
ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (এফএসএসএআই) জনপ্রিয় মারি বিস্কুট ‘প্রিয়াগোল্ড’ এর প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘সূর্য ফুড অ্যান্ড এগ্রো’র বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা প্রিয়াগোল্ড’ বিস্কুট তৈরিতে গবাদিপশুর খাদ্যের জন্য ব্যবহৃত ভুসি ব্যবহার করছে ও খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মাবলি লঙ্ঘন করছে।
সম্প্রতি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ অভিযানের অংশ হিসেবে এফএসএসএআই ভারতজুড়ে বিভিন্ন ডেয়ারি ও মিষ্টির দোকান, কারখানায় অভিযান চালাচ্ছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে তারা ফুল ক্রিম দুধ উৎপাদনকারী ডোডলা ডেয়ারি লিমিটেড এবং লাল চিনি ও নুডলস তৈরির প্রতিষ্ঠান উয়ির অর্গানিক ফুডস প্রাইভেট লিমিটেডের কারখানাও অভিযান চালিয়েছে; খবর ভারতীয় গণমাধ্যমের।
এফএসএসএআই জানিয়েছে, এক গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে তারা উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় সূর্য ফুডের কারখানায় অভিযান চালায়। আকস্মিকভাবে চালানো এ অভিযানকালে কর্মকর্তারা দেখতে পান, কারখানাটিতে বস্তা বস্তা ভুসি রাখা। এগুলো পশুখাদ্য হলেও এই ভুসি দিয়েই মানুষের খাওয়ার বিস্কুট তৈরি করা হচ্ছিল।
এর পাশাপাশি কারখানাটিতে স্বাস্থ্যবিধিও মানা হয়নি। সারা কারখানায় কীটপতঙ্গ ঘুরে বেড়াচ্ছিল। কাঁচামাল সংরক্ষণের উপযুক্ত ব্যবস্থা ছাড়াই কাজ চালানো হচ্ছিল। রক্ষণাবেক্ষণেও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়।
প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে খাদ্যসুরক্ষা লঙ্ঘনের জন্য কোম্পানিটির লাইসেন্স স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে ল্যাব রিপোর্ট ও প্রমাণ হাতে পাওয়ার পর ১৭ অক্টোবর কোম্পানিটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের অনুমতি দিয়েছে উচ্চতর কর্তৃপক্ষ।
অন্য দিকে তামিলনাডু রাজ্যের ইরোড জেলায় উয়ির অর্গানিক ফুডসের কারখানায় হানা দিয়ে কিসমিসে সমস্যা পাওয়া গেছে। দেখা গেছে, কিসমিসগুলোতে নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে আর সেগুলো মানুষের খাওয়ার উপযুক্ত নয়।
কোম্পানিটির খাদ্যপণ্যে অ্যাজোক্সিস্ট্রোবিন, ফলুওপিরাম, ইমিডাক্লোপ্রিড, থায়ামেথোক্সামের মতো একাধিক কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়। ল্যাবরেটরি পরীক্ষার পর দেখা যায়, তাদের তৈরি খাবারগুলোতে থায়ামেথোক্সাম ও ফওপিরামের মেটাবোলাইট অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি আছে।
এফএসএসএআই জানিয়েছে, ডোডলা ডেয়ারির ফুল ক্রিম দুধের গুণমান অত্যন্ত নিম্ন। দুধে থাকা চর্বির পরিমাণ নির্ধারিত মানদণ্ডের নিচে পাওয়া যায়। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই দুধে ডিটারজেন্ট ও কস্টিক সোডা আছে। এসব কারণে তাদের লাইসেন্স স্থগিত করে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এফএসএসএআই আরও জানিয়েছে, নারপাধাম ফুডস, সান রিজেস হেলথ কেয়ারার্স ও শাহ কান্তিলাল জয়ন্তীলাল কোম্পানিকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
জনস্বাস্থ্যের প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না বলে প্রত্যয় জানিয়েছে এফএসএসএআই।