
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, কোয়ার্টার লাইফ ক্রাইসিস সাধারণত জীবনের ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এ সময় একজন তরুণ তাঁর জীবনের লক্ষ্য, নিজের যোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগেন। টানা কয়েক জায়গায় ইন্টারভিউ দিয়ে বাদ পড়ার পর অনেকেই নিজের যোগ্যতা নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন। ভাবতে শুরু করেন, ‘আমার কি সত্যিই কোনো যোগ্যতা নেই? আমি কি তবে ভুল সাবজেক্টে পড়লাম?’
এই আত্মবিশ্বাসের অভাব অনেক সময় মারাত্মক আকার ধারণ করে। নিজের অজান্তেই তরুণেরা ‘ইমপোস্টার সিনড্রোম’-এ ভুগতে শুরু করেন। আগের সব অর্জনকে মনে হয় তুচ্ছ, ঘিরে ধরে হতাশা। কিন্তু এই সংকটের দায় কি শুধুই শিক্ষার্থীদের? পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে অবশ্য ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। আমাদের দেশে প্রতিবছর কয়েক লাখ তরুণ উচ্চশিক্ষা শেষ করে চাকরির বাজারে প্রবেশ করছেন, কিন্তু সে অনুপাতে কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। আবার যে পদগুলো ফাঁকা থাকছে, সেখানে নিয়োগকর্তারা খুঁজছেন ‘অভিজ্ঞতা’ এবং ‘সফট স্কিলস’। থিওরি পড়ে পাস করা একজন গ্র্যাজুয়েট যখন হঠাৎ করে করপোরেট দুনিয়ার প্রতিযোগিতায় নামেন, তখন তিনি খেই হারিয়ে ফেলে।
তবে এসব চ্যালেঞ্জ থেকে উত্তরণের কিছু পরামর্শ দিলেন রাউফুন নাহার, ‘জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ের চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করার জন্য তরুণদের শুরু থেকেই দক্ষতা উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। যেমন যোগাযোগ দক্ষতা, ডিজিটাল স্কিল ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা। পড়াশোনার পাশাপাশি ইন্টার্নশিপ, পার্টটাইম কাজ বা স্বেচ্ছাসেবার মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে খুব কাজে আসে। পাশাপাশি নেটওয়ার্কিং বাড়াতে শিক্ষক, সিনিয়র ও পেশাজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।’