
অন্য দেশ কী করছে
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেখলে বোঝা যায়, কোনো দেশই হুট করে রাতারাতি সব ভেঙে আলাদা করেনি। যেমন: ভারতে আয়কর ও শুল্কের আলাদা বোর্ড রয়েছে। তবে নীতি তৈরিতে যাতে কোনো একপেশে সিদ্ধান্ত না হয়, সে জন্য তারা ‘ট্যাক্স পলিসি রিসার্চ ইউনিট’ গঠন করেছে। সেখানে অভিজ্ঞ রাজস্ব কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অর্থনীতিবিদ ও ডেটা গবেষকেরা একসঙ্গে কাজ করেন।
যুক্তরাজ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় করের নীতি নির্ধারণ করে এবং রাজস্ব বিভাগ তা বাস্তবায়ন করে। তবে তাদের কর্মকর্তারা যৌথ ডেস্কে বসে কাজ করেন, যাতে মাঠের বাস্তবতার সঙ্গে নিয়মের কোনো ফারাক না থাকে।
আবার ভিয়েতনাম তাদের কর নীতি ব্যবসাবান্ধব করেছে এবং তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে কর আদায় সহজ করেছে, যার ফলে তাদের রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
কাগজে–কলমে প্রতিষ্ঠান দ্বিখণ্ডিত করে দিলেই দেশের রাজস্ব খাতের ভাগ্য বদলে যাবে না। সংস্কারকে সফল করতে হলে চাই মাঠের বাস্তবতা জানা অভিজ্ঞ মানুষ, তাত্ত্বিক দূরদর্শিতার সমন্বয় এবং করদাতাদের জন্য একটি আস্থার পরিবেশ তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে দূরদর্শী ও বাস্তবসম্মত পথ হতে পারে বলে মনে করি। সংসদীয় কমিটি যদি কর্মকর্তাদের কাজের অভিজ্ঞতা, স্বার্থের সংঘাত দূর করার নিশ্চয়তা এবং পেশাদারত্বকে অগ্রাধিকার দিয়ে আইনটি সাজাতে পারে, তবেই এই বহুপ্রতীক্ষিত সংস্কার সাধারণ মানুষ ও দেশের অর্থনীতির জন্য কার্যকর সুফল বয়ে আনবে।
লেখক: স্নেহাশীষ বড়ুয়া, এফসিএ, ডিরেক্টর, এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেড