
তবে কাঁঠাল অতি পচনশীল ফল। তাই উৎপাদিত ফলের বড় অংশ পচে নষ্ট হয়। কাঁঠালের জাতের মধ্যে অনেক বৈচিত্র্য রয়েছে। কিন্তু কাঁঠাল শুধু এক মৌসুমের ফল। সব মিলিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত কাঁঠালের কোনো বাণিজ্যিক চাষাবাদ শুরু হয়নি।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, কাঁঠাল অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফল। বারোমাসি কাঁঠালের পূর্ণাঙ্গ জীবনরহস্য উন্মোচিত হওয়ায় জৈবপ্রযুক্তির মাধ্যমে নানা স্বাদের ও বৈশিষ্ট্যের নতুন নতুন কাঁঠালের জাত উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া দেশে কাঁঠালের বাণিজ্যিক চাষাবাদ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বিকাশে এই উদ্ভাবন সহায়ক হবে।
বারোমাসি কাঁঠালের ‘জিনোম সিকোয়েন্স’ বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত ‘ইলুমিনা সিকোয়েন্সিং প্ল্যাটফর্ম’ ব্যবহার করে বারোমাসি কাঁঠালের ‘জিনোম সিকোয়েন্স’ করেছেন তাঁরা।
কাঁঠালের জিনোম আকার ১ দশমিক শূন্য ৪ গিগাবেজ জোড়া। বায়ো–ইনফরমেটিকস বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা কাঁঠালের জিনোমে ফলের বৈশিষ্ট্য এবং বারোমাস ফল উৎপাদনকারী জিন ও ডিএনএ সিকোয়েন্সের স্বাতন্ত্র্য খুঁজে পেয়েছেন। এটি কাঁঠালের জিন প্রকৌশল বা মলিকুলার ব্রিডিংয়ে সহায়ক হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
গবেষক দলটি বলছে, এই গবেষণায় কাঁঠালের মধ্যে বিশাল বৈচিত্র্য ও বারোমাস ফল উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কিত জিনগুলো শনাক্ত হয়েছে। গবেষণার ফলাফল জৈবপ্রযুক্তির মাধ্যমে বারোমাসি কাঁঠালের নতুন নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জাত উদ্ভাবনে সহায়ক হবে। কাঁঠালের বাণিজ্যিক চাষের জন্য বারোমাসি ও ফলের নানা বৈশিষ্ট্যের জাত প্রয়োজন, যা কাঁঠালভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বিকাশের পূর্বশর্ত।
কাঁঠালের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স ডাটা, যা গবেষকেরা জিন ব্যাংকে জমা দিয়েছেন, তা ভবিষ্যৎ জৈবপ্রযুক্তিবিষয়ক গবেষণায় বিশেষভাবে কাজে লাগবে।
গবেষণা দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন অ্যান্ড্রু শার্প। তিনি গ্লোবাল ইনস্টিটিউট ফর ফুড সিকিউরিটির গবেষক। অ্যান্ড্রু শার্প বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল নিয়ে মলিকুলার পর্যায়ে গবেষণা হয়নি। এটি পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ফল। বাংলাদেশে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো একটি বারোমাসি জাতের কাঁঠালের জিনোম সিকোয়েন্স ও সম্ভাব্য জিনের শনাক্তকরণ কাঁঠালের গবেষণায় এক নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে।