
নারী বহু ফ্রন্টে লড়াই করে। পরিবার, বাবা, স্বামী, স্কুল, বিয়ে, সমাজ, পোশাক—এই সব যুদ্ধ সামলিয়ে বাজারব্যবস্থা, এনজিও, ক্ষুদ্রঋণ, কোম্পানি, সিন্ডিকেট, বাণিজ্যচুক্তি, জলবায়ু, হেন কিছু নাই তার চলার পথে ক্রমাগত বাধা তৈরি করে না। পরিবারের কন্যাশিশুটির স্কুলে পড়া, কোচিংয়ে যাওয়া, মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়া চালানো, কলেজ শেষ করে ঢাকায় পড়তে চাওয়া বা গার্মেন্টসে চাকরি করার সিদ্ধান্ত, বিয়ে, বাচ্চা সব ধাপেই তার বিরামহীন সংগ্রাম।
নারীর লড়াই শুধু ‘ঘর বনাম বাহির’ কিংবা ‘রক্ষণশীলতা বনাম প্রগতি’র বাইনারি নয়। এ দেশের কৃষক নারীকে প্রতিনিয়ত এক অসম বাজারব্যবস্থার সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়। বাজার মানে কোম্পানির দৌরাত্ম্য, বাজার মানে সিন্ডিকেট। বাজার মানে পাঁচ বছরে কৃষি উপকরণের ২৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি। বাজার মানে সার–সংকট, অসৎ ডিলারশিপ। দেখলে মনে হয় ধান–আলু–পটোলের জগৎটা শুধু পুরুষের, কিন্তু বাস্তবে কী?
আপাতদৃষ্টিতে ট্যারিফ, শুল্ক বা ‘ফ্রি ট্রেড’ ম্যাক্রো অর্থনীতির বিষয়; বিশ্বরাজনীতি, অর্থনৈতিক আধিপত্যবাদ বা ফুলবাড়ীর কয়লাখনি—গ্রামীণ নারীর উঠান থেকে অনেক দূরে। কিন্তু ‘পুরুষ’ বিশেষজ্ঞদের তৈরি করা মার্কিন বাণিজ্যচুক্তির প্রথম ভুক্তভোগী কে হবে? পায়রা কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ভুক্তভোগী কে ছিল? ফুলবাড়ী কয়লাখনির প্রথম ভিকটিম কে হতে যাচ্ছে? আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে যত কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্র হয়েছে, যত লাখে লাখে মানুষ উচ্ছেদ হয়েছে, তার সর্বকনিষ্ঠ ভুক্তভোগী কে?—এ প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা জরুরি।