
আফ্রিকার দেশ মৌরিতানিয়া থেকে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে বাংলাদেশিদের পাঠানোর অভিযোগে একটি মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে স্পেনে বিচার শুরু হয়েছে। ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর কথা বলে বাংলাদেশিদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১৩ হাজার ইউরো করে নিত চক্রটি।
তবে ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার বদলে তাদের আটলান্টিক মহাসাগরে ছোট নৌকা বা রাবারের নৌকায় তুলে দেওয়া হতো। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফ্রিকার মানবপাচার চক্রগুলো তাদের অনিয়মিত অভিবাসন ব্যবসা এশিয়ায় সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে। এই প্রবণতা মোকাবিলায় স্পেনের পুলিশ মৌরিতানিয়ার জন্দারমেরি বা আধা-সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে। কয়েক মাস ধরে ক্যানারির এল হিয়েরো ও লানজারোতে আসা নৌকাগুলোতেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়।
এসব নৌকায় শুধু মালি, সেনেগাল বা গাম্বিয়ার নাগরিকরাই ছিলেন না, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নাগরিকরাও ছিলেন। এই ধরনের একটি বড় অভিযানের মাধ্যমে ভেঙে দেওয়া একটি মানবপাচারকারী চক্রের মামলার একটি অংশের বিচার বুধবার (১৬ আগস্ট) লাস পালমাস আদালতে শুরু হয়েছে। এই চক্রটির নেতৃত্বে ছিলেন ‘মাস্টারমাইন্ড’ নামে পরিচিত এক বাংলাদেশি নাগরিক। মৌরিতানিয়ায় তার একাধিক রেস্তোরাঁ ছিল।
৫২ বছর বয়সী মোহামেদ এসএসকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মৌরিতানিয়ার কর্তৃপক্ষ স্পেনের কাছে হস্তান্তর করে। স্পেনের পুলিশ তাকে ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মৌরিতানিয়া, সাহারা ও মরক্কো থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের উদ্দেশে ৭৩টি নৌযান পাঠানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। এসব নৌযানে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ মানুষ ছিলেন। এছাড়া সমুদ্রে আরও ১৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তৎকালীন পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, চক্রটির হাতে থাকা অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর পর স্পেনের কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন, চক্রের সদস্যরা তাদের ওপর সহিংসতা চালাতেন এবং নির্ধারিত অর্থের বাইরে আরও টাকা আদায়ের জন্য তাদের ভয়ভীতি দেখাতেন।
