
প্রথম আলোর অনুসন্ধান বলছে, প্রধান অভিযুক্ত দুই দফা ফেসবুক লাইভে অভিযোগ শুনিয়েছেন, ঠিকানা জানিয়েছেন, লোক ডেকেছেন; মৃত্যুর পর পোস্ট দিয়ে তা নিশ্চিতও করেছেন। ‘মব’ বলতে আমরা এত দিন যে মুখহীন, নামহীন জনতার ছবি আঁকতাম, এ তা নয়। এর মুখ আছে, মঞ্চ আছে, কার্যপ্রণালি আছে। আদালত বসেছে মোবাইলের পর্দায়, সাক্ষ্য হিসেবে পেশ হয়েছে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার এক গোপন রেকর্ড, জুরির আসনে লাইভের দর্শক।
ছকটাও নতুন নয়: সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ, লোক জড়ো করা, তারপর প্রকাশ্য আক্রমণ। বুড়িমারী থেকে ভালুকা, গোয়ালন্দ থেকে কুষ্টিয়া, ঘটনার বিন্যাস প্রায় হুবহু। জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ভেবার রাষ্ট্রকে চিনিয়েছিলেন বৈধ বলপ্রয়োগের একচেটিয়া দাবিদার হিসেবে।
জার্মান রাজনৈতিক দার্শনিক কার্ল শ্মিটের রাজনীতি নিয়ে আপত্তি থাকলেও তাঁর একটি সূত্র এখানে অস্বস্তিকরভাবে খাটে: সার্বভৌম সে-ই, যে ব্যতিক্রমের সিদ্ধান্ত নেয়। কে ‘মুরতাদ’, কার জীবন আর আইনের সুরক্ষা পাবে না, দেবহাটায় সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন একজন সাবেক ইমাম, যিনি এখন গ্রামের বাজারে পশু জবাই করেন। সার্বভৌমত্ব আজ এতই সস্তা যে একটা স্মার্টফোন আর একটা ‘অনুভূতি’ থাকলেই তা ভাড়া নেওয়া যায়।