
শিক্ষক নেটওয়ার্কের প্রতিনিধিদল সরাসরি ডাকসু সংগ্রহশালা পরিদর্শন করে এসব পরিবর্তনের সত্যতা পেয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ স্বাধীন বাংলাদেশের কোনো নাগরিক নন; বরং তিনি তৎকালীন পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলনের সূচনাপর্বে ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’ ঘোষণা দিয়ে বাঙালি জাতির স্বাধিকার ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত হেনেছিলেন। এ ছাড়া ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী যে বর্বর গণহত্যা চালায়, সে জন্য তারা কখনোই আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চায়নি। এমন একটি রাষ্ট্রের বিতর্কিত শাসকের ছবি যথাযথ ঐতিহাসিক তথ্য ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইতিহাস ও সংগ্রামের স্মারকে স্থান পাওয়া বাঙালি জাতির জন্য চরম অবমাননাকর।
‘ইতিহাস মুছে ফেলার অপচেষ্টা’
শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও জাতীয় মুক্তির প্রতিটি আন্দোলনের ‘প্রধানতম নেপথ্য রূপকার’ উল্লেখ করে শিক্ষক নেটওয়ার্ক বলেছে, যেকোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের মতোই তিনি বিতর্কের ঊর্ধ্বে নন। তবে পতিত আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেত্রী ও তাঁর কন্যা শেখ হাসিনার ওপর ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে মুক্তিযুদ্ধের আগের ইতিহাসের গুরুত্ব মুছে দিতেই এই ছবি সরানো হয়েছে। এটি কেবল অসংবেদনশীলতাই নয়, বরং ইতিহাস থেকে মূল নায়কদের মুছে ফেলার এক নিকৃষ্ট ও পরিকল্পিত অপচেষ্টা।