• মঙ্গল. অক্টো. 20th, 2026

মিষ্টির পর ইশরাক, বিএনপিতে কী চলছে?

Bytrendnews

অক্টো. 20, 2026


অস্ত্র হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযানের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার জেরে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেন ইস্তফা দেওয়ার পর বিএনপির ভেতরে ও বাইরে নানা আলোচনা চলছে।

সারাদেশে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগ, ‘বিতর্কিত’ ঘটনার প্রেক্ষাপটে ইশরাকের পদত্যাগের ক্ষেত্রে শীর্ষনেতৃত্বের যে ‘কঠোর’ অবস্থান, তার পেছনের কারণ কী?

বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলেছেন, বিএনপির ভেতরে ‘প্রাতিষ্ঠানিকতা’ রক্ষায় দলটি জটিলতার মধ্যে পড়েছে। যে কারণে ইশরাক হোসেনের বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এর আগে ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও দখলের চেষ্টার ঘটনায় আলোচিত বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগ করেন। সে সময় বিএনপি সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নিয়েছে।


Image

মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় পদত্যাগ করেন সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।

তার আঠারো দিনের মাথায় ভিন্ন এক ‘বিতর্কিত’ কর্মকাণ্ডে প্রতিমন্ত্রিত্ব ছাড়তে হল দলটির তরুণ নেতা ইশরাক হোসেনকে। অবশ্য এমপি ও দলীয় পদ বহাল রয়েছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির এ সদস্যের।

গেল শনিবার ঢাকার গেণ্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর এলাকায় অস্ত্র হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ চালানোর ভিডিও নিয়ে বিতর্কের মধ্যে সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন।

অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশেনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক বিএনপি চেয়ারম্যানের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সহায়ক কমিটিরও সদস্য।

রাড্ডাকাণ্ডের পর সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ইশরাকের হোসেনের ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে।

আর পদত্যাগের কারণে হিসেবে ইশরাকের ভাষ্য, বিএনপি বা সরকার যাতে ‘বিব্রত না হয়’ এবং প্রধানমন্ত্রীর কাজ ‘আড়ালে পড়ে না যায়’, সেজন্যই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর থেকে মাত্র আট মাসের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক পদত্যাগ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে জহির উদ্দিন স্বপনকে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করার পর ইশরাক হোসেনের ইস্তফার ঘটনা ঘটল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ শাহান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সরকারের কার্যক্রমে স্পষ্ট যে তারা দলের ভেতরে প্রাতিষ্ঠানিকতা রক্ষা করতে অনেক ‘ডিফিকাল্টিজ ফেইস’ করছে। একই সময়ে সরকারের অন্যান্য লোকজন আছে, তাদের কাজগুলো গতিশীল করার ক্ষেত্রে একটা ডিফিকাল্টিজ হচ্ছে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের এই অধ্যাপক মনে করেন, মিরপুরের ঘটনায় সংসদ সদস্যের পদত্যাগ বা প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ, এগুলো দলের ‘অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা’ ও ‘কার্যক্রমের অংশ’।

তবে বিশ্লেষকদের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “না, না, পজিশন তো নিতে হবে। কোনো একটা সিচুয়েশন হলে…সেখানে ভাবমূর্তি ক্ষতি হলে তো পজিশন নিতে হবে।”


Image

 রাজধানীর গেণ্ডারিয়ায় শনিবার মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্রহাতে ইশরাক হোসেন। অভিযানের ভিডিও তার ফেইসবুকে প্রকাশের পর তা ছড়িয়ে পড়ে। ছবি: ইশরাক হোসেনের ফেইসবুক

ইশরাকের পদত্যাগ, কীভাবে দেখছে বিএনপি?

ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ছয়জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের পাঁচ জন জ্যেষ্ঠ ও তিন জন তরুণ নেতার সঙ্গে কথা বলেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

তাদের বক্তব্যে মোটাদাগে পাঁচটি বিষয় উঠে এসেছে।

প্রথমত, ‘লঘু পাপে গুরুদণ্ড’ পেয়েছেন ইশরাক হোসেন; এতে করে দলের সাধারণ ও তৃণমূল নেতাকর্মীরা ‘ব্যথিত’ হয়েছেন।

দ্বিতীয়ত, ‘আচরণগত’ ভূমিকার জন্য খোকাপুত্র ইশরাক দ্রুত ‘শাস্তি’ পেলেও পার পেয়ে যাচ্ছেন অন্যরা, এতে করে দলের ‘স্বচ্ছতা’ নিয়ে ‘প্রশ্ন’ উঠবে।

তৃতীয়ত, ইশরাক হোসেন কার বা কাদের ‘পরামর্শে অভিযানে’ অংশ নিয়েছেন?

চতুর্থত, ইশরাক হোসেন প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজেই সরকারের অইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘বক্তব্য’ দিয়েছেন, যা তার ‘ইস্তফার’ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের ভেতরের কারো কারো ‘অবদান’ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন কেউ কেউ।

পঞ্চমত, বিএনপির তরুণ কয়েকজন নেতা মনে করেন, গেল কয়েক বছরে রাজনীতিতে ‘শো অফ’ করার যে ‘প্রবণতা’ বেড়েছে, ইশরাক হোসেনের ‘অভিযানে’ তা স্পষ্ট হয়েছে।


Image

জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন শেষে বের হওয়ার পর শত শত নেতাকর্মীর ভিড়ে সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।

‘লঘুপাপে গুরুদণ্ড’ পেয়েছেন ইশরাক?

ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাকের পদত্যাগের আলোচনার মধ্যে সোমবার দুপুরে মগবাজার আমবাগান এলাকায় একটি চায়ের দোকানে কয়েকজন আলাপ করছিলেন।

একজন বলছিলেন, “অস্ত্র বৈধ হলেই তো আপনি বের করতে পারেন না, মন্ত্রী হয়ে তো আরও পারেন না।”

অটোচালক মো. মকবুল হোসেন মনে করেন, ইশরাক হোসেনকে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে প্রধানমন্ত্রী বলে থাকলে সেটি তার ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ হয়েছে।

তার মন্তব্য, “কাজটা করছে ভালো। তার অপরাধ প্রকাশ্যে অস্ত্র বের করা। তারে অন্য শাস্তি দিতে পারতো, কিন্তু তারে সরায়া দেওয়া ভুল ডিসিশন।”

পাশ থেকে আরেকজন বলেছিলেন, “লাঠি নিয়ে গেলে সমস্যা নাই। কিন্তু আসলে এক হিসেবে কাজ খারাপ, আরেক হিসাবে ভালো করছে।

“সবাই চায় দেশ মাদকমুক্ত হোক।”

মঙ্গলবার চট্টগ্রামে একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে আলোচিত এ পদত্যাগ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়।

জবাবে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ইশরাক হোসেনের কাজকে ‘নেতিবাচক’ বলার সুযোগ নেই। তবে তার হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো।

বিএনপির সকল স্তরেও ইশরাক হোসেনের আচরণ ও প্রতিমন্ত্রিত্ব ছাড়া নিয়ে আলোচনা চলছে।

একজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ইশরাক হোসেনের ‘অস্ত্র হাতে অভিযানের’ সমালোচনার পাশাপাশি তাকে ‘পদত্যাগ করতে বলার’ বিষয়টিকে ‘লঘু পাপে গুরুদণ্ড’ হিসেবে দেখছেন বিএনপির নেতারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য সোমবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ইশরাক হোসেনকে আমরা সবাই আদর করি, স্নেহ করি। সে কেন এমন করল, জানি না। এই সিদ্ধান্তে আমিও মনক্ষুণ্ন হয়েছি।”

নাম প্রকাশ না করে এ নেতা বলেন, “আমি আসলে কথা বলে ছেলেটাকে আরও কষ্ট দিতে চাই না।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিসভার সদস্য ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটা প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আমার মন্তব্যের কিছু নেই।”


Image

মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ কার্যালয় ও এর স্বাস্থ্যকেন্দ্র চার দিন আগে গুঁড়িয়ে দেয় একদল লোক। এ ঘটনায় পদত্যাগ করতে হয় সংরক্ষিত আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে।

‘বিতর্কিত’ কর্মকাণ্ডে অনেকে, সাজা পাচ্ছেন কেউ কেউ

গেল বছরের সেপ্টেম্বরে ফেইসবুক পোস্টে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে দলের সাত হাজারের বেশি দলীয় সদস্যের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অন্তত শতাধিক বহিস্কার করা হয়েছিল বলে জানায় বিএনপির মিডিয়া সেল।

গেল ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র প্রদর্শন, দখলসহ নানা অভিযোগ আসে। তবে কতজনকে বহিস্কার করা হয়েছে, তার কোনো সম্মিলিত হিসাব বিএনপির দপ্তর থেকে পাওয়া যায়নি।

মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় গেল ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দলের সহযোগী সংগঠন যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা ও ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। বহিষ্কার করা হয়েছে কয়েকজন নেতাকে।

এরপর ১ অক্টোবর পদত্যাগ করেন সংরক্ষিত আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্তত তিন সদস্যের পর্যবেক্ষণ, সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যেই কয়েকজনের ক্ষেত্রে ‘সাজা’র ঘটনা দেখতে হল।

এর মধ্যে সংসদ সদস্য মিষ্টিকে পদত্যাগ করতে বলা ছাড়াও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে জহির উদ্দিন স্বপনকে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করার প্রসঙ্গ টেনেছেন তারা।

এর আগে ‘ব্যক্তিগত’ কারণ দেখিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ করার প্রসঙ্গও আসে তাদের বক্তব্যে।

ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক এক জন সাধারণ সম্পাদক মনে করেন, ইশরাক হোসেনকে ‘লঘু পাপে গুরুদণ্ড’ দেওয়া হয়েছে। দলের নেতাকর্মীরা এতে হতাশ হয়েছেন বলে দাবি তার।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, “সরকারের একাধিক সংস্থা দলের চাঁদাবাজদের, দখলদারদের তালিকা করেছে, অনেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের নামও এসেছে তাদের তালিকায়। ঢাকা মহানগর উত্তরের কয়েকজন নেতা, সংসদ সদস্য, দক্ষিণের কমিটির অনেক নেতার বিরুদ্ধে সরাসরি চাঁদাবাজদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা হিসেবে নাম এসেছে সংবাদপত্রেও। এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।”

অন্যদের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নে বিএনপির অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটার ব্যাখ্যা কেবল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই দিতে পারবেন।

“ওনার কাছে যে পরিমাণ তথ্য থাকে বা ইনফরমেশন পান, সে পরিমাণ ইনফরমেশন তো আমাদের কাছে থাকে না। ফলে আমরা এটার সঠিক ব্যাখ্যা আপনাকে দিতে পারব না। এটা উনিই কেবল বলতে পারেন কোন প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাটাকে উনি কীভাবে মূল্যায়ন করেছেন।”


Image

ছবি: ইশরাক হোসেনের ফেইসবুক

‘কার পরামর্শে চলেন ইশরাক?’

ইশরাক হোসেন বিএনপির উঠতি নেতাদের মধ্যে সামনের সারিতে থাকলেও তার ‘রাজনৈতিক পরামর্শদাতা’ কারা, তা নিয়ে দুই জন মন্ত্রী, এক জন প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির তরুণ দুই নেতা ‘প্রশ্ন’ তুলেছেন।

একজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, ইশরাক হোসেন কার পরামর্শে সে দিন কথিত অভিযানে অংশ নিয়েছেন, সেটি বড় প্রশ্ন।

ওই মন্ত্রী বলেন, “ও কার পরামর্শে চলে, জানি না। আমরা খোকা ভাইয়ের ছেলে হিসেবে তাকে স্নেহ করি।”

ইশরাক হোসেনের ইস্তফার ঘটনায় মনক্ষুন্ন হয়েছেন, এমন একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, “সেদিন কারা ইশরাককে অভিযানে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন, কেন দিয়েছেন, এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।”

এ বিষয়ে ইশরাক হোসেনের মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি ফোন ধরেননি।


Image

জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। অস্ত্র হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ চালিয়ে বিতর্কের মুখে পড়ার পর সোমবার দুপুরে তিনি এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন। ছবি: শামছুল হক রিপন

‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে বক্তব্য কেন?’

ইশরাক হোসেন প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজেই সরকারের অইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘বক্তব্য’ দিয়েছেন দাবি করে দলের নেতাদের কেউ কেউ বলেন, এটা তার ‘ইস্তফার ক্ষেত্রে ‘ভূমিকা’ রেখেছে।

“এ বিষয়ে সরকারের ভেতর থেকে ও দলের ভেতর থেকেও কোনো কোনো পক্ষের অবদান থাকতে পারে,” এমন সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির একজন প্রভাবশালী নেতা।

সরকারের অন্তত দুই জন প্রতিমন্ত্রী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, শনিবারের ‘অভিযান’ নিয়ে ইশরাক হোসেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

সোমবার সংবাদ সম্মেলনেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি ঘটনাটা বুঝলাম না, ওকে সরি-টরি বলতে নির্দেশ হতে পারতো। ইশরাকও সরি বললে পারতো, কিন্তু তিনি তো একের পর এক স্ট্যাটাস (ফেইসবুকে পোস্ট) দিয়েছেন।

“আরেকটি প্রবলেম আছে, সরকারে থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন, তিনি নিজেই কীভাবে এই প্রশ্ন তুলতে পারেন? আপনি তো নিজেই ক্ষমতায়, আপনিই বলছেন পুলিশের ক্ষমতা নেই। কিন্তু এটা কি আপনি প্রকাশ্যে ব্লেইম করতে পারেন?”

শনিবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে ইশরাক হোসেন এ প্রসঙ্গে বলছিলেন, “স্থানীয় পুলিশও নানা সীমাবদ্ধতার জন্য তাৎপর্যমন্ডিত ব্যবস্থা নিতে পারছে না।”

তার ভাষ্য ছিল, “আমি নিজে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অবহিত করেছি এলাকার বিষয়ে, উনিও কী করবেন, সারাদেশে মাদকের বিস্তার।”


Image

জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন শেষে বের হয়ে যাওয়ার সময় হ্যান্ডমাইকে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন ঢাকা-৬ আসনের এমপি।

‘শো অফ’ করার প্রবণতা?

শনিবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে ইশরাক হোসেনের বলেছিলেন, ‘নিরাপত্তা ও সতর্কতার’ জন্য তিনি অস্ত্র উঁচিয়ে ধরে ছিলেন।

দলের তরুণ অন্তত তিন জন নেতা বলেছেন, রাজনীতিতে ‘শো অফ’ বা জাহির করার যে প্রবণতা বেড়েছে তার একটি লক্ষণ ইশরাক হোসেনের ‘অভিযানে’ও নতুনভাবে সামনে এসেছে। তার জনসংযোগ দলের পরামর্শে তিনি নিজেই ভিডিওপ্রচার করেছেন একের পর এক।

তবে এ বিষয়ে ইশরাক হোসেনের প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “ওনার ভিডিও তো স্পেশালি আলাদা করে করা হয় না। ওনার সঙ্গে সব সময় সেটআপ থাকে। শনিবারের ‘অভিযানটি’ নির্ধারিত কর্মসূচি ছিল, অর্গানাইজড কর্মসূচি ছিল।

“আমরা বরাবরই সব প্রোগ্রামই রেকর্ড করি। গ্রুপে ফুটেজ সরবরাহ করা হয়। এটা নিয়মিত অংশ।”

‘দীর্ঘমেয়াদে ফল আসবে?’

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির একজন নেতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী দলের প্রধান হিসেবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, কিন্তু এখানে লক্ষণীয় এসব ব্যবস্থা গ্রহণে দীর্ঘমেয়াদে কোনো ফল আসবে কি না? নাকি এটি ব্যাকফায়ার করবে?”

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন নেতা বলেছেন, একজন প্রতিমন্ত্রীর এ ধরনের আচরণ ঠিক হয়নি। তবে তাকে তিরস্কার বা এ ধরনের কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া যেত।

“কিন্তু সরাসরি পদত্যাগ করতে বলায় এ বার্তা ভিন্ন দিকে যেতে পারে। এটা নেতাকর্মীদের নিরুৎসাহিত করছে।”

তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একজন উপদেষ্টা বলেন, “কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইন সবার জন্য সমান। দলের চেয়ারম্যান সব সময় নিয়ম ও দলের গঠনতন্ত্র মেনে চলার তাগিদ দিয়েছেন।”

দলের শৃঙ্খলার বিষয়ে এ উপদেষ্টা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “মূলত মহানগর উত্তরে কমিটি নেই। মহানগর দক্ষিণে কেউ কাউকে মানে না। নানা ধরনের গ্রুপিং রয়েছে।”

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি।

দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সরকারের একজন মন্ত্রী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সরকারে ও দলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর মনোভাব স্পষ্ট হওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।

দলের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের কল্যাণ, গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখা এবং অর্থনীতি সচল রাখার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন। এসব লক্ষ্য অর্জনে তিনি যে সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত মনে করছেন, সেটিই নিচ্ছেন। এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিএনপির নেতা-কর্মীদের কাছেও একটি বার্তা যাবে।”

তিনি বলেন, “আমরা কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নই, কেউ মানে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে নই। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছেও বার্তা যাবে যে কেউ ইচ্ছামতো কিছু করে পার পেয়ে যেতে পারবেন না।”

বিশ্লেষকরা কী বলছেন

ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘটনাকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিস্থিতি ‘সামাল’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরীন।

তিনি বলেন, “একজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া মানে এ না যে, বিএনপি এ বিষয়ে তাদের গঠনতন্ত্র এবং সবকিছু নিয়ে কড়াকড়ি অবস্থান নিয়েছে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের এই অধ্যাপক মনে করেন, এ সিদ্ধান্ত ‘সাময়িক’ এবং ‘মানুষকে খুশি করতেই’ নেওয়া হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন আরেক বিশ্লেষক অধ্যাপক আসিফ শাহান।

সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে যে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সেটাকে খারাপ মনে করেন না তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, “এটা একটা এফোর্ট, সবাইকে এই বার্তা দেওয়া, এই ধরনের কাজকর্ম করলে এই ধরনের রিঅ্যাকশন হবে। এটা দলের দুবর্লতাকে কাটানো এবং নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হিসেবেই আমি মনে করি।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুশতাক হোসেন বলেন, “আসলে বিএনপি দলটা তো এভাবে ডিসিপ্লিন বা রেজিমেন্টেড দল না। যেমন মিষ্টি এবং ইশরাকের বিষয়টি ইন-ডিসিপ্লিনের জন্য।”

তিনি মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই চেষ্টা যদি সফল হয়, তাহলে তিনি অন্য পার্টির সন্ত্রাসীদের ধরার নৈতিক অধিকার পাবেন।

‘রেগুলার প্রসেস’

ইশরাক হোসেনের ইস্তফা, মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন-এসবকে নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশই মনে করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, “সরকারের এসব সিদ্ধান্ত একটা ‘রেগুলার’ বিষয়, পরিবর্তন হতেই থাকবে। মন্ত্রিসভা সবসময়ে এরকমই, সারা দুনিয়াতেই এটা হতে থাকে।”

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ভাষ্য, “বিএনপি একটি বড় দল। এখানে হিমশিম খাওয়ার কোনো বিষয় নেই।”

পুরনো খবর:


পিস্তল হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযানে’ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক


‘সামাজিক প্রতিরোধ’ করতে ‘অভিযান’, সতর্কতার সঙ্গে অস্ত্র দেখিয়েছি: ইশরাক

প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ছেন ইশরাক

ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন? ইশরাক বললেন, জামায়াত নেতার কথায় তিনি ‘ব্যথিত’

ইশরাকের সংবাদ সম্মেলনে হট্টগোল-হাতাহাতি, ফোন উধাও

রাড্ডাকাণ্ড: বিএনপির সংরক্ষিত এমপি মিষ্টির পদত্যাগ

দল চাইলে মেয়র নির্বাচন করতে ‘শতভাগ প্রস্তুত’ ইশরাক

অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রীর অভিযান, আইনের ব্যত্যয় হলে ব্যবস্থা: ডিএমপির ডিবি প্রধান



Source link

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।