• মঙ্গল. অক্টো. 20th, 2026

শেরপুরে আজান হলে থামে ঢাক-ঢোল, নামাজ শেষে ফের পূজা

Bytrendnews

অক্টো. 20, 2026


শেরপুরে মসজিদে আজান ও নামাজের সময় বন্ধ থাকে পূজামণ্ডপের ঢাক-ঢোল ও বাদ্যযন্ত্র। নামাজ শেষে আবার শুরু হয় পূজার আয়োজন।

এভাবেই একে অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখিয়ে দুর্গোৎসব পালন করছেন শহরের হিন্দু ও মুসলমানরা।

শহরের কোথাও একই ভবনে মসজিদ ও মন্দির, আবার কোথাও পাশাপাশি রয়েছে দুই উপাসনালয়।

শহরের ঘোষপট্টি মোড়ে একটি ভবনের তৃতীয় তলায় মসজিদ, আর সেই ভবনের নিচতলায় রয়েছে দক্ষিণা কালী মন্দির। কাছেই শুভার্থী সংঘ ক্লাব ও মুন্সিবাজার দুর্গামন্দিরে চলছে পূজা।

মুন্সিবাজারের ব্যবসায়ী মোফাজ্জল হোসেন আকন্দ বলেন, ৪৭ বছর ধরে তিনি ওই এলাকায় ব্যবসা করছেন। সেখানে একই ভবনে নামাজ ও পূজার আয়োজন চলে।

তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে কোনো মনোমালিন্য বা দ্বন্দ্ব নেই। পূজার সময় পূজা হচ্ছে, আর নামাজের সময় আমরা নামাজ পড়ছি। হিন্দু ভাইদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো।”

শহরের মাই সাহেবা জামে মসজিদ থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে মদন মোহন মন্দিরে প্রগতি সংঘের পূজা হচ্ছে।

মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল আউয়াল চৌধুরী বলেন, প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এই মসজিদের কাছেই দুর্গাপূজা হচ্ছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই।

তিনি বলেন, “মসজিদে নামাজের সময় নামাজ হচ্ছে। আমরা এখানে অত্যন্ত সম্প্রীতির মধ্যে বসবাস করছি। নিজেদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করছি।”

প্রগতি সংঘের পূজারি প্রণয় সাহা বলেন, মসজিদে মুসল্লিরা তাদের সহযোগিতা করেন, খোঁজখবর রাখেন। নামাজের সময় তারা বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখেন। নামাজ শেষে আবার পূজা শুরু হয়।

শহরের কালীর বাজারে কালেক্টরেট জামে মসজিদের কাছেই রয়েছে মা ভবতারা কালী মন্দির ও মার্চেন্ট ক্লাবের পূজামণ্ডপ।

মন্দিরের পূজারি অনিন্দ্য সাহা বলেন, মসজিদে সময়মতো আজান ও নামাজ হয়। নামাজের সময় তারা বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখেন।

তেরাবাজার জামিয়া সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসা ও মসজিদের কাছেও রয়েছে কয়েকটি পূজামণ্ডপ। মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. শফিউল আলম চান বলেন, নামাজের সময় পূজামণ্ডপে মাইক ও বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখা হয়। এতে হিন্দু ও মুসলমানরা নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালন করতে পারেন।

একই এলাকার চাকী বাড়ির পূজারি মলয় চাকী বলেন, তাদের বাড়ির কাছে মাদ্রাসা ও মসজিদ রয়েছে। পাশাপাশি হরি মন্দির ও অন্য একটি বাড়িতে দুর্গাপূজা হচ্ছে। তবে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনে কোনো বিঘ্ন ঘটছে না বলে জানান তিনি।

শহরের চাপাতলী ঋষিপাড়া শ্মশান কালী মন্দিরের দুই পাশে রয়েছে দুটি মসজিদ। মন্দির কমিটির সভাপতি ভুট্টো ঋষি বলেন, মাঝখানে তাদের মন্দিরে পূজা হচ্ছে। এ নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। একই এলাকার মুসল্লি সিরাজ আলী বলেন, নামাজের সময় হলে পূজার ঢাক-ঢোল ও বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষে আবার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান চলে।

এ ছাড়া শহরের এসআর অফিস মসজিদের কাছে রঘুনাথ জিউর মন্দির, পুরোনো গরুহাটির মসজিদের কাছে অরুণোদয় সংঘের পূজামণ্ডপ এবং বাগবাড়ী জামে মসজিদের কাছেও দুটি পূজামণ্ডপ রয়েছে।

শহরের সংগীতজ্ঞ ওস্তাদ উদয় সাহা বলেন, শেরপুরে অনেক পূজামণ্ডপের কাছাকাছি মসজিদ রয়েছে। মুসলিমরা পূজার আয়োজনে সহযোগিতা করেন। ফলে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না বলে তার অভিজ্ঞতা।

দুর্গোৎসব ঘিরে শহরের বিভিন্ন এলাকা সাজানো হয়েছে রঙিন আলো ও তোরণ দিয়ে। এবার শেরপুর জেলার পাঁচ উপজেলায় ১৬৭টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে।



Source link

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।