
একই পরিবারের সদস্যরা যাতে ভিন্ন সম্পর্কের পরিচয়ে পর্ষদে থাকার সুযোগ নিতে না পারেন, সে জন্য ‘পরিবার’-এর সংজ্ঞা বিস্তৃত করার প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তখন গভর্নর ছিলেন আহসান এইচ মনসুর।
বিদ্যমান আইনে পরিবারের সদস্য বলতে কোনো ব্যক্তির স্ত্রী/স্বামী, পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা, ভাই, বোন এবং ওই ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিকে বোঝানো হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভাবি, ভগ্নিপতি, শ্বশুর-শাশুড়ি, শ্যালক-শ্যালিকা (স্ত্রীর ক্ষেত্রে দেবর-ননদ) এবং ওই ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদেরও পরিবারের সংজ্ঞায় যোগ করার কথা বলা হয়েছিল।
বিএবি ‘পরিবার’-এর সংজ্ঞা শুধু স্বামী-স্ত্রী ও নির্ভরশীলদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পক্ষে। সংগঠনটি উদাহরণ দিয়ে বলেছে, ভারতের আইনে পরিবার বলতে স্বামী-স্ত্রী বা হিন্দু অবিভক্ত পরিবারকে বোঝানো হয়। পাকিস্তানে তা স্বামী-স্ত্রী, নির্ভরশীল সরাসরি বংশধর ও নির্ভরশীল ভাই-বোন। শ্রীলঙ্কায় পরিবার বলতে শুধু স্বামী-স্ত্রী বা নির্ভরশীল সন্তানকে বোঝানো হয়।
১৯৯৬ সালে অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের নেতৃত্বাধীন ব্যাংক সংস্কার কমিটির প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছিল যে একই পরিবারের একাধিক সদস্য পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হতে পারবেন না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গত রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, সুশাসনকে অগ্রাধিকার দিয়ে ব্যাংকের পর্ষদে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ কমানো, স্বতন্ত্র পরিচালক বৃদ্ধি, পরিচালকদের মেয়াদ কমানোসহ বেশ কিছু বিষয়ে আন্তর্জাতিক চর্চা অনুসরণ করে খসড়াটি করা হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে সরকার সরে আসছে, যা হতাশাজনক। অর্থাৎ যেই লাউ সেই কদু। তিনি বলেন, ‘পরিচালকদের প্রবণতা হচ্ছে “আমার ব্যাংক”, “আমাদের পরিবারের ব্যাংক” ইত্যাদি। আইন করে এ ধরনের অশুভ মানসিকতা থেকে পরিচালকদের সরিয়ে আনা সরকারের দায়িত্ব বলে মনে করি।’