• মঙ্গল. অক্টো. 27th, 2026

সিপিবি কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে শাহবাগে বিক্ষোভ ও সমাবেশ

Bytrendnews

অক্টো. 27, 2026


বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা, নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণ এবং দলীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ করার প্রতিবাদে শাহবাগে বিক্ষোভ ও সমাবেশ হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেন ছাত্র ইউনিয়ন ও যুব ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্নু বলেন, “আজকে মানুষ জয়বাংলা স্লোগান দিলে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের কথা বললে, ইতিহাস-সংস্কৃতি নিয়ে কথা বললে কিংবা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলে মানুষকে যেন আটক, হয়রানি ও মবের শিকার হতে না হয়। ১৮ কোটি মানুষ এই ভোগান্তি চায় না।

“আওয়ামী লীগের দোসর বা ফ্যাসিস্টের দোসর ট্যাগ দিয়ে মানুষকে মবের শিকার করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ, সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য কিংবা মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান দেওয়ার কারণে কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থি।”

সিপিবির কার্যালয় রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনের ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায়। একই ভবনের অষ্টম তলায় ছাত্র ইউনিয়ন ও যুব ইউনিয়নের কার্যালয়।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে সোমবার সিপিবির কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তোলেন ছাত্র ও যুব ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। এসময় তাদের কয়েকজনকে মারধর করা হয়।

পুলিশ বলছে, মিছিলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও যুবদলের লোকজনের সঙ্গে সিপিবির নেতাকর্মীদের ‘উত্তেজনা’ তৈরি হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ ঘটনায় যুব ইউনিয়নের দুজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

ওই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার শাহবাগে সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশের) সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা বলেন, “নেতাকর্মীরা যখন কার্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ ছিলেন, তখন পুলিশ সেখানে ঢুকে দলীয় কার্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালায়। মব সৃষ্টিকারীদের প্রতিহত করার পরিবর্তে যারা মবের শিকার হয়েছেন, পুলিশ গতকাল তাদের ওপরই চড়াও হয়েছে।

“গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের রাষ্ট্র, সরকার ও পুলিশ বাহিনীর চরিত্র আজ এ ঘটনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে।”

মাহির শাহরিয়ার রেজা বলেন, “ছাত্র ইউনিয়ন ও যুব ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে হামলা শুধু হামলার সংস্কৃতির অংশ নয়। এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে।

“যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলেন, তাদের কণ্ঠরোধ করতে চাওয়া হচ্ছে। যারা শোষণ-বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে চান, তাদেরও কণ্ঠ চেপে ধরার চেষ্টা চলছে।”

সমাবেশে যুব ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন ভুঁইয়া, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের দপ্তর সম্পাদক ইনজামামুলও বক্তব্য দেন।

সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় সামনে গিয়ে শেষ হয়।



Source link

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।