
সাহিদা কান্নাজড়িত কণ্ঠে গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘আমি শুধু আমার পরিবার ও ভারতে নিজের বাড়িতে ফিরতে চাই। আমি অধীর হয়ে সেই দিনের অপেক্ষায় আছি।’
পশ্চিমবঙ্গে যাঁরা ভোটাধিকার হারিয়েছেন, তাঁদের অনেকেই বলছেন, নিজের দেশেই ‘বিদেশি’ হিসেবে অভিযুক্ত হওয়ার ভয়ে তাঁরা আতঙ্কিত। কারও কারও সরকারি সুযোগ-সুবিধাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার ৮০ বছর বয়সী মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ সিদ্দিকি বলেন, তাঁর দাদা ভারতের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছেন। তাঁর পরিবারের তিন প্রজন্মের নামই ভোটার তালিকায় ছিল। কিন্তু এসআইআরের পর ভোটার তালিকায় নিজের নাম না দেখে তিনি অপমানিত বোধ করেছেন।
হেদায়েত উল্লাহ বলেন, ‘ভোটার তালিকা থেকে আমার নাম মুছে ফেলার পর থেকে আমি সব সময় আতঙ্কে থাকি। যদি তারা আমাকে কোনো আটককেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয়? এ বয়সে আমার সন্তান ও নাতি-নাতনিদের কাছ থেকে আলাদা হয়ে থাকতে হবে—এ কথা আমি ভাবতেই পারি না। বিশেষ করে যখন আমার সব পূর্বপুরুষের কবর ভারতে।’
সমালোচকদের মতে, সমস্যার সূত্রপাত ২০২৩ সালে। সে বছর মোদি সরকার তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের সদস্য নিয়োগের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনে। এর ফলে কমিশনে প্রথমবারের মতো নিয়োগের প্রক্রিয়ায় সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।