
Published :
13 Oct 2026, 12:12 PM
শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও খুনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে কারাগারে রেখেই ভার্চুয়ালি বিচারকাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেয়।
গত ৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন জিয়াউল আহসান।
তার আইনজীবী এক প্রিজন ভ্যানে কেবল তাকে আনার বদলে অন্য আসামিদের সঙ্গে আনা-নেওয়ার আবেদন করেন। ওই দিন ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে বিচারকদের কাছে নিজের বক্তব্যও তুলে ধরেন এই আসামি।
তবে প্রসিকিউশন তার নিরাপত্তার বিষয়ে একমত হলেও অন্য আসামিদের সঙ্গে একই ভ্যানে আনার আবেদনে আপত্তি জানায়।
তাদের যুক্তি ছিল, জিয়াউল আহসানের ওপর কোনো হামলা হলে বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার সঙ্গে থাকা অন্য আসামিরাও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বেন। এ কারণে তাকে ট্রাইব্যুনালে না এনে কারাগারে রেখেই ভার্চুয়ালি শুনানির আবেদন করে প্রসিকিউশন।
মঙ্গলবার সেই আবেদন মঞ্জুর হওয়ার কথা জানিয়ে ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি গাজী এম এইচ তামীম বলেন, “আজকে থেকে জিয়াউল আহসানকে জেলখানায় রেখে ভার্চুয়ালি ট্রাইব্যুনালে অ্যাপিয়ার করে মামলা পরিচালিত হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি।”
কারাগার ও ট্রাইব্যুনালে অডিও-ভিজ্যুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে বিচারকাজ পরিচালনার ব্যবস্থা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এই ব্যবস্থায় কারাগারে থেকেই জিয়াউল আহসান ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও আইনজীবীদের বক্তব্য শুনতে পারবেন। কোভিডকালেও ভার্চুয়ালি বিচারকাজ চলেছে।”
গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে জিয়াউল আহসানকে প্রিজন ভ্যানে একাই আনা হচ্ছিল।
সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুম-খুনের অভিযোগের পাশাপাশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনেরও মামলা রয়েছে।