• বৃহস্পতি. সেপ্টে. 17th, 2026

এনজিওর অনুদান বাড়ছেই, তবু ‘কর্মহীন’ চাকরি হারানোরা!

Bytrendnews

সেপ্টে. 17, 2026


“যেদিন ইউএসএআইডির ঘোষণাটা আসে, ওইদিন আমাদের একটা ওয়ার্কশপ ছিল। ওয়ার্কশপে যাওয়ার পথেই মানে তখন আমি বাইকে থাকা অবস্থাতেই মিটিংয়ে অ্যাটেন্ড করি।

“আমাদের হেড অফিস ইউএসএ থেকে তখন আমাদের মিটিংয়ে সব স্টাফদেরকে জানানো হয় যে, ইউএসএআইডি তাদের যে ফান্ডগুলো আছে, এগুলো তারা আসলে অ্যাসেসমেন্টের আওতায় নেবে—কোন্ ফান্ডটা রাখবে, কোন্ ফান্ডটা রাখবে না।”

হঠাৎ করে এক সকালে চাকরি হারানোর বর্ণনা দিচ্ছিলেন আমিনুল ইসলাম সোহান, যিনি অ্যাবট গ্লোবাল নামের একটি এনজিওতে ইউএসএআইডির একটি প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। 

বছর দেড়েক আগে ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএআইডি) ব্যাপক তহবিল হ্রাসের ঘোষণা দিলে সোহানের মতো হাজারো বাংলাদেশি হাজারো মানুষ চাকরি হারান, যাদের বড় অংশই এখনো কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন। 

তখন বাংলাদেশ হারায় প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন সহায়তা। সাত মাস বেকার সময় কাটিয়ে নতুন চাকরি পান সোহান।

বেকার দিনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এটা তো আসলে একটা গ্লোবাল ইম্প্যাক্ট এবং বাংলাদেশ ইউএসএ বেইজড যে সকল প্রতিষ্ঠানগুলো ছিল, যেমন এবিটি, আরটিআই, এরকম আরও অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান ছিল—যারা ইউএসএআইডির প্রজেক্টেই চলত, তাদের অপারেশনটা ক্লোজ করে দিতে হয়। সে সময় অনেক কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা নেওয়ার পরপরই মার্কিন বিদেশি সহায়তা তলানিতে নামানোর ওই সিদ্ধান্ত নেন। তাতে বাংলাদেশে ইউএসএআইডির অর্থায়নে চলা ৫৯টি প্রকল্পের মধ্যে ৫৫টি বন্ধ হয়ে যায়।

অবশ্য মার্কিন সরকারের উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় ছেদ ঘটলেও বাংলাদেশে কার্যরত এনজিওগুলোতে বিদেশি অনুদান বেড়েছে। তার পরও কেন সেইসব কর্মীরা কাজ পাচ্ছেন না?

বাংলাদেশে কার্যরত আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর প্লাটফর্ম আইএনজিও ফোরাম বাংলাদেশের আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান।

তিনি মঙ্গলবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলছিলেন, “যাদের চাকরি গেছে, তারা তো একটা সময়ে অনেক ভালো চাকরি করতেন এবং যারা মাঠ পর্যায়েও কাজ করতেন, তারা আর দশটা এনজিওর চাইতে অনেক ভালো বেতন পেতেন।

“এগুলো আসলে তাদেরকে অ্যাকোমডেট করাও বস্তুতপক্ষে খুব ডিফিকাল্ট। কারণ ধরেন, কেউ ধরেন বিদেশি কোম্পানিতে চাকরি করে, তাকে যেমন আপনি একটা লোকাল কোম্পানিতে দিলে সে নেবে না বা সে ম্যাচ করতে পারবে না। এখানেও তাই। 

“মানে ইউএসএআইডির তো ফান্ডিং বলেন, এনভায়রনমেন্ট বলেন—সবই খুবই অনেক উন্নতমানের। সেগুলির সাথে ইন্টারন্যাশনাল এনজিও বা ইভেন ন্যাশনাল এনজিও—এরা আসলে কম্প্যাটিবল হয় না।”

সহায়তা বাড়ছেই

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে পরিচালিত এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের নিবন্ধিত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) পাওয়া বিদেশি অনুদানের পরিমাণ গত কয়েক অর্থবছরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।

অর্থছাড়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিদেশি অনুদান ছাড়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ হাজার ৪০৯ কোটি ৮৭ লাখ ৫৫৩ টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৬ দশমিক ০৭ শতাংশ বা ৪২৩ কোটি ৭১ লাখ ৪০ হাজার ৬৩০ টাকা বেশি। ২০২১-২২ অর্থবছরে এসেছিল ৬ হাজার ৯৮৬ কোটি ১৫ লাখ ৫৯ হাজার ৯২৩ টাকা।

একইভাবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অর্থছাড়ের পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ বা ১৯১ কোটি ৭২ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৬ টাকা বেড়ে দাঁড়ায় ৭ হাজার ৬০১ কোটি ৫৯ লাখ ৯৮ হাজার ৩৪৯ টাকা। 

 

এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এনজিওর বিদেশি অনুদান ছাড়ে বড় প্রবৃদ্ধি দেখা যায়, সেবছর অর্থছাড় হয় ৯ হাজার ২২০ কোটি ৪০ লাখ ৬৪ হাজার ৪৬৪ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ২১ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। তার মানে এক বছরের ব্যবধানে অনুদানের পরিমাণ বাড়ে ১ হাজার ৬১৮ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ১১৫ টাকা।

আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (জুন পর্যন্ত) অর্থছাড় বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ বা ৯২২ কোটি ৪৭ লাখ ৩০ হাজার ৫৩৪ টাকা। সবশেষ এ অর্থবছরে এসেছে মোট ১০ হাজার ১৪২ কোটি ৮৭ লাখ ৯৪ হাজার ৯৯৯ টাকা।

এনজিও ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে বছর বছর বরাদ্দ বাড়লেও অনুমোদিত প্রকল্পের সংখ্যা কমেছে।

যেমন ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২ হাজার ৭টি অনুমোদিত প্রকল্পের মাধ্যমে ৭ হাজার ২০৩ কোটি ৩০ লাখ ২৪ হাজার ১৬০ টাকার বরাদ্দ অনুমোদিত হয়েছিল, যার বিপরীতে প্রকৃত অর্থছাড় হয় ৭ হাজার ৪০৯ কোটি ৮৭ লাখ ৫৫৩ টাকা।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ হাজার ৬৫৮টি প্রকল্পের বিপরীতে অনুমোদিত বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৭৫৪ কোটি ২৫ লাখ ৬১ হাজার ২৫৪ টাকা। 

এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ হাজার ৮৩৬টি প্রকল্পের বিপরীতে অনুমোদিত বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ২০৬ কোটি ৬৫ লাখ ৯০ হাজার ১৮০ টাকা। যদিও বাস্তবে অর্থছাড় হয় ৯ হাজার ২২০ কোটি ৪০ লাখ ৬৪ হাজার ৪৬৪ টাকা।

সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ হাজার ৬৫৪টি অনুমোদিত প্রকল্পের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয় সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৮৮৮ কোটি ৯৯ লাখ ৮৮ হাজার ৪২০ টাকা। তবে প্রকৃতপক্ষে ছাড় করা হয়েছে ১০ হাজার ১৪২ কোটি ৮৭ লাখ ৯৪ হাজার ৯৯৯ টাকা। 

এনজিও ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে বিদেশি অর্থায়নে কাজ করছে দুই হাজার ৮০২টি নিবন্ধিত স্থানীয় ও বিদেশি সংস্থা। এর মধ্যে দেশি এনজিওর সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৫০৮টি; আর বিদেশি এনজিওর সংখ্যা ২৯৪টি।

কোন খাতে কত টাকা?

এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তথ্যানুযায়ী, সবচেয়ে বেশি পরিমাণ অর্থ এসেছে স্বাস্থ্য খাতে। এই এক খাতেই ছাড় হওয়া অর্থের পরিমাণ ২ হাজার ৯৭৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। 

এর পরের অবস্থান সামাজিক উন্নয়ন খাতের, এসেছে ১ হাজার ২৬১ কোটি ১০ লাখ টাকা।

আর সবচেয়ে কম অর্থ এসেছে পল্লী উন্নয়ন ও টিউবওয়েল প্রকল্পে। এ দুই খাতের প্রতিটিতেই ছাড় করার অর্থের পরিমাণ মাত্র ৪৪ লাখ টাকা।

আর আগের অর্থবছরেও (২০২৪-২৫) বরাদ্দ পাওয়ায় শীর্ষে ছিল স্বাস্থ্য খাত (২,৭২৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা)। 

এরপরে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাখাতে এক হাজার ২৬৯ কোটি টাকা, সামাজিক উন্নয়নে সাতশ ৫০ কোটি টাকা, ত্রাণ ও পুনর্বাসনে সাতশ ১১ কোটি টাকা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় পাঁচশ ৪৪ কোটি টাকা, পানি ও স্যানিটেশনে চারশ ২২ কোটি টাকা, নারী উন্নয়নে ৩০২ কোটি টাকা, স্থানীয় সরকারে ২৩১ কোটি টাকা, পরিবেশ উন্নয়নে দুইশ ২৫ কোটি টাকা এবং কৃষি খাতে দুইশ দুই কোটি টাকা বরাদ্দ মিলেছিল।

অনুদান বাড়ার কারণ কী

দেশের দক্ষিণে উপকূলীয় অঞ্চলে কাজ করা এনজিও কোস্ট ফাউন্ডেশনের পাওয়া অনুদান ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় ২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমেরিকাতে যদিও ইউএসএআইডি একটা ফান্ডিং দেয়—যেটা গভর্মেন্ট ফান্ডিং, যেটা ডনাল্ড ট্রাম্প বন্ধ করে দিয়েছেন; কিন্তু আমেরিকাতে অনেকগুলো পার্সোনাল ফাউন্ডেশন আছে। 

“ওরা আবার অনেক জায়গায় মেইল দিয়ে বলেছে যে, ইউএসএআইডির অর্থায়ন বন্ধের ফলে তোমাদের যদি ক্ষতি হয়ে থাকে, তাহলে তোমরা বল, তোমাদেরকে আমরা টাকা দেব। তো এরকম আমাদেরকেও দিয়েছে, অনেককে দিয়েছে। এটা একটা সত্য।”

তিনি বলেন, “ডনাল্ড ট্রাম্প ইউএসএআইডির ফান্ডিং এনজিও এবং গভর্মেন্টকে বন্ধ করে দিলেও ওরা রোহিঙ্গা রেসপন্সে কিন্তু ডব্লিউএফপিকে (বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি) যে বড় চাঙ্ক ফান্ডিং দেয়, যেটা ফুড এইড, সেটা কিন্তু ইউএসএআইডি কন্টিনিউ করেছে এবং এখনও করছে। যে কারণে এটা সঠিক ফান্ডিং কমেনি।”

রেজাউল বলছিলেন, “ফান্ডিং বাড়ার কয়েকটা কারণ আছে। একটা বড় কারণ হল রোহিঙ্গা রেসপন্স। বাংলাদেশে ডোনার ফান্ডিং বাড়তেছে, তার মানে এই নয়—রোহিঙ্গারা ছাড়া অন্যরা লাভবান হচ্ছে। লাভবান হচ্ছে না। 

“যেমন আমাদের দুটো বড় ঘটনা হয়েছে। একটা হল কুমিল্লা-ফেনীর বন্যাটা হয়েছে। সেখানে আমরা কিন্তু পয়সা খুব একটা পাই নাই। কারণ সব টাকাগুলো এখন চলে যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের ওখানে। তাহলে আপনি কি এটাকে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ উপকৃত হয়েছে, সেটা বলবেন?”

ছোট দেশগুলো ইউরোপ ছাড়াও পশ্চিম এশিয়া থেকে অনুদান পাচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, “ছোট এনজিওদের সুবিধা হচ্ছে যে—সে নিজস্ব উদ্যোগে যোগাযোগ করে বিভিন্ন ফাউন্ডেশন থেকে, বিশেষ করে মিডল ইস্টের কান্ট্রিগুলো থেকে প্রচুর পয়সা আনছে।

“যেমন কাতার ফাউন্ডেশন থেকে, তারপরে ইউএই ফাউন্ডেশন থেকে, আল খায়ের ফাউন্ডেশন থেকে—এরকম মধ্যপ্রাচ্যের অনেকগুলো দেশ থেকে ফান্ডিং আনছে বলেই এটা বেড়েছে। 

“এছাড়া স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশ (দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন এনজিওর সমন্বয়ে গঠিত তহবিল) বিভিন্ন দেশ থেকে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বড়ো ফান্ড নিয়ে আসছে। যে টাকাটা ৪০ দিনের মধ্যেই খরচ করে ফেলতে হয়। তো ফান্ডিং আসছে, অসুবিধাটা হচ্ছে সেটা আবার ইউএনের এজেন্সিগুলোতেই রোহিঙ্গাদের জন্য বেশি চলে যাচ্ছে।”

এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ জকরিয়ার কাছে প্রশ্ন ছিল, সাম্প্রতিক বছরগুলোর অনুদানের পরিমাণ বাড়ার কারণ কী?

এ প্রশ্নে তিনি সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটার কারণ কী, সেটি দেখতে আমি সকালে অফিসে এসেই সবাইকে ডেকেছিলাম। ইউএনডিপির কর্মকর্তা এবং আমাদের অফিসারদেরসহ বসছিলাম।

“উনাদের দায়িত্ব দিয়েছি—কোন খাতে কী পরিমাণ এসেছে, সেটা বের করার জন্য ইউএনডিপি এটার কাজ শুরু করেছে এখন। আমরা ইমিডিয়েটলি পাব এটা।”

মোহাম্মদ জকরিয়া বলেন, “আমরা নিজেরাও জানি অনুদান এসেছে। বিশেষ করে ছোটখাটো যে এনজিওগুলা, তারা বারবার বলছে যে—‘আমাদের ফান্ড ক্রাইসিস’। কিন্তু প্রবাহ বেড়েছে কীভাবে, কী কারণে—এটা জানার জন্যই ওদের ডেকেছিলাম। 

“তবে আমার মনে হয় বড় এনজিওগুলা ভালো ফান্ড পেয়েছে। এই কারণেই প্রবাহটা বেড়েছে হয়ত।”

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় বাংলাদেশে কার্যরত এনজিওগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিজ ইন বাংলাদেশের (অ্যাডাব)।

সংগঠনটির পরিচালক এ কে এম জসিম উদ্দীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাস্তবতা হচ্ছে এনজিওগুলোর যে তালিকা, সেখানে যেহেতু ফান্ডিংয়ের হিসাব থাকে; সুতরাং এটা বেড়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ইউএসএআইডির ফান্ড যখন কাট হয়, তখনও অনেকেই আমাদেরকে প্রশ্ন করেছিল, এটা কী বিশাল বড় একটা হ্যাজার্ড আমাদের জন্য হয়ে যাবে কি না?

“তখনও কিন্তু আমরা বলেছিলাম যে- দেখেন, বাংলাদেশের এনজিওরা হলো যুদ্ধ করা মানুষ। যুদ্ধ করে টাকা জোগাড় করে এবং তারা তাদের ইনিশিয়েটিভগুলোকে লাইভ রাখার চেষ্টা করে। তো তাই হয়েছে আসলে, অন্য উইন্ডো ওপেন করে ফেলেছে তারা অবশ্যই।” 

অনুদান বাড়ার ব্যাখ্যায় জসিম উদ্দীন বলতে থাকেন, “আরেকটা বিষয় হল¬—যেই টার্মে সিচুয়েশনটা যাচ্ছিল, সে সময়টার কারণে অনেক ডোনারই হয়তো একটু স্লো গেছে, একটু পজের মধ্যে ছিল। তারা হয়ত সেভাবে টাকা-পয়সা ছাড়েনি বা রিলিজ করেনি। 

“কারণ দেশে পলিটিক্যাল সিচুয়েশন অস্থির থাকলে সবাই সেভাবেই চিন্তাটা করে যে, গণতান্ত্রিক একটা সরকার আসবে; আসলে তারপরে হয়তো তারা আবার রিলিজ করবে। তো এটাই হয়েছে আরকি বেসিক্যালি, যতটুক বুঝতে পারছি।”

অ্যাডাবের এ পরিচালক বলেন, “আপনি যদি ক্রিটিক্যাল অ্যানালাইসিস করেন, তাহলে দেখবেন যে—আপনার টোটাল যে প্রজেক্টের সংখ্যা, সেটা কিন্তু গতবারের চাইতে এবারে কম। 

“মানে আপনার বিগ চাঙ্কের কিছু ফান্ড এসেছে। যেমন কনসোর্টিয়াম টাইপের বেশ কিছু বড় বড় ফান্ড এসেছে; যার কারণে হয়ত একটু প্রজেক্ট কম হলেও ফান্ডটা বেশি এসেছে।”

তবু কেন এখনও বেকার?

গেল বছরের ২০ জানুয়ারি ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি সহায়তা স্থগিত করলে বাংলাদেশে যেসব উন্নয়নকর্মী চাকরি হারান, তাদের একজন রাকিব হোসেন। তিনি উন্নয়ন সংস্থা আইডিই-তে ‘ফিড দ্য ফিউচার বাংলাদেশ নিউট্রিশন অ্যাক্টিভিটি’ প্রকল্পে ওয়াটার সাপ্লাই ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন, যার অর্থায়নকারী ছিল ইউএসএইড।

রাকিব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি আইডিইতে ছিলাম প্রায় দুই বছরের মতো। আমাদের চাকরি ছাঁটাইয়ের নোটিফাই করল ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে। মার্চ পর্যন্ত আমি সেখানে ছিলাম। ২০২৬ এর ডিসেম্বর পর্যন্ত আমার চুক্তি ছিল। চুক্তির প্রায় দুই বছর আগেই আমাকে চাকরি ছাড়তে হয়েছিল।

“সে সময়টা আমাদের জন্য বেশ সংগ্রামের ছিল। কারণ এক সপ্তাহের ব্যবধানে যেহেতু অনেক মানুষের একসাথে চাকরি চলে যায়, তখন চাকরির বাজারেও বেশ সংকট ছিল। একই পজিশনে অনেকজন অ্যাপ্লাই করছিল। পরে নানা জায়গায় আবেদন করা শুরু করলাম। আড়াই মাসের মতো বেকার থাকার পর আমি আবারও চাকরিতে যোগ দিই।”

তিনি বলেন, “অনেকেরই অনেক বেশি স্ট্রাগল করতে হয়েছে। সে তুলনায় আসলে আমি অনেক কমই করছি; করিনি বললেই চলে।”

ইউএসএআইডির অর্থায়নে চলা একটি প্রকল্পে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে কাজ করতেন মামুন হোসাইন। ২০২৫ সালের মার্চে চাকরি হারানোর পর এখনো কোথাও কাজ জোটেনি তার।

মামুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি এই প্রকল্পে ওয়াশে ছিলাম। চাকরি হারানোর পর অনেক জায়গায় চেষ্টা করেছি। নতুন করে কোথাও যুক্ত হতে পারিনি। 

“প্রায় এক বছরের বেশি এই সময়টাতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। পরিবারকে নিয়ে অনেক হতাশায় আছি। উপায়ন্তর না পেয়ে ছোটো একটা দোকান দেওয়ার চিন্তা করেছি।” 

কথায়-কথায় মামুন বলছিলেন, চাকরি হারানোদের অনেকেই এখনো চাকরি খুঁজে পাননি। 

তিনি বলেন, “যারা একদম লো স্কিলড, আর একদম হাই স্কিলড—এদের অনেকেই চাকরি পাননি। হাই স্কিল্ডের হায়ার করা বাজেটের জন্য সমস্যা, আর লো স্কিলডরা প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। এটা আমার নিজের অভিজ্ঞতা।”

ইউএসএআইডির সহায়তা বন্ধের জেরে চাকরি হারানো হাজারো উন্নয়ন কর্মীদের নিয়ে গঠিত হয় ‘অ্যাসোসিয়েশন অব আনএমপ্লয়েড ডেভেলপমেন্ট প্রফেশনালস-এইউডিপি’ নামের একটি প্লাটফর্ম। তাদের হিসাবে, সেই সময় বাংলাদেশে হাজার পঞ্চাশেক উন্নয়নকর্মী চাকরি হারান।

সংগঠনটির আহ্বায়ক জিনাত আরা আফরোজ সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সেসময় আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকটি দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়ে বেকারদের জন্য উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানালেও সরকার পাত্তা দেয়নি। তবে আইএনজিও ফোরাম বাংলাদেশ এটা নিয়ে কাজ করছে। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো রেসপন্স পাইনি।”

তিনি বলেন, “ওই সময় আমাদের বড়ো একটা ডিমান্ড ছিল—ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেটেড ট্যালেন্ট ডিটেকশন সিস্টেম নামে একটা সিস্টেম দাঁড় করানোর; যেটা করতে পারলে সরকার এদের (চাকরি হারানোদের) নিয়োগ করতে পারত। 

“সেটা হলে তারা যে এতবছর শিখল, তাদের যে স্কিল, সেটার প্রপার ইউটিলাইজ হত; নতুন ফান্ডিং যে আসছে, প্রজেক্ট আসছে, সেখানে তাদের কর্মের ব্যবস্থা করা যেত। কিন্তু সরকার পদক্ষেপ নেয়নি। বর্তমানেও অন্তত ৩০ হাজারের মতো বেকার আছে, এটা বিরাট সংখ্যা।”



Source link

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।