
এই চারটি হিসাব যেন বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটের চারটি আলাদা ছবি। প্রথম ছবিতে অনভিজ্ঞতা। দ্বিতীয়টিতে পরিণত হওয়ার গল্প। তৃতীয়টিতে উন্নতির গতি থমকে যাওয়ার ইঙ্গিত। আর চতুর্থ ছবিতে পুরোনো শঙ্কার প্রত্যাবর্তন।
তবে এখানেই একটা সতর্কতা জরুরি। ৫০ ওভার পূর্ণ করতে না পারার হার বাড়লেই যে ব্যাটিংয়ের মান একই অনুপাতে কমেছে, তা নয়। কখনো দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করতে গিয়ে উইকেট পড়ে। কখনো ম্যাচের পরিস্থিতি ঝুঁকি নিতে বাধ্য করে।
প্রতিপক্ষের শক্তি কিংবা উইকেটের চরিত্রও হিসাব বদলে দিতে পারে।
তা ছাড়া কয়েক বছরের পরিসংখ্যান দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পতনের চূড়ান্ত রায় দেওয়াও ঠিক হবে না। কিন্তু প্রশ্ন তোলা যায়; বরং তোলা উচিত।
বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা কি আবার ইনিংস গড়ার ধৈর্য হারাচ্ছেন? শুরুটা ভালো হলেও সেটিকে বড় সংগ্রহে রূপ দিতে সমস্যা হচ্ছে? নাকি ব্যাটিং অর্ডারের কোথাও এমন দুর্বলতা তৈরি হয়েছে, যা চাপের মুখে বারবার বেরিয়ে আসছে?
শুধু এই পরিসংখ্যান থেকে প্রশ্নগুলোর নির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া যাবে না। তবে উত্তর খোঁজার প্রয়োজনীয়তা যে তৈরি হয়েছে, তাতে সন্দেহ নেই।
কারণ, ৫০ ওভারের ক্রিকেটে শুধু ভালো শুরু করলেই চলে না। মাঝের সময়টা সামলাতে হয়। শেষের জন্য শক্তি জমিয়ে রাখতে হয়। কখনো ঝড় তুলতে হয়, কখনো ঝড় থামার অপেক্ষায় থাকতে হয়। জীবনের মতোই।
বাংলাদেশের ক্রিকেট একসময় এই শিক্ষা বেশ ভালোভাবেই রপ্ত করেছিল। সেখান থেকে পিছিয়ে পড়ার লক্ষণ তাই আরও বেশি ভাবায়।
প্রশ্নটা এখন আর বাংলাদেশ ৫০ ওভার ব্যাটিং করতে পারে কি না, সেটি নয়। প্রশ্ন হলো, এত বছর ধরে যা শিখেছে, সেটি কি ভুলতে বসেছে?
ক্রিকেটের ৫০ ওভারের জীবনেও সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি বোধ হয় সেটাই। পথ চিনে ফেলার পর আবার পথ হারিয়ে ফেলা।