
চোটের মধ্যে প্যারিসে যাওয়া, সুইজারল্যান্ডে সাইকেল চালানো- কিলিয়ান এমবাপের এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে গত কয়েক দিনে কম আলোচনা হয়নি। রেয়াল মাদ্রিদের পরের ম্যাচে কি এর প্রভাব দেখা যাবে, সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে কি সমর্থকদের দুয়োর মুখে পড়বেন ফরাসি তারকা; জল্পনা-কল্পনা চলছে। স্প্যানিশ ক্লাবটির কোচ জুজে মরিনিয়ো বলেছেন, শেষ পর্যন্ত এমন কিছু হলে সেটা হবে গণমাধ্যমের জয়।
আন্তর্জাতিক বিরতিতে ফ্রান্সের হয়ে নেশন্স লিগে খেলার সময় হাঁটুতে চোট পান এমবাপে। চোট নিয়েই প্যারিসের একটি নাইটক্লাবে দেখা যায় তাকে। যা নিয়ে ছড়ায় বিতর্ক। এ নিয়ে মরিনিয়ো জানান, সেটি ছিল প্যারিস ফ্যাশন উইকের একটি অনুষ্ঠান।
চোটের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সময়ে সুইজারল্যান্ডে সাইকেল চালানোর একটি ভিডিও প্রকাশ করেন এমবাপে। এতে সমর্থকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। মরিনিয়োর ব্যাখ্যা, সেটি হোটেলের ভেতরে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত সাইকেল ছিল।
ভিয়ারেয়ালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শনিবার লিগ মৌসুম পুনরায় শুরু করবে রেয়াল। ম্যাচ পূর্ববর্তী মরিনিয়োর সংবাদ সম্মেলনে অনুমিতভাবেই ওঠে এমবাপের প্রসঙ্গ। এনিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিতর্ক ছড়ানোর জন্য গণমাধ্যমকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান কোচ।
“এটা (এমবাপেকে নিয়ে আলোচনা) আপনাদের উদ্দেশ্যগুলোর একটি। বিষয়টি বুঝতে আইনস্টাইন হতে হয় না। কার কথা বলছি, সেটা বলতে চাই না। আমি ভুলও হতে পারি, তবে এটা আপনাদের মূল উদ্দেশ্যগুলোর একটি।”
ভিয়ারেয়ালের বিপক্ষে রেয়াল ম্যাচটি খেলবে বের্নাবেউয়ে। ঘরের মাঠে বার্নাবেউয়ে এমবাপেকে দুয়ো দেওয়ার আশঙ্কা নিয়ে মরিনিয়োর প্রতিক্রিয়া জানতে চান সাংবাদিকেরা।
“বের্নাবেউয়ের দর্শকদের বিষয়ে আমি মন্তব্য করব না। তাদের আমি সম্মান করি। আশা করি, বের্নাবেউয়ের দর্শকেরা ন্যায্য আচরণ করবেন। ন্যায্য হতে হলে বুদ্ধিমান হতে হয়। কথার আড়ালের অর্থ বুঝতে হয়, পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি বুঝতে হয়, উদ্দেশ্যগুলো বুঝতে হয়।
“কথা দিচ্ছি, রেয়াল মাদ্রিদের কোনো খেলোয়াড় যদি রেয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়ের মতো আচরণ না করে, নিজের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, খেলোয়াড় হিসেবে কিংবা নাগরিক হিসেবে নিজের কর্তব্য পালন না করে, তাহলে তাকে বেঞ্চেও দেখবেন না। তাকে দুয়ো দেওয়ার সুযোগও পাবেন না। সে বাড়িতেই থাকবে। বেঞ্চে বসার সুযোগই আমি তাকে দেব না।”
মরিনিয়ো নিশ্চিত করেছেন, পরের ম্যাচ অবশ্যই রেয়ালের জার্সিতে দেখা যাবে বিশ্বকাপজয়ী এমবাপেকে।
“এমবাপে খেলবে। তাকে বেঞ্চেও থাকতে হবে না। আমি নিশ্চিত, রেয়াল মাদ্রিদের প্রতি নিজের দায়িত্ব পালনে সে ব্যর্থ হয়নি।”
মরিনিয়োর মতে, রেয়াল মাদ্রিদকে সমালোচনা করার জন্য সব সময় কোনো না কোনো বিষয় খুঁজে বের করা হয়।
“এমন কিছু ঘটলে সেটা আপনাদের বিরাট জয় হবে। ম্যানচেস্টার সিটির বড় ঘটনা, যে পুরনো বিষয়টি নিয়ে আপনারা কথা বলতে ভালোবাসেন, কিংবা আমার দেশের ক্রিশ্চিয়ানো ও কোচকে ঘিরে কঠিন পরিস্থিতি- এমন অনেক ঘটনা আছে, যা আপনাদের কাজের জন্য আলোচনার খোরাক হতে পারত। কিন্তু সেসবও যথেষ্ট হয়নি।
“রেয়াল মাদ্রিদ হলো রেয়াল মাদ্রিদ। এই ক্লাবের সমালোচনা করার জন্য আপনারা সব সময় কিছু না কিছু খুঁজে বের করবেন। আমি আশা করেছিলাম, প্রথম সংবাদ সম্মেলনটি অন্তত কোনো বাস্তব বিষয় নিয়ে হবে। একটি কঠিন ম্যাচ নিয়ে কথা হবে। আপনাদের প্রথম প্রশ্নটিই ছিল… কিন্তু আমরা এখানে এসে পৌঁছেছি।”