• বৃহস্পতি. অক্টো. 15th, 2026

বিদেশ ভ্রমণে ১৮ হাজার ডলার খরচের অনুমতির পরও ব্যয়ের সুযোগ সীমিত

Bytrendnews

অক্টো. 15, 2026


বিদেশ ভ্রমণে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সীমা বছরে ১২ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১৮ হাজার ডলার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এটি একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। এতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু, সাধারণ ও প্রয়োজনীয় খরচে সেই অর্থ যদি ব্যবহার করা না-ই যায়, বার্ষিক সীমা বাড়িয়ে খুব বেশি একটা লাভ নেই।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে পরিবার নিয়ে ভ্রমণের সময় আমাকে এ অসঙ্গতির মধ্যে পড়তে হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের জন্য নিজের, স্ত্রীর ও সন্তানের উড়োজাহাজের টিকিট কিনতে হয়েছিল আমাকে। খরচ সাশ্রয়ে অন্য অনেক ভ্রমণকারীর মতো আমিও কম দামের টিকিট খুঁজছিলাম। কিন্তু তিনজনের টিকিটের মোট দাম ৩০০ ডলারের বেশি হওয়ায় অনলাইনে লেনদেনটি সম্পন্ন করতে পারিনি। কারণ, এটি আন্তর্জাতিক কার্ডে অনলাইন লেনদেনের নির্ধারিত সীমার বাইরে।

খরচের অনুমোদিত সীমার মধ্যে থাকা সত্ত্বেও পরিবার নিয়ে ভ্রমণে প্রয়োজনীয় একটি সাধারণ কাজে আমি এই টাকা ব্যয় করতে পারিনি।

মেয়েকে নিয়ে রাত ১২টার দিকে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সমস্যাটি আরও প্রকট হয়। আমার সামনে দুটি বিকল্প ছিল—বিমানবন্দরের ব্যয়বহুল ট্যাক্সি নেওয়া অথবা উবারের মতো অ্যাপভিত্তিক সস্তা পরিবহন সেবা ব্যবহার করা।

কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাংক থেকে ইস্যু করা কার্ড দিয়ে আমি উবারের ভাড়া পরিশোধ করতে পারিনি।

দীর্ঘ ভ্রমণে ক্লান্ত মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে আমার সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না। শেষ পর্যন্ত বেশি ভাড়ার ট্যাক্সিই নিতে হয়। এতে উবারে যাতায়াতের সম্ভাব্য খরচের দ্বিগুণের বেশি ব্যয় হয়।

পরদিন সকালে নিউইয়র্কে বসবাসরত এক বন্ধুকে বলি তার ক্রেডিট কার্ড যেন আমার উবার অ্যাকাউন্টে যুক্ত করে দেন। বৈধভাবে বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি ও পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা থাকা সত্ত্বেও সাধারণ যাতায়াতের খরচ মেটাতে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া একজনকে অন্যের বিদেশি কার্ডের ওপর নির্ভর করতে হবে কেন?

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক কার্ড দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু উড়োজাহাজের টিকিট কেনার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। তবে ভ্রমণকারীরা সব সময় সরাসরি এয়ারলাইনসের ওয়েবসাইট থেকে টিকিট কেনেন না। কম দামে টিকিট পেতে অনেকেই ট্রিপ ডটকমের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন কিংবা স্কাইস্ক্যানারের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থার ভাড়া তুলনা করেন।

হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা দেয়। অনেক সময় হোটেলের নিজস্ব ওয়েবসাইটের চেয়ে বুকিং ডটকম বা আগোডার মতো প্ল্যাটফর্মে সাশ্রয় বেশি হয়।

সরাসরি কোনো সেবাদাতাকে অর্থ পরিশোধের অনুমতি দেওয়াটা ইতিবাচক হলেও, বিভিন্ন সেবায় মধ্যস্থতাকারী প্ল্যাটফর্মে পেমেন্ট করতে না পারায় দিনশেষে ভ্রমণের খরচ বেড়েই যায়।

এছাড়া বৈধ কার্ড ব্যবহার কিংবা অনলাইন লেনদেন করতে বারবার ব্যর্থ হলে, বাধ্য হয়ে ভ্রমণকারীরা বেশি পরিমাণে নগদ অর্থ সঙ্গে রাখতে কিংবা অনানুষ্ঠানিক বিকল্প মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের চেষ্টা করতে পারেন। এতে আর্থিক লেনদেনের আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা সুরক্ষিত হওয়ার পরিবর্তে আরও দুর্বল হয়।

অবশ্যই বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখা এবং এর অপব্যবহার ঠেকানো জরুরি। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই বিধিনিষেধ আরোপ করা উচিত। ব্যাংকগুলো প্রতিটি লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করে। আর্থিক ও করসংক্রান্ত ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়ও ক্রমে বাড়ছে। ফলে নিয়মিত ভ্রমণ ব্যয় আটকে না দিয়েও সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত ও সেগুলোর তদন্ত করা সম্ভব।

এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত একক লেনদেনের সীমা যৌক্তিক পর্যায়ে বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করা। পাশাপাশি প্রয়োজন প্রকৃত ভ্রমণসংক্রান্ত সেবার জন্য স্পষ্ট ছাড়ের ব্যবস্থা করা।

বিদেশে অবস্থানকালে কেনা অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট টিকিট, স্বীকৃত হোটেল বুকিং প্ল্যাটফর্ম, অ্যাপভিত্তিক পরিবহন, ট্রেনের টিকিট ও গাড়ি ভাড়ার খরচ—এ সুবিধার আওতায় রাখা যেতে পারে।

ব্যাংকগুলোকেও এ বিষয়ে অভিন্ন নির্দেশনা দিতে হবে। কোনো সেবাদাতাকে উড়োজাহাজ সংস্থা বা হোটেল হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ না করে মধ্যস্থতাকারী অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে চিহ্নিত করার কারণে যেন বৈধ লেনদেন আটকে না যায়।

মূল বিষয়টি সহজ। রাষ্ট্র যদি একজন ভ্রমণকারীকে নির্দিষ্ট পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তাহলে তাকে সেই অর্থ বৈধ ও শনাক্তযোগ্য ভ্রমণ ব্যয়ে খরচ করার সুযোগও দিতে হবে।

বার্ষিক ভ্রমণ কোটা ১৮ হাজার ডলারে উন্নীত করা অগ্রগতির লক্ষণ।

তবে বিমানবন্দরে, টিকিট বুকিংয়ের ওয়েবসাইটে কিংবা গভীর রাতে সন্তানকে নিয়ে যাতায়াতের সময় এই সুবিধা বাস্তবে কাজে না লাগলে, সেই অগ্রগতি বা সংস্কার অসম্পূর্ণই থেকে যাবে।

লেখক: হেড অব অপারেশনস এবং সিএফও, দ্য ডেইলি স্টার



Source link

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।