
স্থানীয় পরিসরে গাছটি বান্দরবানের পলি ও রেমাক্রি প্রাংসা; চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, হাজারীখিল, বারোইয়াধলা ও ধোপাছড়ি; কক্সবাজারের ভোমারিঘোনা; খাগড়াছড়ি আলুটিলার কাছে; রাঙামাটির রামপাহাড়, দামাইছড়ি, ফারুয়া, কাসালং-মাসালং, পাবলাখালী ও মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া এবং শ্রীমঙ্গলে দেখা যায়। সম্প্রতি কয়েকটি স্থানে এ গাছ রোপণ করা হয়েছে।
চালমুগরা (Hydnocarpus kurzii) চিরসবুজ মাঝারি আকারের বৃক্ষ। এই গাছ ১২ থেকে ১৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। গাছের কাণ্ড সরল, গোলাকার ও সোজা। বাকল মসৃণ ও পুরু; রং সবুজাভ ধূসর। পাতা পুরু, ভল্লাকার বা আয়ত ভল্লাকার, আগা সুচালো, কিনারা সমান, তবে পাতার দুই পাশ ঢেউখেলানো। রং গাঢ় সবুজ। শিরা স্পষ্ট। হালকা হলুদ রঙের সুগন্ধি ফুলগুলো কখনো এককভাবে, আবার কখনো থোকায় থোকায় ফোটে। গ্রীষ্ম থেকে বর্ষা ফুল ফোটার সময়। হেমন্তকালে ফল পরিপক্ব হয়। ফল গোলাকার, পাকা ফল শক্ত, পুরু ও বাদামি। ফলের ভেতর কয়েকটি বীজ থাকে।
বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রাকৃতিক উৎস থেকে গাছ সংগ্রহ করা হলেও, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আফ্রিকা এবং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দক্ষিণ আমেরিকার মতো অঞ্চলেও এ গাছ চাষাবাদ করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ-ভারতে গত ১০ বছরে এই প্রজাতির সংখ্যা ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।