• শনি. সেপ্টে. 19th, 2026

ই-কমার্সের অর্ডার নেবে ‘এআই’, বলে দেবে পণ্যের মজুত

Bytrendnews

সেপ্টে. 19, 2026


ই-কমার্স ও এফ-কমার্স ব্যবসায় গ্রাহকের প্রশ্নের উত্তর দিতে এখন আর মানুষের প্রয়োজন হবে না। শুধু উত্তর নয়, অর্ডার নেওয়া থেকে শুরু করে পণ্যের মজুত, কুরিয়ার নির্বাচন ও ব্যবসার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্ল্যাটফর্ম ‘অমনিস্ট্রা’।

প্রচলিত চ্যাটবটের মতো নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাংলা, ইংরেজিসহ কয়েকটি ভাষা ও ভয়েস বিশ্লেষণ করেও যোগাযোগ করতে পারবে ক্রেতা ও গ্রাহকের সঙ্গে। এই প্ল্যাটফর্মটি চালু করেছেন দেশীয় পাঁচ উদ্যোক্তা। এরই মধ্যে দেশের দুটি এফ-কমার্স প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চলছে পাইলটিং। পরীক্ষামূলক ব্যবহারে এখন পর্যন্ত ভালো সাড়া পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন এর উদ্যোক্তারা।

দুই প্রতিষ্ঠানে চলছে পাইলটিং

অমনিস্ট্রার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আজমল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘বর্তমানে ‘ইউ অ্যান্ড স্কিন’ ও ‘স্টার কিডস এরিনা’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানে তাদের সেবা পরীক্ষামূলকভাবে চলছে। এর মধ্যে ইউ অ্যান্ড স্কিন ফেসবুক ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে স্কিন কেয়ার পণ্য বিক্রি করে। অন্যদিকে স্টার কিডস এরিনা শিশুদের জন্য কাঠ ও বিপিএফমুক্ত প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের খেলনা ও প্রাথমিক শেখার পণ্য বিক্রি করে।’

আজমল হোসেন বলেন, ‘আমরা আপাতত তাদের সঙ্গে আমাদের সার্ভিস শুরু করেছি। দুটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই সিস্টেমটি ঠিকভাবে চলছে। তাদের অর্ডারগুলো এখন আর মানুষ দিয়ে হ্যান্ডেল করতে হচ্ছে না।’

তার দাবি, পরীক্ষামূলক ব্যবহারে এখন পর্যন্ত সাড়া ভালো। তবে বাস্তব ব্যবহারে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। বিশেষ করে ভাঙা বা অস্পষ্ট বাংলায় গ্রাহকের লেখা বুঝতে কখনো কখনো সমস্যা হয়।

যে প্রতিষ্ঠান আমাদের সার্ভিস কিনবে, সিস্টেম চলাকালীন কোনো ত্রুটি সঙ্গে সঙ্গে সমাধান করে ফেলা সম্ভব। যে সব সমস্যা একবার বের হয় সেটা সলভ হয়ে গেলে পরবর্তীসময়ে আর সেটা হয় না। আমরা যত বেশি সার্ভিস দেবো সিস্টেম তত বেশি নির্ভুল হবে।-অমনিস্ট্রার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আজমল হোসেন

আজমল বলেন, ‘যে প্রতিষ্ঠান আমাদের সার্ভিস কিনবে, সিস্টেম চলাকালীন কোনো ত্রুটি সঙ্গে সঙ্গে সমাধান করে ফেলা সম্ভব। যে সব সমস্যা একবার বের হয় সেটা সলভ হয়ে গেলে পরবর্তীসময়ে আর সেটা হয় না। আমরা যত বেশি সার্ভিস দেবো সিস্টেম তত বেশি নির্ভুল হবে।’

শুধু চ্যাটবট নয়, পুরো বিক্রি প্রক্রিয়ায় এআই

অমনিস্ট্রার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, কোনো ব্যবসা তাদের পণ্যের তালিকা, পণ্যের বিবরণ, মজুতের পরিমাণ ও বিক্রয়সংক্রান্ত নীতিমালা সিস্টেমে যুক্ত করে দেবে। এরপর ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম বা ওয়েবসাইটে কোনো গ্রাহক যোগাযোগ করলে এআই এজেন্ট সেই তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর দেবে। গ্রাহক কী পণ্য চান, কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, দাম বা অন্য তথ্য জানতে চাইলে সিস্টেমটি সে অনুযায়ী উত্তর দিতে পারবে। এমনকি প্রয়োজন হলে পণ্যের ছবিও পাঠাতে পারবে।

আজমল হোসেন বলেন, ‘আমাদের সিস্টেম একটা ওয়ার্কফোর্সের মতো। শুধু ১০টি প্রশ্নের জন্য ১০টি উত্তর সেট করে দেওয়া নেই। গ্রাহক কী জানতে চাইছেন, সেটি বুঝে পরিস্থিতি অনুযায়ী উত্তর দেওয়ার জন্য সিস্টেমটি তৈরি করা হয়েছে।’

অর্ডারের সঙ্গে আপডেট হবে মজুত

অমনিস্ট্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার হলো ইনভেন্টরি বা পণ্যের মজুত ব্যবস্থাপনা। ব্যবসায়ী কোনো পণ্যের মজুতের সংখ্যা সিস্টেমে দিয়ে রাখলে বিক্রির সঙ্গে সঙ্গে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যাবে।

অর্থাৎ, কোনো পণ্যের মজুত ৫০টি থাকলে পাঁচটি বিক্রি হওয়ার পর সিস্টেমে সেটি ৪৫টি দেখাবে। ফলে মজুত না থাকা পণ্যের অর্ডার নেওয়ার ঝুঁকি কমবে বলে দাবি উদ্যোক্তাদের।

একই সঙ্গে অর্ডারের নাম, ঠিকানা ও অন্য তথ্য কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে পাঠানোর কাজও স্বয়ংক্রিয়ভাবে করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে প্রতিদিন কয়েকশ অর্ডার পাওয়া প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আলাদা অপারেটরের ওপর নির্ভরতা কমবে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।

একইসঙ্গে গ্রাহকের এলাকার পোস্টকোড ও বিভিন্ন সময়ে কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতার তথ্য বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত কুরিয়ার নির্বাচন করার সুবিধাও রাখা হয়েছে অমনিস্ট্রায়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এভাবে কুরিয়ার নির্বাচনের ক্ষেত্রে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া গেলে পণ্য ফেরত আসার হার কমানো সম্ভব হতে পারে। এ ছাড়া বিক্রি, অর্ডার, গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগের সময়, রূপান্তরের হার, গ্রাহক সন্তুষ্টি ও কুরিয়ারের কার্যকারিতাসহ বিভিন্ন তথ্য কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে দেখার সুযোগ থাকবে।

বাংলা, ইংরেজি ও বাংলিশে যোগাযোগ

অমনিস্ট্রা জানায়, ফেসবুক মেসেঞ্জার, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেসে আসা গ্রাহকের বার্তার উত্তর স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া যাবে। বাংলা, ইংরেজি ও বাংলিশ ভাষায় গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে প্ল্যাটফর্মটি।

গ্রাহকের আগের কেনাকাটার ইতিহাস ও আগ্রহ বিশ্লেষণ করে পণ্য সাজেস্ট করার ব্যবস্থাও রয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য পণ্য কেনার পরামর্শ দিয়ে একজন ক্রেতার গড় অর্ডারের পরিমাণ বাড়ানোর সুবিধাও রাখা হয়েছে।

ব্যবহার হচ্ছে একাধিক এআই মডেল

অমনিস্ট্রার পেছনে কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে, তা ব্যবসায়িক গোপনীয়তার কারণে জানাতে চাননি উদ্যোক্তারা। তবে কোন কোন এআই মডেল ব্যবহার করা হচ্ছে, তা জানিয়েছেন আজমল হোসেন।

তিনি বলেন, ‘অমনিস্ট্রার ব্যাকএন্ডে ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক ও গুগলের এআই মডেল ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব মডেলের নতুন সংস্করণ এলে সেগুলো নিজেদের সিস্টেমে যুক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে।’

আজমল হোসেন বলেন, ‘আমরা ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক এবং গুগলের জেমিনাই—এই তিনটি সিস্টেমকে আমাদের এলএলএম হিসেবে ব্যবহার করছি।’

তবে অমনিস্ট্রা নিজে কোনো বড় ভাষা মডেল তৈরি করেছে- এমন দাবি করেননি উদ্যোক্তারা। বরং বিভিন্ন এআই মডেলকে নিজেদের ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করে একটি স্বয়ংক্রিয় ‘ওয়ার্কফোর্স’ তৈরির চেষ্টা করছেন তারা।

মেটার অনুমোদনের দাবি

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের সঙ্গে প্ল্যাটফর্মটির সংযোগের বিষয়ে উদ্যোক্তারা জানান, তারা মেটার ভেরিফায়েড ভেন্ডর হিসেবে কাজ করছেন। আজমল হোসেনের দাবি, মেটার সঙ্গে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের তথ্য সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অমনিস্ট্রার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গ্রাহকের চ্যাট বা তথ্য অন্য কোনো ব্র্যান্ডের কাছে বিক্রি বা শেয়ার করা হবে না। তথ্য আদান-প্রদান ও সংরক্ষণে এনক্রিপশন ব্যবহারের পাশাপাশি প্রতিটি ব্র্যান্ডের তথ্য আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হয়। কোনো প্রতিষ্ঠান সেবা বন্ধ করলে বা তথ্য মুছে ফেলার অনুরোধ করলে ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট তথ্য স্থায়ীভাবে মুছে ফেলার ব্যবস্থা রয়েছে।

এক বছরের গবেষণা, পরে কোম্পানি

অমনিস্ট্রার যাত্রা অবশ্য সাম্প্রতিক নয়। উদ্যোক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির নিবন্ধন হয়েছে প্রায় এক বছর আগে। তবে তারও আগে প্রায় এক বছর ধরে ব্যবসায়িক ধারণা ও বাজার নিয়ে গবেষণা করেছেন তারা।

আজমল হোসেন জানান, প্ল্যাটফর্মটির প্রতিষ্ঠাতা স্বপ্নিল রায় যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ টেলিকমে কাস্টমার সার্ভিসে কাজ করছিলেন। সেখানে গ্রাহকদের সেবা দিতে এ ধরনের একটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের চিন্তা হয়। সেখানে থেকেই এ ধরনের প্রযুক্তি তৈরির ধারণা আসে। তিনি আমাদের সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করলে আমরা এই প্ল্যাটফর্মটি তৈরিতে আগ্রহী হই। এর পরে আমরা কাজ শুরু করি।

তিনি বলেন, ‘চ্যাটজিপিটি বা জেমিনাই শুধু তথ্য জানার জন্য ব্যবহার করার বিষয় নয়। এগুলোকে আরও উন্নত কাজে ব্যবহার করা যায়- এই চিন্তা থেকেই আমাদের আইডিয়াটা আসে।’

দ্বিতীয় ধাপে ভয়েস কল ও সেবা বুকিং

অমনিস্ট্রার পরবর্তী ধাপে ভয়েস কলভিত্তিক কাস্টমার সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

উদ্যোক্তারা জানান, দ্বিতীয় ধাপে ব্যাংক, হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হয়ে এআই ভয়েস কলের মাধ্যমে কাস্টমার সার্ভিস দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং, কনসালটেন্সি, সেলসসহ বিভিন্ন কাজও এআইয়ের মাধ্যমে করানোর লক্ষ্য রয়েছে। এ ছাড়া ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পার্লার, কোচিং সেন্টার ও স্টুডেন্ট কনসালটেন্সির মতো সেবাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের জন্য চ্যাট ও কলের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সুবিধা চালুর কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানের খোলার সময়, ছুটির দিন ও নির্ধারিত নোটিশ পিরিয়ড বিবেচনা করে শুধু প্রকৃত ফাঁকা সময় গ্রাহককে দেখানো হবে। বুকিং নিশ্চিত হলে রেফারেন্স নম্বরসহ সেটি কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে যুক্ত হবে। পরে সেখান থেকেই সময় পরিবর্তন বা বাতিল করা যাবে।

বিনামূল্যে ২০০ ক্রেডিটের ডেমো

নতুন প্ল্যাটফর্মটি ব্যবসায়ীদের ব্যবহারের সুযোগ দিতে ২০০ ক্রেডিটের বিনামূল্যের ডেমো দিচ্ছে অমনিস্ট্রা। এজন্য অগ্রিম ফি, সেটআপ চার্জ বা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক।

উদ্যোক্তারা জানান, বিক্রি ও ব্যবসার পরিধি বাড়লে ভবিষ্যতে অফিসে কার্যক্রম স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

উদ্যোগের সঙ্গে যারা

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী স্বপ্নিল রায়ের নেতৃত্বে অমনিস্ট্রার সঙ্গে সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আজমল হোসেন, সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা আরিনা তাসনিম, সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা সামিউল সাকিব এবং টেক লিড আহাদ আবেদীন ফারদিন যুক্ত রয়েছেন।

স্বপ্নিল রায়, মো. আজমল হোসেন, আরিনা তাসনিম ও সামিউল ইসলাম

এর মধ্যে স্বপ্নিল রায় ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ার, ইংল্যান্ডে পড়াশোনা করছেন এবং বার-অ্যাট-ল’ কোর্সে রয়েছেন। মো. আজমল হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা বিভাগে মাস্টার্স করছেন। আরিনা তাসনিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন। সামিউল ইসলাম ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগে পড়াশোনা করছেন।

দেশীয় উদ্যোক্তাদের তৈরি এই প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য হিসেবে উদ্যোক্তারা বলছেন- ই-কমার্স ব্যবসায় গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ থেকে অর্ডার ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত নিয়মিত ও সময়সাপেক্ষ কাজগুলোকে এআইয়ের মাধ্যমে এক জায়গায় নিয়ে আসা।

অমনিস্ট্রা ব্যবহার করে ইতিবাচক ফল পাচ্ছেন ফারহানা নীনা

ইউ অ্যান্ড স্কিনের মালিক ফারহানা নীনা জাগো নিউজকে বলেন, ‘অমনিস্ট্রার এআই ব্যবহারের আগে কাস্টমার মেসেজ সামলাতে দুজন কর্মী রাখার প্রয়োজন হতো। কুরিয়ার নির্বাচন ও অর্ডার রাউটিংও করতে হতো আলাদাভাবে। এখন এআই ২৪ ঘণ্টা মেসেজের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি অর্ডারও কনফার্ম করছে। ফলে আমার মূল কাজ এখন মার্কেটিং করা।’

তিনি বলেন, ‘এআইয়ের কাছে পণ্যের সব তথ্য থাকায় কাস্টমারের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ভালোভাবে দিতে পারছে। এমনকি কোনো স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহারের পর সমস্যা হলেও প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে কাস্টমারকে সহযোগিতা করছে। আগে এ ধরনের সেবা দিতে একজন কর্মীকে আলাদাভাবে প্রশিক্ষণ দিতে হতো।’

ফারহানা নীনার দাবি, এআই ব্যবহারের পর তাদের বিক্রি আগের তুলনায় বেড়েছে। ব্যবসাটি নতুন হওয়ায় নির্দিষ্ট করে কত শতাংশ বেড়েছে, তা এখনো বলা যাচ্ছে না। তবে কাস্টমার হ্যান্ডলিং ও অর্ডার ব্যবস্থাপনায় এআই ব্যবহারের ইতিবাচক প্রভাব এরই মধ্যে তাদের ব্যবসায় পড়েছে।

অমনিস্ট্রার এআই ব্যবহারের ফলে বিক্রি আগের চেয়ে বেড়েছে

শুরুতে এআইকে আমাদের ব্যবসার সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছু ভুল-ত্রুটি হচ্ছিল। তবে সেগুলো দ্রুত ঠিক করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা ভালো রেসপন্স পাচ্ছি। এআই ব্যবহারের পর আগের তুলনায় বিক্রিও কিছুটা বেড়েছে।-স্টার কিডসের ম্যানেজার মো. মোরসালিন

স্টার কিডসের ম্যানেজার মো. মোরসালিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা প্রায় তিন বছর ধরে ব্যবসা করছি। তবে অমনিস্ট্রার সঙ্গে আমাদের কাজের সম্পর্ক তিন মাসের। আগে মাসে প্রায় এক হাজার কাস্টমার সামলাতে পাঁচজন কর্মী প্রয়োজন হতো। এখন কাস্টমারদের পুরো রেসপন্স অমনিস্ট্রা দেখছে। আমরা তিনজন মিলে অন্য কাজগুলো করছি, বাকি কর্মীদেরও প্রতিষ্ঠানের অন্য কাজে যুক্ত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শুরুতে এআইকে আমাদের ব্যবসার সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছু ভুল-ত্রুটি হচ্ছিল। তবে সেগুলো দ্রুত ঠিক করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা ভালো রেসপন্স পাচ্ছি। এআই ব্যবহারের পর আগের তুলনায় বিক্রিও কিছুটা বেড়েছে।’

মোরসালিন বলেন, ‘আগে কাস্টমারের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিতে কর্মীদের সময় ও ধৈর্য ধরতে হতো। এআই একইভাবে ২৪ ঘণ্টা কাস্টমারের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। ফলে যেসব কাস্টমারকে ম্যানুয়ালি সামলানো কঠিন ছিল, তাদের কাছ থেকেও কিছু অতিরিক্ত অর্ডার পাওয়া যাচ্ছে।’

বড় ই-কমার্সে এআই ব্যবহার বেশ চ্যালেঞ্জিং

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘অথবা’র দায়িত্বে থাকা খন্দকার তাসফিন আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘ই-কমার্সে এআই ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে কনটেন্ট তৈরিতে এর ব্যবহার বেশি হলেও গ্রাহকের প্রশ্নের তাৎক্ষণিক উত্তর বা অর্ডার প্রক্রিয়া এআইয়ের মাধ্যমে পরিচালনা করতে বিভিন্ন সিস্টেমের সমন্বয় প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘ধারণা হিসেবে ই-কমার্সে এআইয়ের ব্যবহার খুবই ইতিবাচক। তবে এটি কার্যকর করতে হলে গ্রাহকের পণ্যের তথ্যভান্ডার থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য এনে সঠিক উত্তর দেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে। ছোট পরিসরের ব্যবসা, যেখানে পণ্যের সংখ্যা ১৫-২০টি, সেখানে এটি তুলনামূলক সহজ। কিন্তু বড় মার্কেটপ্লেসে হাজার হাজার পণ্যের তথ্য নিয়ে একই কাজ করা বাস্তবায়নের দিক থেকে বেশি চ্যালেঞ্জিং।’

গ্রাহকের সঙ্গে প্রাথমিক যোগাযোগ ও নিয়মিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কাজও এআইয়ের মাধ্যমে করা সম্ভব। এতে ২৪ ঘণ্টা গ্রাহকসেবা দেওয়ার পাশাপাশি একাধিক মানব এজেন্টের প্রয়োজন কমতে পারে।-সৈয়দ আলমাস কবীর, সাবেক সভাপতি, বেসিস 

জানতে চাইলে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর জাগো নিউজকে বলেন, ‘ই-কমার্সে এআই ব্যবহারের একটি বড় সুবিধা হলো, গ্রাহকের আচরণ বিশ্লেষণ করে তার আগ্রহ বোঝা যায়। একজন গ্রাহক কোন পণ্যে ক্লিক করছেন, কতক্ষণ সেটি দেখছেন, স্ক্রল করছেন কি না বা পরে আবার ওই পণ্যে ফিরছেন কি না-এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে তার কাছে কী ধরনের পণ্য উপস্থাপন করা যেতে পারে, তা নির্ধারণ করা সম্ভব। অ্যামাজনের মতো বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।’

চ্যাটবটের ব্যবহার প্রসঙ্গে আলমাস কবীর বলেন, ‘গ্রাহকের সঙ্গে প্রাথমিক যোগাযোগ ও নিয়মিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কাজও এআইয়ের মাধ্যমে করা সম্ভব। এতে ২৪ ঘণ্টা গ্রাহকসেবা দেওয়ার পাশাপাশি একাধিক মানব এজেন্টের প্রয়োজন কমতে পারে।’

এআইয়ের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গ্রাহক অনেক সময় এমনভাবে কথা বলেন, যা এআই হয়তো ঠিকভাবে বুঝতে পারে না। তখন গ্রাহক বিরক্ত হতে পারেন বা একজন মানুষের সঙ্গে কথা বলতে চাইতে পারেন। এটাই এ ধরনের ব্যবস্থার একটি সমস্যা। তবে মেশিন লার্নিংয়ের মাধ্যমে সময়ের সঙ্গে এসব ভুলের পরিমাণ কমতে পারে।’

ইএইচটি/এএসএ/ এমএফএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।



Source link

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।