
কেন ভাঙচুর, লুট, আগুন: সহিংসতার যুক্তি
তিনটি আলাদা ধরনের লক্ষ্য দেখা যাচ্ছে, আর প্রতিটির আলাদা যুক্তি আছে।
রাষ্ট্রের প্রতীক। লিমোজে সিটি হল পুড়েছে, মার্সেইয়ে কালো পোশাকের বিক্ষোভকারীরা সিটি হলে ঢুকে অরাজকতাবাদী গ্রাফিতি এঁকেছে, লিয়ঁয়ে পর্যটন দপ্তরে আগুন দেওয়া হয়েছে। এখানে বার্তা স্পষ্ট: রাষ্ট্র আমাদের কথা শোনে না, তাই রাষ্ট্রের ভবনই লক্ষ্য।
সম্পদ ও পুঁজির প্রতীক। দাঙ্গাকারীরা গালেরি লাফায়েৎ ডিপার্টমেন্ট স্টোরে ঢোকার চেষ্টা করেছে, ব্যাংক ভাঙচুর করেছে, লাকোস্ট দোকান তছনছ করেছে। প্যারিসের বিলাসী বাণিজ্যিক এলাকা আর ধনী-গরিবের দূরত্ব এখানে এক বিন্দুতে মিলেছে। যাঁদের স্কুলে শিক্ষক নেই, তাঁদের চোখে বিলাসী দোকানের কাচ ভাঙা ক্ষমতার প্রতীক ভাঙা।
পুলিশ। পুলিশের গাড়ি ও সদস্যদের ওপর হামলা। পুলিশকে সরকারের দৃশ্যমান বাহু হিসেবে দেখার প্রবণতা ফ্রান্সের উপশহরে বহু দশকের, এবং সেটা অনেকটাই পারস্পরিক অবিশ্বাস।
এখানে একটি অস্বস্তিকর সত্যও স্বীকার করা দরকার। সহিংসতার কিছু অংশ রাজনৈতিক বার্তা নয়, নিছক সুযোগ আর উত্তেজনার আনন্দ। সব ভাঙচুরকে ‘প্রতিবাদের ভাষা’ বলা যেমন ভুল, সব ভাঙচুরকে ‘নিছক অপরাধ’ বলাও ভুল।