
সন্ত্রাসের ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া সাত বিদেশি নাগরিক মিয়ানমারে বেসামরিক বিমানে ড্রোন হামলায় সম্পৃক্ত ছিলেন বলে দাবি করেছে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা— এনআইএ।
দিল্লির একটি আদালতে এনআইএয়ের তরফে এমন দাবি জানানো হয় বলে শুক্রবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে।
সাত বিদেশির মধ্যে ছয়জন ইউক্রেইনের নাগরিক; আরেকজন যুক্তরাষ্ট্রের। তারা বর্তমানে তিহার কারাগারে আছেন।
ওই সাতজনের মধ্যে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে সম্প্রতি আদালতে আবেদন করে এনআইএ। গত ৩১ অগাস্ট আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে।
এর আগে ১৯ অগাস্ট আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে এনআইএ বলেছে, “কিছু ইউক্রেইনীয় ও মার্কিন নাগরিক মিয়ানমারে একটি বেসামরিক বিমানে ড্রোন হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পেয়েছে।”
আবেদনে আরও বলা হয়, “এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউক্রেনের ১৪ নাগরিক বিভিন্ন সময়ে পর্যটন ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেন। তারা বিমানে গুয়াহাটি যান এবং রেস্ট্রিকটেড এরিয়া পারমিট (আরএপি) বা প্রোটেক্টেড এরিয়া পারমিটের (পিএপি) মতো নথি ছাড়াই তারা মিজোরামে যান। এরপর তারা অবৈধভাবে মিয়ানমারে প্রবেশ করেন।”
তারা মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ড্রোনের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে সেখানে গিয়েছিলেন বলে এনআইএর ভাষ্য।
মিয়ানমারের জাতিগত লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত এক লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। গৃহযুদ্ধের ফলে দেশটি কার্যত বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একেক সশস্ত্র একেক এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে।
সংখ্যালঘুদের হয়ে কাজ করা গণমাধ্যম সংগঠনগুলোর নেটওয়ার্ক— বার্মা নিউজ ইন্টারন্যাশনাল গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দাবি করে, কাচিন রাজ্যের মিতকিনা বিমানবন্দরে ওই সময় মিয়ানমার ন্যাশনাল এয়ারলাইনসের যাত্রীবাহী বিমানে আত্মঘাতী ড্রোন হামলা হয়েছিল। বিমানটি মান্দালয়ের উদ্দেশে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
তবে এনআইএর আবেদনে এই হামলার কথাই বলা হয়েছে কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে।
এনআইএ তাদের আবেদনে বলেছে, “ওই সাত বিদেশি নাগরিক এর আগেও একইভাবে মিজোরাম হয়ে মিয়ানমারে গিয়েছিলেন এবং সেখানে আরও দুই দফায় প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেছিলেন। এ ছাড়া ইউরোপ থেকে ভারত হয়ে মিয়ানমারে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছে বিপুল পরিমাণ ড্রোন ও এর প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ অবৈধভাবে আমদানি করেছিলেন।”