
মেক্সিকোর সহিংসতাপ্রবণ সিনালোয়া অঙ্গরাজ্যের একটি কারাগারে দাঙ্গায় নয়জন বন্দি ও এক দর্শনার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৬ বন্দি।
বৃহস্পতিবার সকালে বন্দরনগরী মাজাতলানের এল কাস্তিয়ো কারাগারে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বন্দিদের সাক্ষাতের সময় এ সহিংসতা ঘটে।
সিনালোয়ার জননিরাপত্তা সচিব সিনুহে তেলেজ সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিওতে বলেন, “নয়জন বন্দি ও কারাগারে দেখা করতে আসা এক অপ্রাপ্তবয়স্ক দর্শনার্থী প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৬ জন বন্দি।”
তিনি জানান, দাঙ্গার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত করবে সরকারি কৌঁসুলিরা। বর্তমানে কারাগারের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় বন্দিরা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন। তবে কীভাবে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত জানায়নি।
সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, ন্যাশনাল গার্ড, নৌবাহিনী ও রাজ্যের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কারাগারে প্রবেশ করেন।
ক্যানবেরা টাইমস লিখেছে, মেক্সিকোর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সিনালোয়া অঙ্গরাজ্যে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে সহিংসতা বেড়েছে। এর কারণ হিসেবে সেখানকার মাদক পাচারকারী সিনালোয়া কার্টেলের দুই পক্ষের মধ্যে ক্ষমতার লড়াইকে দেখা হয়।
একপক্ষে রয়েছেন দণ্ডিত সাবেক মাদক সম্রাট হোয়াকিন ‘এল চাপো’ গুজমানের ছেলেরা, যারা ‘লস চাপিতোস’ নামে পরিচিত। অন্য পক্ষে রয়েছেন আটক আরেক সাবেক কার্টেল নেতা ইসমায়েল ‘এল মায়ো’ সাম্বাদার অনুসারীরা।
নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর যে ছয়টি মেক্সিকান অঙ্গরাজ্যে মার্কিন নাগরিকদের ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে, সিনালোয়া তার একটি।
মেক্সিকো সরকারের ওপর মাদক কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের চাপের মধ্যে বৃহস্পতিবারের এ দাঙ্গার ঘটনা ঘটল।
এর আগে গত মে মাসেও সিনালোয়ার রাজধানী কুলিয়াকানের একটি কারাগারে দাঙ্গা হয়েছিল। ওই ঘটনায় সাত বন্দি নিহত এবং একজন আহত হন।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মেক্সিকোয় ২৭৬টি কারাগার রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি কেন্দ্রীয় ও ২৪৯টি রাজ্য পরিচালিত কারাগার। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশটির কারাগারগুলোতে বন্দির সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৮ জন।

