তিষ্কে ডোপামিন হরমোন নিঃসৃত হয়। এটি শিশুদের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি করে। গণভীতি দূর করতেও এই লজিক গেম দারুণ কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
সুডোকু খেললে সংখ্যার প্রতি একধরনের ভীতি শিশুদের মন থেকে দূর হয়ে যায়। ডিজিটাল পর্দার আসক্তি থেকে শিশুদের দূরে রাখতে সুডোকু অত্যন্ত কার্যকর। এটি বিনোদনের পাশাপাশি মস্তিষ্কের নিখাদ ব্যায়াম নিশ্চিত করে। এই খেলা শিশুদের বুদ্ধিদীপ্ত ও আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। শৈশব থেকেই সুডোকুর অভ্যাস শিশুদের একটি তীক্ষ্ণ ও পরিপক্ব মানসিক কাঠামো উপহার দেয়।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস