
প্রাদুর্ভাবের আরও কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেন ক্যাটরিনা ক্রেটসিঙ্গার। তিনি বলেন, দেশের অধিক জনঘনত্ব এবং সামাজিক জমায়েতও হাম প্রাদুর্ভাবের কারণ। টিকা দেওয়া হচ্ছে ৯ মাস বা তার বেশি বয়সীদের; কিন্তু ৯ মাসের কম বয়সীরাও হামে আক্রান্ত হচ্ছে।
এই স্বাধীন মূল্যায়ন দল হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডেরও মূল্যায়ন করেছে। তারা বলেছে, প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারের কর্মকাণ্ড ছিল অপর্যাপ্ত। সরকার সাড়া দিয়েছে লম্বা সময় ধরে। হামে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা সব মানুষকে টিকার আওতায় আনেনি। যেমন ৫ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের টিকার আওতায় নেওয়া হয়নি।
হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগী এবং নিশ্চিত হামের রোগীর যে হিসাব সরকার দিচ্ছে, তারও প্রচ্ছন্ন সমালোচনা দেখা যায় উপস্থাপনায়। ১২ অক্টোবর পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা ৯৩ হাজার ৮৫২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এদের মধ্যে ৬৮ হাজার ৮৬৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের মধ্যে হাম শনাক্ত হচ্ছে ৭৩ শতাংশের। সরকারের হিসাবে এই হার অনেক কম।
যেমন গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত সারা দেশে হাসপাতালে সন্দেহভাজন হামের রোগী এসেছে ২ লাখ ৮ হাজার ৫৭০ জন। এর মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ২২ হাজার ৮৪০ জনের। সন্দেহভাজনদের মধ্যে শনাক্ত রোগী ১১ শতাংশ।
গতকাল হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই নিয়ে হামে এ বছর ১ হাজার ১৭৭ জনের মৃত্যু হলো।