সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে ভ্যানচালক শাহজাহান আলী হত্যা মামলার দীর্ঘ ১৬ বছর পর চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক নজরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- উপজেলার কুমারিয়া বাড়ি গ্রামের মেছের শেখের ছেলে শিবলু ও ফরিদ শেখের ছেলে লাল মিয়া, অহেজ আলীর ছেলে সুরুজ আলী ও জসিম শেখের ছেলে হারুন অর-রশিদ।
সিরাজগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক রওশন ইয়াজদানি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, মামলায় মোট ৯ আসামির মধ্যে চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও নিহতের স্ত্রী ও তার শ্বশুর-শাশুড়িকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত। অন্য আসামি আসমা খাতুনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে কাজীপুর উপজেলার কুমারিয়াবাড়ি গ্রামের সিরাজ আলীর মেয়ে শিরিনা খাতুনের সঙ্গে পাশ্ববর্তী জামালপুর সরিষাবাড়ি উপজেলার বনগ্রাম গ্রামের আরফান আলীর ছেলে শাহজাহান আলীর বিয়ে হয়। বিয়ের ছয় মাস পর শিরিনাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে আনা হয়। পরবর্তী ২০ দিনপর শিরিনার শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে আনতে গেলে আসামি হারুন, শিবলু, সুরুজ ও লাল মিয়ার কুমন্ত্রণায় শিরিনার মা-বাবা তাকে শ্বশুর বাড়িতে আসতে বাধা দেয়। এতে শিরিনার সঙ্গে তার স্বামীর পারিবারিক বিরোধ শুরু হয়। এ ঘটনার কিছুদিন পর শাহজাহান আলী তার স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়িতে আনতে গেলে শ্বশুর-শাশুড়ির অনুরোধে সে শ্বশুরবাড়িতে থেকে যায় এবং ভ্যানচালিয়ে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন। এরই এক পর্যায়ে আসামি হারুন ও শিবলু তার শ্বশুরবাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন। এতে নিষেধ করলে আসামিরা উল্টো শাহজাহান আলীকে মারপিট করে হত্যার হুমকি দেয়।
২০০৯ সালের ১১ নভেম্বর শাহজাহান আলী বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। পরদিন ১২ নভেম্বর শ্বশুরবাড়ির উঠানে মাটির নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে হত্যা করে মরদেহ মাটিতে পুঁতে রাখা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে এ ঘটনায় নিহতের বাবা আরফান আলী বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে আদালত আজ রায় ঘোষণা করেন।
এম এ মালেক/এএইচ/জেআইএম
