• সোম. অক্টো. 26th, 2026

বিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেই

Bytrendnews

অক্টো. 26, 2026


বিদেশি ঋণ কমছে; বাড়ছে পরিশোধের পরিমাণ। সাম্প্রতিক সময়ের এ প্রবণতার মধ্যে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে অর্থছাড় আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমেছে।

প্রথম প্রান্তিকে অর্থছাড়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬ কোটি ২৩ লাখ ডলার। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এ সময়ে তা ছিল ১১৪ কোটি ৮৬ লাখ ডলার।

অর্থছাড় কমে যাওয়ার এমন অবস্থার বিপরীতে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বাড়তে থাকায় তা অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি বাড়াতে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন।

সোমবার প্রকাশিত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ছাড় হওয়া ঋণের বিপরীতে দ্বিগুণেরও বেশি ১৩৫ কোটি ১২ লাখ চলে গেছে আগে নেওয়া ঋণের সুদ-আসল পরিশোধে। শতাংশের হিসাবে ছাড়ের চেয়ে পরিশোধ বেড়েছে ১০৪ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ।

অপরদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই উন্নয়ন সহযোগী বিশ্ব ব্যাংক ও এডিবিসহ ভারত, চীন ও রাশিয়ার এই তিন মাসে ঋণের কোনো প্রতিশ্রুতি না দেওয়া উদ্বেগ তৈরি করছে।

প্রথম প্রান্তিকে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকও (এআইআইবি) ঋণের কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

প্রতিশ্রুতি না থাকার অর্থ হলো- চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এ তিন উন্নয়ন সহযোগী ও তিন দেশের অর্থে কোনো প্রকল্প নেওয়া চূড়ান্ত হয়নি। তবে এই ছয় উন্নয়ন সহযোগী প্রতিশ্রুতি না দিলেও আগে নেওয়া ঋণের অর্থছাড় অব্যাহত রেখেছে।

বিদেশি ঋণ পরিশোধ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি আগেই আঁচ করছিলেন বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আগেই টের পাওয়া গিয়েছিল, বিদেশি ঋণ পরিশোধ বেড়ে যাবে। এখন সেটাই দেখা যাচ্ছে।

“মূলত বিগত সময়ে নেওয়া বেশ কিছু মেগা প্রকল্পের বড় অঙ্কের ঋণ ও বাজেট সহায়তার গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে যাওয়ায় ঋণ পরিশোধের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে, যা আগামী বছরগুলোয় দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াতে পারে।”

নতুন সরকারের আট মাস পর অর্থনীতির ধীরগতি এখনও কাটেনি। এমন প্রেক্ষাপটে বিদেশি ঋণ ‘খুবই প্রয়োজন’ বলে মনে করেন জাহিদ হোসেন। তিনি চান, তা যেন আসে বাজেট সহায়তা হিসেবে।

এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “সরকারের এখন নগদ ডলার দরকার; সেজন্য বাজেট সহায়তার দিকে বেশি জোর দিতে হবে। কেননা, প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশি সহায়তা নিলে প্রকল্পের কেনাকাটার সময় ডলার আসে। এতে অনেক সময় চলে যায়। আর বাজেট–সহায়তার ডলার অনুমোদনের সঙ্গে সঙ্গে চলে আসে। তাই ডলারের জোগান বাড়াতে বাজেট–সহায়তাই উত্তম পন্থা।

“বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ এখন সন্তোষজনক অবস্থায় আছে। কিন্তু আমদানি বাড়লে কিন্তু এই স্বস্তি আর থাকবে না। তাই কম সুদের বিদেশি ঋণের দিকে এখন সরকারকে জোর দিতে হবে।”

ইআরডির তথ্য বলছে, প্রথম প্রান্তিকে ঋণ পরিশোধ অর্থছাড়ের দ্বিগুণ হলেও তা আগের বছরের একই সময়ের পরিশোদের চেয়ে ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেশি। এ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ১৩৫ কোটি ১২ লাখ চলে গেছে আগে নেওয়া ঋণের সুদ-আসল পরিশোধে। গত অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ১২৭ কোটি ৯৯ লাখ ডলার।

এ তিন মাসে আসল বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৮৫ কোটি ৮৯ লাখ ডলার; সুদ বাবদ গেছে ৪৯ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলার।

অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঋণের সুদ-আসল বাবদ ৪৪৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার পরিশোধ করেছিল সরকার। ওই অঙ্ক ছিল আগের বছরের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪০৮ কোটি ৬৯ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছিল।

ইআরডির তথ্যানুযায়ী, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দাতাদের কাছ থেকে মোট ৮০৭ কোটি (৮.০৭ বিলিয়ন) ডলার ঋণ সহায়তা পেয়েছিল বাংলাদেশ। যা ছিল আগের আর্থিক বছরের চেয়ে ৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ কম।

সবচেয়ে বেশি দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক

প্রথম প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি ১৯ কোটি ৬৫ লাখ ডলার দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬ কোটি ২১ লাখ ডলার দিয়েছে এডিবি। তৃতীয় সর্বোচ্চ ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার দিয়েছে ভারত।

জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) দিয়েছে ৪ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। রাশিয়া দিয়েছে ২ কোটি ৭ লাখ ডলার। অন্যরা দিয়েছে ১১ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। চীন দিয়েছে ১ কোটি ৪৭ লাখ ডলার।

এই তিন মাসে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) কোনো ঋণ ছাড় করেনি।

প্রতিশ্রুতি মিলেছে ১২৭ কোটি ডলারের

ইআরডির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে ১২৭ কোটি ৩০ লাখ ৩০ হাজার ডলারের নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ৯১ কোটি ৭ লাখ ডলার; বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

এ তিন মাসে বড় উন্নয়ন সংস্থা বিশ্ব ব্যাংক ও এডিবি কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। এমনকি চীন, রাশিয়া ও ভাররও কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

জাইকা ৩৫ লাখ ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আরেক উন্নয়ন সংস্থা এআইআইবিও কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

অন্য দাতা দেশ ও সংস্থা সবাই মিলে ১২৬ কোটি ৯৫ লাখ ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



Source link

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।