• মঙ্গল. অক্টো. 20th, 2026

ইয়েমেনে সামরিক প্রশিক্ষণ শিবিরে হুতি হামলায় নিহত ৫৮

Bytrendnews

অক্টো. 20, 2026


ইয়েমেনের শাবওয়া প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষণ শিবিরে হুতিদের হামলায় ৫৮ জন নিহত ও আরও ২০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।

লড়াই আরও তীব্র হয়ে ওঠার মধ্যে সোমবার এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাবওয়ার গভর্নর আওয়াদ আল ওয়াজির।

তিনি আরও জানান, আল আলম শিবিরে হুতিদের এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তাদের যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, আহত লোকজন ও রক্তাক্ত মৃতদেহ এখানে ওখানে পড়ে আছে।

হুতিরা ও ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারে অনুগত বাহিনীগুলোর মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। হুতিরা ইরানের সমর্থন পেয়ে আসছে আর সরকারি বাহিনীগুলোকে সমর্থন যোগাচ্ছে সৌদি আরব। সেপ্টেম্বরে হুতিরা লোহিত সাগরের বাব এল মান্দেব প্রণালির উপকূলীয় ভূখণ্ডগুলো দখল করে নেওয়ার পর থেকে দুপক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, একটি প্রশিক্ষণ অনুশীলন চলাকালে হুতিরা তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে শিবিরটিকে লক্ষ্যস্থল করে।

এডেন উপসাগরের তীরবর্তী শাবওয়া ইয়েমেনের দক্ষিণমধ্যাঞ্চলীয় জ্বালানি সমৃদ্ধ প্রদেশ। এখানে বালহাফ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেন্দ্রটি দেশটির বৃহত্তম শিল্প প্রতিষ্ঠান।

হুতি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিরা সারি এক্সে জানিয়েছেন, তারা সৌদি বাহিনীর দ্বারা পরিচালিত ওই শিবিরটিকে লক্ষ্যস্থল করেছে।

তবে এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী চলতি অক্টোবরে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে। এর মধ্য দিয়ে তারা বাব এল মান্দেব প্রণালির উপকূলীয় হাতছাড়া হওয়া ভূখণ্ডগুলো উদ্ধারের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় উচ্চভূমিতে সরকারি বাহিনীর সর্বশেষ শক্তিকেন্দ্র তায়িজে তারা হুতিদের অবরোধের মধ্যে পড়েছে।

ইয়েমেনের সংঘাতকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা বৃহত্তর যুদ্ধের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ হুতিরা যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারী দেশ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আক্রমণ জোরদার করেছে। ইয়েমেনের শিয়া গোষ্ঠীটি সৌদির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি ‘সৌদি আরামকো’ ও রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্যস্থল বানিয়েছে।

২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে সরকারকে দেশের দক্ষিণ দিকে সরে যেতে বাধ্য করে। পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব জোট বাহিনী ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করলে ওই অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। হামলা-পাল্টা হামলায় ব্যাপক রক্তক্ষয়ের পর অচলাবস্থা তৈরি হয়, পরে ২০২২ সালে বিবদমান পক্ষগুলো একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় যা চলতি বছর পর্যন্ত কার্যকর ছিল।



Source link

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।