
কিন্তু বাংলাদেশের কৃষক কি এই প্রযুক্তির জন্য প্রস্তুত?
এই প্রশ্নের উত্তর একদিকে আশাব্যঞ্জক, অন্যদিকে সতর্কতামূলক। আশাব্যঞ্জক দিক হলো, গ্রামাঞ্চলেও মুঠোফোনের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। তরুণ কৃষক ও উদ্যোক্তারা ইউটিউব, ফেসবুক গ্রুপ, কৃষি অ্যাপ এবং অনলাইন বাজার থেকে তথ্য নিচ্ছেন। অনেক কৃষক এখন আবহাওয়া, রোগবালাই, বীজ, সার বা বাজারদর সম্পর্কে অনলাইনে জানতে চান। অর্থাৎ প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
কিন্তু আগ্রহ থাকা আর কার্যকর ব্যবহার করতে পারা এক বিষয় নয়। স্মার্ট কৃষির পথে বাংলাদেশের সামনে কয়েকটি বড় বাধা আছে। প্রথমত, খরচ। সেন্সর, ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় সেচযন্ত্র বা ডেটাভিত্তিক সেবা ছোট কৃষকের কাছে ব্যয়বহুল মনে হতে পারে। দ্বিতীয়ত, ডিজিটাল দক্ষতার ঘাটতি। স্মার্টফোন ব্যবহার করলেই যে কৃষক সহজে অ্যাপের তথ্য বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, তা নয়। তৃতীয়ত, গ্রামীণ ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ, যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্থানীয় কারিগরি সহায়তার সীমাবদ্ধতা আছে। চতুর্থত, বাংলা ভাষায় সহজ, নির্ভরযোগ্য ও স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে মিল থাকা ডিজিটাল কৃষিসেবা এখনো পর্যাপ্ত নয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো আস্থা। অনেক কৃষক দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করেন। নতুন প্রযুক্তি যদি সরাসরি তাঁদের সমস্যা কমাতে না পারে, তাহলে তাঁরা সেটি গ্রহণে আগ্রহী হবেন না। তাই প্রযুক্তি শুধু প্রদর্শনের বিষয় হলে চলবে না। মাঠপর্যায়ে ব্যবহারযোগ্য হতে হবে, সাশ্রয়ী হতে হবে এবং কৃষকের ভাষায় কথা বলতে হবে।
বাংলাদেশে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি গড়তে হলে কয়েকটি বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রথমত, কৃষকের জন্য সহজ ডিজিটাল রেকর্ড–ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। জমির পরিমাণ, ফসলের ধরন, বীজের নাম, সার ব্যবহারের পরিমাণ, সেচের সময়, রোগবালাই, উৎপাদন খরচ এবং বিক্রয় মূল্য নিয়মিতভাবে সংরক্ষণ করলে কৃষক নিজেই বুঝতে পারবেন কোন ফসলে লাভ বেশি, কোথায় খরচ বাড়ছে এবং কোন সিদ্ধান্ত বদলানো দরকার।