• রবি. সেপ্টে. 20th, 2026

অপ্রতিমের মৃত্যু: অভিভাবকদের আরও সতর্ক হতে বললেন রাশেদ খাঁন

Bytrendnews

সেপ্টে. 20, 2026


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনার পর অভিভাবকদের আরও সতর্ক হওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন।

রোববার এক ফেইসবুক পোস্টে তিনি বলেন, “সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে, তার বন্ধু সার্কেল কেমন, সেটার খোঁজখবর রাখা আমাদের প্রত্যেক বাবা-মায়ের দায়িত্বও বটে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার একমাত্র সন্তান অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড সেটি আমাদের আরও স্মরণ করিয়ে দেয়।”

গত শুক্রবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে অপ্রতিম মায়ের আইফোন নিয়ে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়।

একদিন পর তার লাশ মেলে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সানন্দা পাহাড়ে। ওই ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

রাশেদ খাঁন তার পোস্টে বলেন, “যে ৩ জন ঘাতককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, তারা এলাকায় কিশোরগ্যাং হিসেবে পরিচিত। সিসিটিভি ফুটেজ থেকে পরিলক্ষিত হয় যে, হত্যাকাণ্ডের শিকার অপ্রতিম ঘাতক তুহিনের সাথে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হাঁটাচলা করছে।”

রাশেদ বলেন, “আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, অপ্রতিম একটু সিনিয়র ক্লাসের বন্ধুদের সাথে মিশতে পছন্দ করত। সেই জায়গা থেকে তুহিনদের সাথে যোগাযোগ তৈরি হয়।

“আমরাও ছোটবেলায় এলাকার বড় ভাইদের সাথে ওঠাবসা করেছি। কিন্তু এলাকার খারাপ ছেলেদের থেকে সবসময় দূরে থাকার চেষ্টা করেছি। এক্ষেত্রে বাবা-মায়ের শাসন ও নৈতিক নির্দেশনাও বড় একটি ব্যাপার ছিল।”

সব এলাকাতেই তুহিনদের মত কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “ফেইসবুকে চটকদার ছবি, সিনেমাটিক ভিডিও প্রকাশ করে এরা অল্পবয়স্ক তরুণদের মধ্যে আকর্ষণ তৈরি করে সার্কেলে ভেড়াতে চেষ্টা করে।

“গণমাধ্যমের খবরে এসেছে, আইফোনের লোভে ছবি তোলার কথা বলে এরা শিশু অপ্রতিমকেও বিভ্রান্ত করে ঘর থেকে বের করে আনে। বাবা-মায়ের কর্মব্যস্ততায় হয়ত শিশুটির যে এদের সাথে যোগাযোগ তৈরি হয়েছে, সেটি বুঝে উঠতে পারেনি।”


Image

রাশেদ খাঁন

তবে অপ্রতিমের নির্মম হত্যাকাণ্ড কিশোর গ্যাং ‘নির্মূলের’ প্রয়োজনীয়তার বার্তা দেয় বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী।

তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলব, এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। নতুবা আগামীকাল আপনার আমার সন্তানের পরিণতিও অপ্রতিমের মতো হতে পারে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এ ঘটনায় দায় দিলেও অন্য বাস্তবতাও মনে করিয়ে দেন রাশেদ খাঁন।

তিনি বলেন, “সব ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়ী করতে পারেন, যেহেতু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি বর্তমান বিরোধীদলের দেশব্যাপী নিত্য নতুন কর্মসূচির নিরাপত্তা দিতে ব্যস্ত থাকবে, নাকি ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের অপতৎপরতা রোধে মনোযোগ দিবে, নাকি সামাজিক অপরাধ বন্ধে বেশি গুরুত্ব দেবে? কোথায় অগ্রাধিকার থাকা দরকার?

“কারণ জনসংখ্যার অনুপাতে তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের সংখ্যা বাংলাদেশে পর্যাপ্ত নয়, আর ১৬ বছরে বাহিনীগুলোকে দলীয়করণ করার অপচেষ্টার ইতিহাসও কারও অজানা নয়।”

বিরোধী দলের সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, “যেখানে বিরোধীদলের দায়িত্ব ছিল ১৬ বছর ধরে তৈরি হওয়া জঞ্জাল, অপসংস্কৃতি, অপরাধ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দমনে সরকারকে সহযোগিতা করা, কিন্তু উল্টো অসহযোগিতার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক করে ক্ষমতায় যেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।”

দেশের বিভিন্ন স্থানে হাতবোমা, ককটেল বিস্ফোরণের জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে রাশেদ বলেন, “আওয়ামীলীগ ছাত্রলীগ বাসে আগুন দিচ্ছে, ককটেল মারছে, আবার জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধীদল ১ দফার হুমকি দিয়ে রাজপথ গরম করছে।

“অর্থাৎ বিএনপি সরকারকে একসাথে দুইটা বিরোধীদলের অপতৎপরতা সামলিয়ে দেশ চালাতে হচ্ছে। এটা সরকার ও রাষ্ট্রের জন্য বড় একটা চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে সরকারকে সহযোগিতার বিকল্প নেই।”



Source link

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।