• রবি. অক্টো. 11th, 2026

ইংরেজি শিক্ষায় নতুন ভাবনার খোঁজ

Bytrendnews

অক্টো. 11, 2026


এই ব্যবধান কমাতে শিক্ষকদের বাস্তব কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা অর্জনের ওপরও গুরুত্ব দেন সামসাদ মর্তূজা। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক মাসুমা হাবিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করে তুলতে ইংরেজি শিক্ষাকে পেশাগত জগতের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি।

ইংরেজি শেখার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসের প্রসঙ্গ তোলেন কথাসাহিত্যিক ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এক সাক্ষাৎকারে আমি বলেছিলাম, আমার জীবনে একটা আফসোস আছে, আমি ইংরেজিতে দুর্বল। আবার জন্ম নিলে আমি ইংরেজি শিখব। এই সাক্ষাৎকার পড়ে অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী আমাকে বলেছিলেন, আরেকবার জন্ম নিতে হবে না। এখন থেকেই শিখতে শুরু করো। আমার বুয়েটের বন্ধুরা যাঁরা বিদেশে আছেন, তাঁরা বলেন বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা স্মার্ট। কিন্তু তাঁরা পিছিয়ে পড়েন শুধু নিজেকে ঠিকমতো উপস্থাপন করতে পারেন না বলে।’ আনিসুল হকের মতে, ইংরেজি শেখার পাশাপাশি তা ব্যবহারের আত্মবিশ্বাস অর্জনও জরুরি।

সম্মেলনের প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রিয়েলি ইংলিশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাইজেল কিলিক। গোলটেবিল আলোচনায় তিনি বলেন, ‘ইংরেজি শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আমার অভিজ্ঞতায় এশিয়ার পূর্বাঞ্চলের অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে আছে। যুক্তরাজ্যেও আমরা এমন শিক্ষার্থী পাই, যাঁদের আইইএলটিএস স্কোর ৬ দশমিক ৫, কিন্তু বাস্তবে ইংরেজি ব্যবহারের দক্ষতা সেই মানের নয়। জাপানের মতো দেশে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইংরেজি শেখানোর দায়িত্ব নিতে হয়। আমার মতে, এটি সঠিক পদ্ধতি নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্ত হওয়া উচিত।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম ও কর্মক্ষেত্রের চাহিদার ব্যবধান কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন ইউল্যাবের সেন্টার ফর ল্যাঙ্গুয়েজ স্টাডিজের পরিচালক ও সম্মেলন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ফাহিম হাসান। সম্মেলনে উপস্থাপিত গবেষণা ও আলোচনার ফলাফল কাজে লাগিয়ে ধাপে ধাপে ইউল্যাবের পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন আনা এবং কর্মক্ষেত্রের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

ব্যাংক, আইন, প্রকৌশল, শিক্ষকতা ও এনজিও খাতের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় কর্মক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে ইংরেজি শিক্ষার সংযোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পেশাগত ই–মেইল লেখা, প্রতিবেদন তৈরি, উপস্থাপনা ও ক্লায়েন্টের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরির প্রস্তাব উঠে আসে।

সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপনা, কর্মশালা, ঘটনাভিত্তিক বিশ্লেষণেরও আয়োজন ছিল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ রাইহান এম শরীফ ইংরেজি চর্চার বাস্তব সুযোগ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। তাঁর মতে, পডকাস্ট, ভিডিও ও চলচ্চিত্রের মতো উপকরণ শিক্ষার্থীদের ভাষা ব্যবহারের অনুশীলনে সহায়তা করতে পারে।

সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করতে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কোবরা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ পেশার চাহিদা অনুযায়ী ইংরেজি শেখার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এআইকে আত্মোন্নয়ন ও ভাষাচর্চার সহায়ক হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে।

সম্মেলনটির সমাপনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও আখতার ইমাম অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের ম্যানেজিং পার্টনার ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। বাংলাদেশের কর্মবাজারের পাশাপাশি বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।



Source link

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।