• বুধ. সেপ্টে. 30th, 2026

ইরাক ছাড়ছে মার্কিন বাহিনী: শিয়া মিলিশিয়া ও আইএসের পুনরুত্থানের শঙ্কা

Bytrendnews

সেপ্টে. 30, 2026


ইরাকের শেষ ঘাঁটিগুলো থেকেও নিজেদের সমস্ত সৈন্য চূড়ান্তভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে মার্কিন বাহিনী।

সাড়ে চার হাজার আমেরিকান সৈন্যের প্রাণহানির পর দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধের সমাপ্তিকে নিজেদের রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে উদযাপন করছে তেহরান ও তার আঞ্চলিক মিত্ররা।

তবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ফলে দেশটিতে বড় ধরনের নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এতে ইরান সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়াদের প্রভাব আরও বৃদ্ধির পাশাপাশি কট্টরপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) নতুন করে সংগঠিত হওয়ার পথ সুগম হতে পারে বলে আশঙ্কা অনেকের।

২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের এই চুক্তি হলেও ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক লড়াই জারি রাখার মধ্যেই চূড়ান্তভাবে এই বিদায় সম্পন্ন করছে।

২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হামলায় তৎকালীন শাসক সাদ্দাম হোসেনের পতনের ২৩ বছর পর সম্পূর্ণ হচ্ছে এই সেনা প্রত্যাহার। সাদ্দামের পতনের পর কয়েক বছরের সহিংসতা ও গৃহযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে উদয় হয়েছিল জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের।

প্রতিবেশী দেশ থেকে আমেরিকান সেনা প্রত্যাহারের দিনটিতে ইরানের ইসলামি রিভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) মার্কিন জনগণকে আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন কংগ্রেসে ট্রাম্পের সহযোগীদের ভোট না দেয়।

মার্কিন বাহিনীর প্রস্থানের ইরাকের সাধারণ মানুষের সমর্থন থাকলেও অনেকেই নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, আমেরিকার প্রশিক্ষণ ও অর্থায়নে পরিচালিত ইরাকি বাহিনী এখনো এককভাবে পুরো দেশের সুরক্ষা দিতে প্রস্তুত নয়।

ইরাকি নিরাপত্তা উপদেষ্টা জসিম আল-বাহাদলি বলেন, “গত দুই দশকের শিক্ষা হলো, নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি হওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।”

২০০৩ সালে আগ্রাসনের পর ইরাক দখল করে শিয়া নেতৃত্বাধীন সরকার বসায় যুক্তরাষ্ট্র। প্রথমে সাদ্দাম সমর্থক ও পরবর্তীতে আল কায়েদার সশস্ত্র বিদ্রোহ ও রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত হয় দেশটি। পরবর্তীতে ২০১১ সালের শেষে প্রথম দফায় সেনা প্রত্যাহার করে ওয়াশিংটন।

তবে তিন বছরের কম সময়ের মধ্যে সুন্নি মিলিশিয়া গোষ্ঠী আইএসের উত্থান ঘটলে তাদের দমনে ২০১৪ সালে আবারও ইরাকে সেনা পাঠায় মার্কিন প্রশাসন। ২০১৭ সাল পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আইএসকে পরাজিত করা হয়।

আফগানিস্তানের সমান্তরাল যুদ্ধের তুলনায় (যা ২০২১ সালে মার্কিন বাহিনীর আকস্মিক প্রত্যাহারের মাধ্যমে শেষ হয়েছিল) ইরাক যুদ্ধ বা ‘অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম’এ প্রায় দ্বিগুণ মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়।

চলতি বছর ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে নিহত ১৮ জন মার্কিন সেনার মধ্যে ৭ জন ইরাকে প্রাণ হারিয়েছেন। যার সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছিল গত জুলাইয়ে এরবিলের কাছে এক ঘাঁটিতে নিয়ন্ত্রিত ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরণে।

পুরো পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন বাহিনী হটিয়ে দেওয়াকে নিজেদের মূল লক্ষ্য দাবি করা ইরান এই সেনা প্রত্যাহারকে তাদের ‘প্রতিরোধের অক্ষের’ বড় জয় হিসেবে দেখছে।

বাগদাদভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক আহমেদ ইউনুস মনে করেন, “ইরানের সরাসরি হস্তক্ষেপের চেয়েও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, পশ্চিমা সামরিক উপস্থিতির অনুপস্থিতিতে ইরানের প্রক্সি বা মিত্র গোষ্ঠীগুলো নিজেদের আরও শক্তিশালী ভাববে। এসব গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ ও মূল প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার চেষ্টা করতে পারে।”

প্রায় এক দশক আগে আইএসের খেলাফতের পতন হলেও দলটির স্লিপার সেল এখনো সক্রিয় রয়েছে।

একসময়ে ইরাকের এক তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড দখল করে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছিল আইএস। এমনকি সাবেক এক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে শত শত মানুষকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যার দৃশ্য তারা নিজেরা ভিডিও করে প্রচার করেছিল।

এতদিন ধরে মার্কিন সেনারা ইরাকি বাহিনীকে আইএসের গতিবিধি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য, আকাশপথের নজরদারি ও বিমান সহায়তা দিয়ে আসছিল।

মার্কিন সহায়তার অনুপস্থিতিতে আইএস নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইরাকি সামরিক কর্মকর্তারা।

আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে একটি ব্রিগেডের নেতৃত্ব দেওয়া অবসরপ্রাপ্ত ইরাকি জেনারেল মোহাম্মদ আল-জুবুরি বলেছেন, “জোটবাহিনী চলে যাওয়ার পর ইরাকের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো ‘প্ল্যান বি’ প্রস্তুত করেছে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে যদি ইরাকের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আইএস অস্ত্রসজ্জিত ড্রোন বা বিস্ফোরকভর্তি ড্রোন হাতে পায় এবং আক্রমণ শুরু করে।”

পুরানো খবর:


ইরাকের তেল বিক্রির অর্থ যেভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র



Source link

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।