
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে ফেইসবুকে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে তলব করা সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীর বিষয়ে শুনানি আগামী ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ সোমবার এ আদেশ দেয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
তলব করা দুই আইনজীবী হলেন হাসানুজ্জামান তুষার ও মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী। শুনানিতে তাদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী সময়ের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন কৌঁসুলি গাজী এম এইচ তামীম।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আগামী ২৫ জানুয়ারি এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম শুনানি শেষে এ দিন সাংবাদিকদের বলেন, “ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মামলার রায়ের পর দুই আইনজীবী ফেইসবুকে ট্রাইব্যুনালকে অবমাননা করে পোস্ট দিয়েছিলেন। বিষয়টি নজরে আসার পর তাদের তলব করা হয়।
“শুনানির শুরুতে মনসুরুল হক চৌধুরী ট্রাইব্যুনালকে জানান, দুই আইনজীবী তাদের পোস্ট মুছে দিয়েছেন। পোস্ট দিয়ে ভুল করেছেন বলে তারা স্বীকার করেছেন এবং অনুতপ্ত হয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।”
দুই আইনজীবী ট্রাইব্যুনালের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন বলেও জানান তিনি। আমিনুল ইসলাম বলেন, “দুই আইনজীবী লিখিতভাবে তাদের বক্তব্য দেওয়ার জন্য সময় চেয়েছেন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি মুলতবি করা হয়েছে। পরবর্তী তারিখে তাদের লিখিত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিষ্পত্তি হতে পারে।”
এদিকে শুনানির সময় ট্রাইব্যুনাল দুই আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেন, “আইনজীবীদের প্রথমত জেন্টলম্যান হতে হবে, আইনকানুন সম্পর্কে জানতে হবে এবং আদালতের প্রতি সম্মান রেখে কথা বলতে হবে।”
এ সময় দুই আইনজীবীর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরীকে উদ্দেশ করে ট্রাইব্যুনাল বলেন, “মক্কেলের পেছনে দৌড়াদৌড়ির পাশাপাশি নবীন আইনজীবীদের পেশাগত রীতিনীতি শেখানোর কাজটিও তার করা জরুরি।”
শুনানি শেষে মনসুরুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, “আমি সময়ের আবেদন করেছিলাম। ট্রাইব্যুনাল সময় মঞ্জুর করেছেন। আগামী ২০২৭ সালের ২৫ জানুয়ারি পরবর্তী দিন আমাদের এই ট্রাইব্যুনালে আমরা উপস্থিত হব এবং আমাদের বক্তব্য রাখব।”
দুই আইনজীবী নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মনসুরুল হক চৌধুরী বলেন, “এখনো তো সেই সুযোগ আসেনি। তো আমরা আমাদের ভাবটা এক্সপ্রেস করেছি ওইভাবেই। ওইভাবেই আমরা যাব।”
ট্রাইব্যুনাল ও আইনজীবীদের মধ্যে সেতুবন্ধনের মত সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কে ফাটল ধরুক, তা তারা চান না বলেও মন্তব্য করেন মনসুরুল হক চৌধুরী।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর ফেইসবুকে মন্তব্যের অভিযোগে দুই আইনজীবীকে তলব করে ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছিল।
ওই রায়ের সংবাদ প্রতিবেদন শেয়ার করে হাসানুজ্জামান তুষার ট্রাইব্যুনালকে ‘অবৈধ ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ আখ্যা দিয়ে রায়ের নিন্দা ও প্রত্যাখ্যানের কথা লিখেছিলেন। পরে মোহাম্মদ হাসান চৌধুরীও ওই পোস্টে রায়কে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের অবৈধ রায়’ বলে মন্তব্য করেন।